বাংলাদেশে টেকসই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কেবল উৎপাদন বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়; উৎপাদিত খাবার নিরাপদ ও পুষ্টিকর অবস্থায় ভোক্তার কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং খাদ্য অপচয় রোধ করাও সমান জরুরি। এ প্রেক্ষাপটে খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, রূপান্তর ও সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ দিন দিন অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস ২০২৬’। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (FAO) আহ্বানে বিশ্বজুড়ে পালিত এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছ‘Innovate today. Nourish tomorrow.’ (আজকের উদ্ভাবন, আগামী দিনের পুষ্টি)। প্রতিপাদ্যটিতে আগামী দিনের নিরাপদ ও সুষম খাদ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বিজ্ঞান, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তির ভূমিকার ওপর বিশেষ আলোকপাত করা হয়েছে।
বাংলাদেশে সহজলভ্য ও উচ্চ পুষ্টিমানের অন্যতম প্রধান উৎস দুধ। তবে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামে সমৃদ্ধ এই খাদ্য উপাদানটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার অভাবে দ্রুত পচনশীল। খামার থেকে সংগ্রহের পর পরিবহন, পরিচ্ছন্নতা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের দুর্বলতায় দুধের কোয়ালিটি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে। এই দূরহ সমস্যার কার্যকর সমাধান হিসেবে সামনে এসেছে ‘আলট্রা-হাই টেম্পারেচার’ বা ইউএইচটি (UHT) প্রক্রিয়া।
ইউএইচটি প্রযুক্তিতে দুধকে অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত উপায়ে অন্তত ১৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় মাত্র কয়েক সেকেন্ড গরম করে দ্রুত ঠান্ডা করা হয়, যা দুধে থাকা সব ধরনের ক্ষতিকর জীবাণু ধ্বংস করে। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর ব্যবহৃত হয় ‘অ্যাসেপটিক প্যাকেজিং’ প্রযুক্তি। বিশ্বখ্যাত টেট্রাপ্যাকের (Tetra Pak) ৬ স্তরের বিশেষ মোড়ক দুধকে বাহ্যিক আলো, বাতাস ও অক্সিজেনের প্রভাব থেকে শতভাগ সুরক্ষায় রাখে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, ইউএইচটি প্রযুক্তিতে প্রক্রিয়াজাত ও প্যাকেটজাত দুধ সাধারণ ঘরেই (কোল্ড চেইন বা ফ্রিজ ছাড়া) দীর্ঘ দিন ভালো থাকে। ফলে দেশের দুর্গম অঞ্চলেও দুগ্ধজাত পুষ্টি সরবরাহ করা সহজ ও সাশ্রয়ী হচ্ছে, যা খাদ্য অপচয় কমাতেও কার্যকর অবদান রাখছে। তবে খামারে পশুর স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে ভোক্তার ব্যবহারিক সচেতনতা—উৎপাদন ও সরবরাহের প্রতিটি ধাপ সুরক্ষিত রাখার ওপর তাগিদ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ব খাদ্য দিবসে সুশীল সমাজ ও প্রযুক্তিবিদদের প্রত্যাশা, খাদ্য শৃঙ্খলের সর্বস্তরে আধুনিক উদ্ভাবনের ইতিবাচক ব্যবহারের মাধ্যমেই বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ, সুষম ও টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে।
