প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত (বাঁ দিকে) এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী (ডান দিকে)ছবি: X
Published on
:
2 min read
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও ‘ভোট চুরি’ ইস্যুতে সুপ্রিম কোর্ট অভিযানকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দিল্লি। সোমবার এই আবহেই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তর ইস্তফার দাবি জানিয়ে X-এ পোস্ট করল কেরালা কংগ্রেস। তার পর থেকেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। কিছুক্ষণের মধ্যেই অবশ্য সেই পোস্ট ডিলিট করে দেওয়া হয়। কিন্তু ততক্ষণে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। দিল্লিতে এ দিনের বিক্ষোভ এবং বিধিনিষেধ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেছিলেন, ‘এটা আইনশৃঙ্খলার বিষয়। আমার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না।’ এর পরেই প্রধান বিচারপতিকে কটাক্ষ করে কেরালা কংগ্রেস X হ্যান্ডলে লেখে, ‘আইনশৃঙ্খলা যদি আপনার এক্তিয়ারের মধ্যে না পড়ে তা হলে এখনই ইস্তফা দিন। পরিস্থিতি সামলাতে পারবেন, এমন কাউকে আমরা খুঁজে নেব।’
মুহূর্তের মধ্যে পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। বিতর্ক দানা বাঁধে। কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু বলেন, ‘আগেই বলেছিলাম, কংগ্রেস এ বার বিচারবিভাগকে নিশানা করবে। ভারতের সমস্ত সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ওরা ধ্বংস করতে চায়।’ এখানেই থামেননি রিজিজু। দেশপ্রেমিকদের একজোট হওয়ার বার্তা দিয়ে লেখেন, ‘দেশবিরোধী সমস্ত গোষ্ঠী একজোট হচ্ছে। দেশপ্রেমিক ভারতীয়রাও একজোট হবেন।’
ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেটস-অন-রেকর্ড অ্যাসোসিয়েশনও (SCAORA)। সংগঠনের বক্তব্য, এই ধরনের মন্তব্য বিচারব্যবস্থার উপর সাধারণ মানুষের আস্থায় আঘাত হানার শামিল। একটি বিবৃতিতে তারা বলেছে, ‘বিচারবিভাগের কাজকর্ম নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে তা আইনি ও সাংবিধানিক পদ্ধতিতে জানানো উচিত। প্রকাশ্যে বিচারবিভাগের প্রধানের পদত্যাগ দাবি করলে সেই পদের মর্যাদা ও প্রতিষ্ঠানের উপর জনসাধারণের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
বিতর্ক শুরু হতেই পোস্ট ডিলিট করে দেয় কংগ্রেস। কংগ্রেসের কেরালা শাখার সভাপতি সানি জোসেফ জানিয়েছেন, দলের সরকারি X হ্যান্ডল থেকে প্রধান বিচারপতিকে নিশানা করে যে বিতর্কিত পোস্ট করা হয়েছিল, তার জন্য দায়ী ব্যক্তিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেরালা প্রদেশ কংগ্রেস কমিটিকে না জানিয়েই পোস্টটি করা হয়েছিল বলে দাবি তাঁর। বিচারবিভাগের নিরপেক্ষতা নিয়ে কংগ্রেসের কোনও সংশয় নেই বলেও স্পষ্ট করেছেন জোসেফ।
