ফাইনালে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের শিরোপা জিতেছে আফগানিস্তান। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে আফগানরা।
৯৩ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি। এর মধ্য দিয়ে তিন দলের টুর্নামেন্টে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করল আফগানিস্তান। বাংলাদেশের বিদায় হয়েছিল আগেই।
ফাইনালে আগে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণে মাত্র ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। জবাবে রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের দারুণ সূচনার পর রহমত শাহকে নিয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন জাদরান।
১৭০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন আফগানিস্তানের দুই ওপেনার রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরান। মাত্র ৫৮ বলে ৬৮ রানের জুটি গড়েন তারা। ৩১ বলে ৩৬ রান করে গুরবাজ ফিরলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি।
এরপর সেদিকুল্লাহ অটলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৬ রান করে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ১২ রানের ব্যবধানে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে আফগানিস্তান। দুটি উইকেটই নেন জিম্বাবুয়ের বাঁহাতি পেসার নিউম্যান নিয়ামহুরি।
তবে এরপর আর কোনো বিপদ হতে দেননি ইব্রাহিম জাদরান ও রহমত শাহ। দুজনের ব্যাটে জয়ের পথে এগিয়ে যায় আফগানিস্তান। রহমত শাহ ৪৩ রান করে আউট হন, তখন জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৮ রান। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ৭০ রানের ইনিংস খেলে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন জাদরান। তার দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৩ উইকেট হারিয়েই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় আফগানিস্তান।
এর আগে, টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক সিকান্দার রাজা। তবে আফগান বোলারদের নিয়ন্ত্রিত আক্রমণে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে দলটি। ৪৩.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৬৯ রান।
দলীয় ২৬ রানেই তিন উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। তাদিওয়ানাশে মারুমানি ১২, ব্রায়ান বেনেট ৯ ও তাফাদজওয়া সিগা ৪ রান করে বিদায় নেন। শুরুতেই ধাক্কা খেয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন সিকান্দার রাজা ও ব্রেন্ডন টেলর। তবে ৭ রান করে রানআউট হন টেলর।
এরপর রাজার সঙ্গে জুটি গড়েন রায়ান বার্ল। দুজনের জুটিতে আসে ৬০ রান। এই জুটিতেই ফিফটি তুলে নেন রাজা। তবে ৩১ রান করে বার্ল আউট হলে আবারও ছন্দ হারায় জিম্বাবুয়ে। ১১৫ রানে পঞ্চম উইকেট হারানোর পর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে দলটি।
ওয়েসলি মাধেভেরে ৩, ব্র্যাড ইভান্স ১ ও নিউম্যান নিয়ামহুরি কোনো রান না করেই ফিরে যান। একপ্রান্ত আগলে রেখে লড়াই চালিয়ে যান রাজা। তবে ব্যক্তিগত ৬৮ এবং দলীয় ১৩৭ রানে রশিদ খানের বলে আউট হন তিনি। তার ইনিংসে ছিল তিনটি চার ও তিনটি ছক্কা।
রাজার বিদায়ের পর জিম্বাবুয়ের বড় সংগ্রহের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে ব্লেসিং মুজারাবানি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা দশম উইকেটে ৩২ রান যোগ করেন। ওয়েলিংটন ৮ রান করে আউট হলে ১৬৯ রানেই গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। ১৭ রান করে অপরাজিত থাকেন মুজারাবানি।
এদিকে আফগানিস্তানের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন রশিদ খান। তিনি শিকার করেন তিন উইকেট। এছাড়া ফজলহক ফারুকি, মোহাম্মদ নবি ও বিলাল সামি দুটি করে উইকেট নেন। আজমতউল্লাহ ওমরজাই পান একটি উইকেট।
দাপুটে এই জয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হলো আফগানিস্তান। ফাইনালে ব্যাটে-বলে আধিপত্য দেখিয়ে শিরোপা জয়ের মাধ্যমে টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের ধারাবাহিকতারও প্রমাণ দিল দলটি।
