সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। এর আগে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা চালায় তারা।
হুথিরা বলেছে, সৌদি আরবের যেসব স্থাপনা হামলার লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে, সেগুলো বৈধ লক্ষ্যবস্তু। ইয়েমেনে সৌদি বাহিনীর হামলার জবাব হিসেবেই তারা এসব আক্রমণ চালাচ্ছে বলে দাবি করেছে গোষ্ঠীটি।
বিজ্ঞাপন
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের যুদ্ধ নতুন করে তীব্র হয়েছে। এর মধ্যে গত এক সপ্তাহে সৌদি আরবে হুথিদের হামলার পরিধিও বেড়েছে। গত শনিবার রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত হন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তিন ব্যক্তি জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে আরামকোর সদর দপ্তরে হামলার পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ভবনটির কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়েছিল বলে তাদের দাবি। তবে সৌদি আরবের জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, হামলায় সীমিত পরিসরে আগুন লেগেছিল।
বিজ্ঞাপন
সূত্রগুলোর দুজনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলার পরও আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। কর্মীরা বাড়ি থেকে কাজ করছিলেন। এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্য চাওয়ার অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি আরামকো।
রিয়াদমুখী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, হুথিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রিয়াদের দিকে যাওয়ার পথে প্রতিহত করা হয়েছে। একই সময়ে সৌদি রাজধানীতে কয়েকটি বিকট শব্দ শোনা যায়।
বিজ্ঞাপন
এর আগে বুধবার রিয়াদে সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি কর্তৃপক্ষ। পরে সতর্কতা তুলে নেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। তবে বিকট শব্দের কারণ কী, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষও কোনো মন্তব্য করেনি।
বিকট শব্দের কারণ জানতে চেয়ে সৌদি সরকারের গণমাধ্যম দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
বিজ্ঞাপন
সৌদির অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় উদ্বেগ
সৌদি আরবে ধারাবাহিক হামলা দেশটির যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনার জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অর্থনীতিতে বৈচিত্র্য আনা এবং সৌদি আরবকে নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁর পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য।
হুথিদের দাবি, ইয়েমেনের যুদ্ধে সৌদি আরব দেশটির সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়ায় তারা পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। গত মাসে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের মধ্যে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় আক্রমণ জোরদার করেছে গোষ্ঠীটি।
বিজ্ঞাপন
আরামকোর সদর দপ্তরে হামলা এবং সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় আরও আক্রমণের হুমকিতে দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনের যুদ্ধকে আরও বিস্তৃত ও জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
এমএসএম
ফলো করুন
পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন jagofeature@gmail.com ঠিকানায়।
