আজ জাতীয় শাশুড়ি দিবস। অক্টোবর মাসের চতুর্থ রোববার দিবসটি পালন করা হয়। পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে শাশুড়িদের অবদান, ভালোবাসা ও ত্যাগকে সম্মান জানানোই এই দিনের মূল উদ্দেশ্য।
মা দিবসের মতোই শাশুড়ি দিবসও অনেকের কাছে পরিবারের আরেকজন মাকে ভালোবাসা জানানোর উপলক্ষ। সন্তানদের সংসারে সহযোগিতা করা, পারিবারিক সংকটে পাশে থাকা, নাতি-নাতনিদের দেখাশোনা করা এবং অভিজ্ঞতা থেকে পরামর্শ দেওয়ার মতো নানা ভূমিকা পালন করেন অনেক শাশুড়ি। তাঁদের এই অবদান পরিবারের বন্ধন দৃঢ় করতে সাহায্য করে।
তবে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর সম্পর্ক সব সময় সহজ হয় না। নতুন পরিবারের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া, পারিবারিক রীতিনীতির পার্থক্য এবং সন্তানের জীবনে নতুন মানুষের উপস্থিতি ঘিরে কখনো কখনো ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়। সন্তানের বিয়ের পর কোনো কোনো মায়ের মনে নিজের গুরুত্ব কমে যাওয়ার ভয়ও কাজ করতে পারে।
অন্যদিকে, কিছু পরিবারে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর সম্পর্ক হয়ে ওঠে মা-মেয়ের মতো। ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমে তাঁরা গড়ে তোলেন সুন্দর পারিবারিক বন্ধন।
সমাজবিজ্ঞানী কীরা অ্যালেনডর্ফের একটি গবেষণায় ভারতের একটি গ্রামের ২২টি পরিবারের ৪৬ জন সদস্যের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। সেখানে শাশুড়ি ও পুত্রবধূর সম্পর্কে ঘনিষ্ঠতার পাশাপাশি দ্বন্দ্ব ও যোগাযোগের অভাবের চিত্রও উঠে আসে। অর্থাৎ, এই সম্পর্কের অভিজ্ঞতা সব পরিবারের ক্ষেত্রে এক রকম নয়।
বিশেষজ্ঞদের আলোচনায়ও পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্মানের গুরুত্ব উঠে আসে। শাশুড়ির অভিজ্ঞতাকে মূল্য দেওয়া যেমন জরুরি, তেমনি নতুন দম্পতির ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ও স্বাধীনতাকেও সম্মান করা প্রয়োজন।
শাশুড়ি দিবসে তাই শুধু শুভেচ্ছা জানানোই নয়, সম্পর্কের দূরত্ব কমিয়ে ভালোবাসা ও সম্মানের বন্ধন আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকারও হতে পারে দিনের বিশেষ বার্তা।
