চলছে বিসর্জনের প্রস্তুতিএই সময়
Published on
:
2 min read
এই সময়, হলদিয়া: প্রতিমার বিসর্জনে ফেলে যাওয়া বাঁশ, কাঠ, খড়, ফুল–মালা, কাপড় ইত্যাদি সামগ্রী দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করে নদীর দূষণ ঠেকাতে তৎপর হলো হলদিয়া পুরসভা। মাছ–সহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর বাসের উপযোগী পরিবেশ বজায় রাখতে এই উদ্যোগ বলে পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে।
প্রতি বছরের মতো এ বারও দুর্গাপ্রতিমা বিসর্জনের জন্য হলদিয়া টাউনশিপে হলদি নদীর সপ্তপর্ণী ঘাটকে বেছে নেওয়া হয়। বিসর্জনে যাতে কোনও বিঘ্ন না ধরে সেজন্য রাতে যথাযথ আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছে ঘাটের চারপাশে। নিরাপত্তার জন্য ছিল পুলিশের কড়া নজরদারি। নদীতেও নৌকোয় মেরিন পুলিশের টহলদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিমা নিরঞ্জনের সুবিধার্থে এ বার প্রথম রেল ট্র্যাক তৈরি করা হয়েছে সপ্তপর্ণী ঘাটে। গাড়ি থেকে প্রতিমা নামিয়ে নেন বিসর্জনের কাজে দক্ষ কর্মীরা। এর পরে নদী পর্যন্ত প্রায় ৭০ মিটার লম্বা ট্র্যাকে নিয়ে যাওয়া হয় একের পর এক প্রতিমা। এ ভাবে বুধবার রাত দু'টো পর্যন্ত এই ঘাটে ৩৫টি প্রতিমার বিসর্জন হয়েছে। বাকি সব প্রতিমা স্থানীয় বড় পুকুরে বিসর্জন করা হয়।
তবে পুকুর কিংবা নদীর জল যাতে কোনও ভাবেই দূষিত না হয় সে বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক ছিলেন পুর কর্তৃপক্ষ। হলদিয়ার মহকুমা শাসক তথা পুরসভার প্রশাসক সুরভি সিংলা বলেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষা আমাদের প্রধান কাজ।বিসর্জনের আগে তাই প্রতিমার পুজোর ফুল, বাঁশ, কাঠ, খড় –সহ বিভিন্ন জিনিসপত্র খুলে সরিয়ে রাখা হয়। হলদি নদীর ঘাট–সহ বিসর্জনের সমস্ত জায়গায় একই ভাবে কাজ হয়েছে।’ রাতে নদীর ঘাটের পাশে রাবণ দহনের আয়োজন ছিল। হলদিয়া রিফাইনারির উদ্যোগে এই রাবণ দহনের মূল আকর্ষণ ছিল আতসবাজি। যা দেখতে ভিড় করেছিলেন কয়েক হাজার মানুষ। রিফাইনারির এগজি়কিউটিভ ডিরেক্টর তথা প্ল্যান্ট হেড সুশান্ত কুমার দাস বলেন, ‘প্রতিমা বিসর্জনের দিন রাবণ দহন মানে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির জয়। সেই আনন্দে শামিল হতে চান সবাই। তাই এই আয়োজন।’
অনুষ্ঠানের পরে রাবণ দহনের যাবতীয় ছাই সরিয়ে পরিবেশ সুন্দর রাখতে তৎপর হয়েছে হলদিয়া পুরসভা। দূষণ এমনিতেই হলদিয়া শিল্পতালুকের কাছে একটা বড় সমস্যা। যার জেরে ২০১০ থেকে ২০১৩ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের নির্দেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। দূষণ নিয়ন্ত্রণে নির্দিষ্ট ‘প্যারামিটার’ মেনে চলতে বাধ্য হয় শিল্প সংস্থাগুলি। কিন্তু বাস্তবে তা কতটা ঠিকঠাক ভাবে পালিত হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে ন্যাশনাল ক্লিন এয়ার প্রোগ্রামে পুরসভার উদ্যোগে সবুজায়ন–সহ বেশ কিছু কাজ হয়েছে। এ বার প্রতিমার বিসর্জনে পুরসভার কাজে খুশি পরিবেশ কর্মী থেকে বিজ্ঞান কর্মীরা।
