তুহিন হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র আইভীর জামিন মঞ্জুর
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫৪ পিএম
সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী। ছবি: সংগৃহীত
-->গণঅভ্যুত্থানের সময় সিদ্ধিরগঞ্জের রিকশাচালক তুহিন হত্যা মামলায় নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর পুনরায় জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান তিনি।
আদালত থেকে বের হয়ে গাড়িতে ওঠার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন আইভী। এ সময় তিনি বলেন, ‘জয় বাংলা দাবিয়ে রাখা যাবে না।’
আরও পড়ুন
ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জ জেলা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি। তিনি হাইকোর্ট থেকে তার সব মামলায় জামিনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সিদ্ধিরগঞ্জের ব্র্যাক ব্যাংকের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিহত হন রিকশাচালক তুহিন। এ হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানকে এক নম্বর এবং ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে ১১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।
আদালতে শুনানিতে আইভীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন বলেন, এ মামলায় পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছে। তদন্তে বিস্ফোরকের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি এবং মামলায় আইভীর সংশ্লিষ্টতারও প্রমাণ মেলেনি। নোটিশ দেওয়ার পরও মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী আলেয়া আক্তার মিম আদালতে হাজির হননি।
আইনজীবী আরও বলেন, পুলিশ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ায় তারা সেটি গ্রহণের পাশাপাশি আইভীর পুনরায় জামিনের আবেদন করেছেন।
অন্যদিকে, জামিনের বিরোধিতা করে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) জাকির হোসেন বলেন, এ জামিনের বিরুদ্ধে নারাজি পিটিশন দেওয়া হবে।
এর জবাবে অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন ও আসামিপক্ষের অন্য আইনজীবীরা প্রশ্ন তোলেন, পিপি কোন আইনে নারাজি পিটিশন দেবেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আবু শামীম আজাদ আইভীর পুনরায় জামিন মঞ্জুর করেন।
অন্তরা/
আরও পড়ুন
দুর্গাপূজায় তিন দিন বন্ধ থাকবে সুপ্রিম কোর্ট
প্রকাশ: ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১৮ এএম
ছবি: সংগৃহীত
-->শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আগামী তিন দিন মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তবে আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলমান থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পবিত্র শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বজনীন আনন্দ ও ধর্মীয় আবহ বিবেচনায় নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এই ছুটি পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত উচ্চ আদালতের বিচারিক কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
অন্তরা/
আরও পড়ুন
আরেক মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম
ছবি:সংগৃহীত
-->পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপংকর তালুকদারকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে করা আরেকটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।
এর আগে আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
রাজধানীর পল্টন মডেল থানার এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল ইসলাম তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
আরও পড়ুন
আবেদনে বলা হয়, সাবেক এ প্রতিমন্ত্রী ঘটনার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে তদন্তকালে জানা গেছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর তৎকালীন সরকারের পদত্যাগের দাবিতে কাকরাইলের নাইটিঙ্গেল মোড় থেকে ৭১ হোটেলের দিকে আসা বিএনপির অঙ্গসংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের ২০০-২৫০ জন নেতা-কর্মীর মিছিলে দুপুর পৌনে ২টার দিকে নির্বিচারে সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। আক্রান্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বেলালকে কুপিয়ে জখম করে। এরপর এক পুলিশ কর্মকর্তার নির্দেশে পুলিশের আরেক সদস্য তার কপালে রাবার বুলেট ছোড়ে। এতে অজ্ঞান হয়ে লুটিয়ে পড়লে মৃত ভেবে একটি গাড়ির নিচে ফেলে রাখা হয়। অন্য নেতা-কর্মীরা সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে প্রথমে জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নিয়ে যাস। সেখানে চিকিৎসা নিতে বাধা দেওয়া হলে পরে বরিশালের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা নেন।
এ ঘটনায় গত বছরের ৮ মে বাদী হয়ে মামলা করেন ভুক্তভোগী মো. বেলাল।
এ মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, রাশেদ খান মেনন, শেখ ফজলে নূর তাপস, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা হারুন অর রশীদ ও বিপ্লব কুমার সরকার প্রমুখ।
জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান দীপংকর তালুকদার। গত বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় রাজধানীর সোবহানবাগ এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা (ডিবি) বিভাগের একটি দল।
পরে পল্টন থানার অন্য একটি হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি।
জলিল উজ্জ্বল/নাঈম
আরও পড়ুন
সাবেক এমপি আবুল কালাম হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম
সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ। ছবি: সংগৃহীত
-->রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আবুল কালাম আজাদকে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলার শুনানির জন্য আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহী জেলা কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তে এ ঘটনায় তার জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শাহনেওয়াজ।
আরও পড়ুন
রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য শুনে বিচারক আবেদন মঞ্জুর করেন। পরে তাকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মিছিলে অংশ নেন আলেক খান। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে চিকিৎসা শেষে ২০২৫ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন তিনি।
এর আগে, ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে রাজধানীর মিরপুরের শেওড়াপাড়া এলাকা থেকে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে তাকে রাজশাহীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাগমারায় ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় করা পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় পর্যায়ক্রমে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। সর্বশেষ রাজশাহীর বোয়ালিয়া মডেল থানার একটি মামলায় তিনি রাজশাহী কারাগারে আটক ছিলেন।
আবুল কালাম আজাদ বাগমারার তাহেরপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
জলিল উজ্জ্বল/সালমান/
আরও পড়ুন
মৌলভীবাজারে চা-বিক্রেতা হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৭
প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->মৌলভীবাজারে পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে দুরুদ মিয়া নামে এক চা-বিক্রেতাকে হত্যার দায়ে প্রধান আসামি ছাদিক মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই মামলার অপর সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) মৌলভীবাজার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক শামসাদ বেগম এ রায় ঘোষণা করেন।
খালাস পাওয়া সাতজন হলেন- তছকির মিয়া, সিরাজ মিয়া, নুরুল ইসলাম, ছাইফুর রহমান, আতাউর রহমান, শফিক মিয়া ও আছাব মিয়া।
আরও পড়ুন
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৮ সালের ১২ জুন সকালে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার নাজিরাবাদ ইউনিয়নের নারাইনপাশা এলাকার চা-বিক্রেতা দুরুদ মিয়া ছাদিক মিয়ার কাছে তার পাওনা ১ হাজার ২৬৩ টাকা চান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ছাদিক মিয়া সেখান থেকে চলে যান। কিছুক্ষণ পর দলবল নিয়ে ফিরে এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুরুদ মিয়াকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দুরুদ মিয়াকে উদ্ধার করে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওই দিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের ছেলে মকবুল মিয়া বাদী হয়ে ৮ জনের নাম উল্লেখ করে মৌলভীবাজার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট নিয়ামুল হক বলেন, দ্রুত সাক্ষ্যগ্রহণ ও বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন করার মাধ্যমে আদালতে মামলাজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হচ্ছে। দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত হওয়ায় সাধারণ বিচারপ্রার্থীরা সরাসরি উপকৃত হচ্ছেন। ভবিষ্যতেও বিচার বিভাগের এ গতিশীলতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা করি।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ড. আব্দুল মতিন চৌধুরীও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ দণ্ডের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ল।
পুলক পুরকায়স্থ/সালমান/
