
ভারতে ডেটা সেন্টার স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল বিনিয়োগের মধ্যে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীদের বিরোধিতার মুখে এ খাতে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার।
বুধবার (২১ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে ডেটা সেন্টার স্থাপনে কয়েক বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে এসব স্থাপনায় পানি, বিদ্যুৎ ও জমির ব্যবহার নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ বাড়ছে। ডেটা সেন্টারগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে সাধারণ গ্রাহকেরা সংকটে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত ১৪ অক্টোবর ভারতের ইলেকট্রনিকস ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতিন প্রসাদা ডেটা সেন্টার খাতের জন্য নীতিমালা প্রণয়নের ঘোষণা দেন। সরকারের লক্ষ্য, এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানির প্রাপ্যতা ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মুম্বাইয়ের কাছে অ্যামাজনের ডেটা সেন্টার প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। অন্যদিকে, অন্ধ্র প্রদেশের বিশাখাপত্তনমে গুগলের ডেটা সেন্টার প্রকল্পের অনুমোদন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছেন পরিবেশকর্মীরা। গুগলের প্রকল্পটিতে ১৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে।
অ্যামাজন জানিয়েছে, তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং দায়িত্বশীল প্রতিবেশী হিসেবে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তাদের ডেটা সেন্টারে শীতলীকরণের জন্য পানি ব্যবহার করা হয় না এবং এসব স্থাপনা স্থানীয় বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী বিতরণ নেটওয়ার্ক থেকে বিদ্যুৎ নেয় না। এ বিষয়ে গুগলের পক্ষ থেকে সিএনবিসির মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেওয়া হয়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতিমালায় ডেটা সেন্টার স্থাপনের অনুমোদনপ্রক্রিয়া আরও স্পষ্ট ও সহজ করা হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পানি ও অন্যান্য অবকাঠামোর সক্ষমতা যাচাই করে প্রকল্পের স্থান নির্ধারণে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
ভারতের সরকারি নীতিনির্ধারণী সংস্থা নীতি আয়োগও সম্প্রতি ডেটা সেন্টারের টেকসই উন্নয়ন মূল্যায়নে একটি কাঠামো প্রকাশ করেছে। এতে বিদ্যুৎ গ্রিডের সক্ষমতা, পানির প্রাপ্যতা এবং স্থানীয় সুরক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতিমালার মাধ্যমে একদিকে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে স্থানীয় সম্পদের ওপর চাপ ও পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করতে চায় ভারত সরকার।
The post পানি-বিদ্যুৎ সংকটের শঙ্কা, ভারতে ডেটা সেন্টার নীতিমালা আনছে সরকার appeared first on অর্থসূচক.
