ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে অলিপ বিশ্বাস নামে এক এনজিও কর্মকর্তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ততা, ঋণগ্রস্ততা ও আর্থিক সংকটের তথ্য পেয়েছে পুলিশ। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে নিজের মৃত্যুর জন্য নিজেকেই দায়ী করেছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার ময়েনদিয়া বাজারসংলগ্ন শ্রীনগর গ্রামের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত অলিপ বিশ্বাস মাগুরার শালিখা উপজেলার সোনাডাঙ্গা গ্রামের মিলন বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জয়পাশা এলাকায় ব্র্যাকের একটি শাখায় হিসাব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় ১০ মাস আগে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। ময়েনদিয়া বাজারসংলগ্ন বাড়িটিতে ভাড়া থাকতেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একই বাড়িতে ব্র্যাকের আরেক কর্মীর সঙ্গে থাকতেন অলিপ। ওই সহকর্মী ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ায় ঘটনার সময় বাসায় একাই ছিলেন তিনি। শনিবার সকালে সহকর্মী ফিরে এসে ঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। ডাকাডাকি করেও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে অলিপকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা চিরকুটে অলিপ লেখেন, তাঁর মৃত্যুর জন্য তিনি নিজেই দায়ী। বোনের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি লেখেন, পরিবারের কথা না শোনার কারণে তাঁকে এ পরিণতি বেছে নিতে হয়েছে। চিরকুটে বাবা-মায়ের কথা মনে পড়ার পাশাপাশি জীবনের পরাজয় মেনে নিতে না পারার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী হারুন মাতুব্বর জানান, অলিপ অনলাইন জুয়ায় জড়িত ছিলেন বলে তিনি শুনেছেন। এতে দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।
বোয়ালমারী থানার পরিদর্শক মো. সাইদুর রহমান বলেন, অলিপের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। সহকর্মী ও বন্ধুদের কাছ থেকেও তিনি বিভিন্ন সমস্যার কথা বলে টাকা ধার নিয়েছিলেন। এ ছাড়া অফিসের কিছু টাকা খরচ করে ফেলার তথ্যও প্রাথমিকভাবে পাওয়া গেছে।
ফরিদপুর ব্র্যাকের রিজিওনাল অ্যাকাউন্টস ম্যানেজার জয়ন্ত হালদার বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। অলিপের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। এ ঘটনায় তাঁরা শোকাহত।
বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, অলিপের চিরকুট ও মোবাইল ফোনে অনলাইন জুয়ায় সম্পৃক্ততার কিছু প্রমাণ পাওয়া গেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
বিআলো/শিলি