ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর জাতীয় দলে ফেরা নিয়ে আবারও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন তাঁর বড় বোন এলমা আভেইরো। তাঁর বক্তব্যে ইঙ্গিত মিলেছে, পর্তুগাল জাতীয় দলে রোনালদোর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
গত আন্তর্জাতিক বিরতিতে হঠাৎ পর্তুগাল দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যান রোনালদো। নরওয়ের বিপক্ষে পর্তুগাল ২-১ গোলে জিতেছিল। ওই ম্যাচে বদলি খেলোয়াড়দের বেঞ্চে বসে ছিলেন তিনি। এরপর কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ আরও গভীর হয়।
পরে পর্তুগাল অধিনায়ক প্রায় দুই হাজার শব্দের একটি বিবৃতি দিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। সেখানে তিনি জাতীয় দলে ফেরার আগ্রহের কথাও স্পষ্ট করেন। তবে তাঁর বোনের সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই প্রত্যাবর্তন নিয়ে নতুন করে সংশয় দেখা দিয়েছে।
বুধবার একটি বই প্রকাশের অনুষ্ঠানে কথা বলেন ৫৩ বছর বয়সী এলমা। তিনি জানান, ৪১ বছর বয়সী ছোট ভাই এখন কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওই অনুষ্ঠানে কোচ জেসুসও উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত বক্তব্য অনুযায়ী, এলমা বলেন, ‘তার না ফেরার সম্ভাবনা ফেরার সম্ভাবনার চেয়ে বেশি। আমার মনে হয় রোনালদো ও জেসুস, দুজনেই কষ্টে আছে। এই পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে তারা গেছে, আমি নই, আর আমি আমার ভাইয়ের পক্ষ হয়ে কথা বলছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয় বিষয়টি একটি বন্ধ গলিতে পৌঁছে গেছে, এখন দেখা যাক কী হয়। আমি জানি না, ব্যাপারটি অত্যন্ত জটিল। যখন আমরা বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হই, তখন আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া খুব কঠিন হয়ে যায়।’
এলমার মতে, পর্তুগালের ফুটবল কর্মকর্তাদের রোনালদোর অবদানের জন্য আরও কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় দলের হয়ে তিনি অনেক কিছু দিয়েছেন। অথচ ভক্তরা তাঁর অতীতের অর্জন ভুলে যাচ্ছেন বলে দুঃখ প্রকাশ করেন এলমা।
তিনি বলেন, ‘আমার খারাপ লাগছে, কারণ দুঃখজনকভাবে পর্তুগালের মানুষ আগে যা অর্জিত হয়েছে তা ভুলে যায়, আর ভাবে যে এখন বিষয়গুলো অন্যভাবে চলা উচিত।’
এলমা আরও বলেন, ‘আমি কথা খুঁজে পাচ্ছি না, কারণ আমার ভাইকে এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে দেখা খুবই কষ্টের। যাদের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটা উচিত নয়, সে তাদের একজন।’
এলমার বক্তব্যে রোনালদোর পরিবারের উদ্বেগ আরও স্পষ্ট হয়েছে। এর আগে রোনালদোর মা জানিয়েছিলেন, ছেলে হঠাৎ দলের ক্যাম্প ছেড়ে চলে যাওয়ার পর তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন।
এদিকে, রোনালদোর ক্যাম্প ছাড়ার পর পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনও বিবৃতি দিয়েছিল। সেখানে জানানো হয়, তাঁর ওপর স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে।
তবে আল নাসরের এই স্ট্রাইকার আগামী নভেম্বরের ম্যাচগুলোর জন্য পর্তুগাল দলে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য অবস্থায় থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
উয়েফা নেশনস লিগে পর্তুগাল ডেনমার্ক ও নরওয়েকে হারিয়ে দুটি জয় পেয়েছে। রোনালদো বাড়িতে বসেই ম্যাচ দুটি দেখেছেন। এসব ঘটনায় কোচিং স্টাফের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক এবং জাতীয় দলে ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রোনালদো আবার পর্তুগাল দলে ফিরবেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। সামনের দিনগুলোতে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে। তবে তাঁর বোনের বক্তব্য অনুযায়ী, চলমান সংকট কাটিয়ে আগের সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা সহজ হবে না।
এমএমটি
-20261016074344.jpg&w=1440&q=75)