আজকাল ওয়েবডেস্ক: শোকের আবহ তখন গোটা বাড়ি জুড়ে। চারপাশে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের কান্না, মাঝে রাখা কফিন। কিন্তু সেই স্তব্ধ পরিবেশ হঠাৎই বদলে গেল তীব্র আতঙ্কে, যার কয়েক মুহূর্ত পরেই নেমে এল সীমাহীন স্বস্তি ও আনন্দ। নিজের শেষকৃত্য চলাকালীন কফিনের ঢাকনা ঠেলে আচমকাই উঠে বসল ১৫ বছরের কিশোরী। ঘটনাটি ঘটেছে গুয়াতেমালার এল জোকোতের এক পরিবারে।
জানা গেছে, গত শনিবার সকালে বুকে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করায় ইউলেইদি ইকস্কোটোয়াক নামের ওই কিশোরীকে গাড়িতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিলেন তার বাবা আব্রাহাম ইকস্কোটোয়াক। গাড়ির মধ্যেই হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ে সে। পেশায় ইভাঞ্জেলিক্যাল যাজক আব্রাহাম গাড়ি থামিয়ে মেয়ের নাড়ি ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করেন। কোনও সাড়া না পেয়ে তিনি ধরে নেন মেয়ে আর বেঁচে নেই। চিকিৎসকের কাছে না নিয়ে গিয়ে কিংবা কোনও ডাক্তারি ডেথ সার্টিফিকেট ছাড়াই তিনি নিজের অনুমানের ভিত্তিতেই মেয়েকে মৃত বলে ঘোষণা করে দেন। শোকস্তব্ধ পরিবার তড়িঘড়ি একটি গোলাপি পোশাক পরিয়ে ইউলেইদিকে কফিনে শোয়ায় এবং শেষকৃত্যের প্রস্তুতি শুরু করে।
Una joven de 15 años fue dada por muerta y despertó en su ataúd tras ocho horas en un velorio en Guatemala https://t.co/bI58jZJfax
— Errete en Español (@erreteespanol) October 11, 2026
কিন্তু মায়ের মন যেন এই চরম সত্য মানতে চাইছিল না। শেষকৃত্য চলাকালীন ইউলেইদির মা কফিনের ভেতর হালকা নড়াচড়া লক্ষ্য করেন এবং বারবার দাবি করতে থাকেন যে তার মেয়ে মারা যায়নি। কান্নায় ভেঙে পড়ে তিনি যখন কফিনের ছোট কাচের জানালাটি খোলেন, তখনই ঘটে সেই অভাবনীয় ঘটনা। চোখ মেলে কফিনের মধ্যে সোজা উঠে বসে কথা বলতে শুরু করে কিশোরীটি। উপস্থিত শোকযাত্রীরা হতচকিত হয়ে পড়েন, কেউ কেউ ভয়ে পিছিয়ে যান, আবার কেউ ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতায় উচ্চস্বরে প্রার্থনা শুরু করেন। কফিন থেকে হাত ধরে নামিয়ে আনা হয় তাকে।
এই পুরো ঘটনার ভিডিও ইতিমধ্যে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে এবং তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। পরবর্তীতে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে ইউলেইদি জানায়, গাড়িতে থাকার সময় হঠাৎই তার বুকে অসহ্য চাপ অনুভূত হয় এবং তীব্র ব্যথার পর সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছিল। ফিরে পাওয়া এই জীবনকে সে অলৌকিক আশীর্বাদ বলেই মনে করছে। তবে স্বস্তির মাঝেও চিকিৎসকদের মতামত ছাড়া কেবল অনুমানের ভিত্তিতে এমন অপরিণামদর্শী সিদ্ধান্ত নেওয়া নিয়ে স্থানীয় মহলে বিস্তর আলোচনা ও চর্চা শুরু হয়েছে।
