ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে নাদিয়া আক্তার (১৮) নামে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে গফরগাঁও থানায় ওসি তদন্ত মশিউর রহমান মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এর আগে বুধবার রাতে উপজেলার গফরগাঁও ইউনিয়নের হাতিখলা গ্রামের গৃহবধূর স্বামী কাওছার মিয়ার বাড়ি থেকে ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর থেকে কাওছার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা পলাতক।
নিহত নাদিয়া আক্তার দক্ষিণ গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের বাগবাড়ি গ্রামের নাজিম উদ্দিনের মেয়ে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত এক বছর পূর্বে হাতিখলা গ্রামের নূর চানের ছেলে কাওসারের সাথে নাদিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক নানা বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ চলছিল।
গতকাল বুধবার রাত ৮টার দিকে মেয়ের মাকে নিহতের জামাই কাওছার মিয়ার এক আত্মীয় তাঁর মুঠোফোনে ফোন করে নাদিয়ার মৃত্যুর খবর দেন। পরে রাত ৯টা দিকে নাদিয়ার স্বজনেরা শ্বশুরবাড়ি গিয়ে মরদেহ পড়ে থাকতে দেখতে পান।
তখন ওই বাড়িতে নাদিয়ার স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির কাউকে বাড়িতে পাননি তারা। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
তবে পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিকভাবে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।এই ঘটনা নাদিয়ার মা বাদী হয়ে থানা একটি অভিযোগ দিয়েছেন।
নিহতের মা ময়ফুলের দাবি তার মেয়ে নাদিয়াকে হত্যা করা হয়েছে। যদি হত্যা না করবে তাহলে মেয়ে জামাইসহ বাড়ির অন্য সদস্যরাও কেন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেল।
নিহত নাদিয়া তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন বলে জানান তার মা ময়ফুল বানু।
গফরগাঁও থানার ওসি (তদন্ত) মশিউর রহমান বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। নিহত গৃহবধূর মা বাদী হয়ে অভিযোগ দিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
