দ্যা নিউজ নারায়ণগঞ্জ ডটকম | স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ১০:১১ পিএম
যানজট নারায়ণগঞ্জ শহরের নিত্যদিনের সঙ্গী। সড়কে যানবাহনের চাপ, অবৈধ পার্কিং, অটোরিকশার জটলা আর মোড়ে মোড়ে দীর্ঘ অপেক্ষা এসব ভোগান্তি নিয়েই প্রতিদিন চলাচল করেন নগরবাসী। ছোট্ট এই শহরে যানজট নিরসনে বিভিন্ন সময়ে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পরিস্থিতির আজও স্থায়ী সমাধান মেলেনি। তবে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি বা ভিআইপিদের আগমন ঘটলেই বদলে যায় শহরের চিত্র। সড়ক থাকে ফাঁকা, যান চলাচল থাকে স্বাভাবিক, অলিগলিতেও দেখা যায় পরিচ্ছন্ন পরিবেশ। প্রশ্ন উঠেছে, বিশেষ ব্যক্তিদের আগমনে সম্ভব হলে সাধারণ দিনের ভোগান্তি কমাতে নিয়মিত উদ্যোগ নেওয়া যায় না কেনো তাহলে।
গত ১৭ অক্টোবর নারায়ণগঞ্জ শহরে এমন চিত্রই দেখা গেছে। সকাল ১১টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকার পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে আসেন এসআরবি-১১-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মাসুদ পারভেজ। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর দেওভোগ আখড়ায় অবস্থিত বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন বিজিবি নারায়ণগঞ্জের অধিনায়ক লে. কর্নেল মির্জা মোহাম্মদ আরাফাত। বিকেল পাঁচটার দিকে শহরের আমলাপাড়া পূজামণ্ডপে আসেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মঈন খান। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি আবুল কালাম, নাসিক প্রশাসক সাখাওয়াত হোসেন খানসহ প্রমুখ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। এক দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন ঘিরে শহরের বিভিন্ন সড়কে ছিল তুলনামূলক স্বাভাবিক পরিবেশ। যানজটের পরিচিত ভোগান্তি ছাড়াই চলাচল করতে পেরে স্বস্তি পান সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।
নগরবাসীর কাছে এমন দৃশ্য নতুন নয়। অতীতেও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কিংবা রাজনৈতিক নেতাদের সফরকে কেন্দ্র করে শহরের সড়কে শৃঙ্খলা ফিরতে দেখা গেছে। সংশ্লিষ্ট সড়কে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ পার্কিং সরানো এবং ফুটপাত ও সড়কের ওপর থাকা প্রতিবন্ধকতা সরিয়ে রাখার ফলে স্বাভাবিক হয় চলাচল। অথচ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফর শেষ হলে অনেক ক্ষেত্রেই আবার ফিরে আসে আগের পরিস্থিতি।
শহরের যানজট কমাতে সম্প্রতি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন (নাসিক)। সিটি করপোরেশনের অনুমোদনহীন অটোরিকশা শহরে প্রবেশ করতে না দেওয়ার পদক্ষেপে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমেছে বলে সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণ। তবে শুধু অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ করেই দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয় বলে মনে করছেন নগরবাসী। তাঁদের মতে, সড়ক দখলমুক্ত রাখা, নির্দিষ্ট স্থানে যানবাহন থামানো, ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘেœ হাঁটার সুযোগ তৈরি এবং ট্রাফিক আইন কার্যকর করার মতো বিষয়গুলোতেও নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন।
শহরের বিভিন্ন সড়কে দিনের অধিকাংশ সময় যানজটের কারণে যাত্রীদের গন্তব্যে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়। বিশেষ করে কর্মঘণ্টায় যানবাহনের ধীরগতি, সড়কের পাশে গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখা এবং যেখানে সেখানে যাত্রী ওঠানামার কারণে চলাচলে বিঘœ ঘটে। এতে কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও রোগী বহনকারী যানবাহনকে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যানজটে জ্বালানি খরচ বাড়ার পাশাপাশি নষ্ট হয় মূল্যবান সময়ও।
নগরবাসীর অভিযোগ, ভিআইপিদের আগমনের সময় যেসব সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা সম্ভব হয়, সাধারণ দিনেও সেখানে একই ব্যবস্থা কার্যকর রাখা দরকার। শুধু বিশেষ কোনো ব্যক্তির সফরকে কেন্দ্র করে নয়, প্রতিদিনের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ধারাবাহিকতা থাকা জরুরি। এ ক্ষেত্রে ট্রাফিক পুলিশ, সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
এর আগেও আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের আগমনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জ শহরের যানজট নিয়ন্ত্রণে এমন তৎপরতা দেখা যেত বলে জানান স্থানীয়রা। তাঁদের মতে, সাময়িক ব্যবস্থাপনায় যানজট কমানো সম্ভব হলে নিয়মিত তদারকি ও পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।
নারায়ণগঞ্জের যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখা, ফুটপাত দখলমুক্ত করা এবং নিয়মিত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী। তাঁদের প্রত্যাশা, কোনো ভিআইপির আগমন নয়, প্রতিদিনই শহরের সড়ক থাকবে চলাচলের উপযোগী। গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সফরের দিন যে স্বস্তি মেলে, সেই স্বাভাবিক পরিবেশই তাঁরা দেখতে চান বছরের প্রতিটি দিন।
