ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রোববার দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ চলছে। বামপন্থি লুলা দা সিলভা আরও চার বছর থাকবেন নাকি ফ্লাভিও বলসোনারোর নেতৃত্বে ডানপন্থিরা ক্ষমতায় ফিরবে- তা এই ভোটের মাধ্যমে চূড়ান্ত হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলছে, ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। প্রথম দফার ভোটে কোনো পক্ষই সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় ৫০ শতাংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। তবে লুলার তুলনায় ফ্লাভিও সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। দ্বিতীয় দফার চূড়ান্ত জনমত জরিপেও দুজনের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে।
লুলা দা সিলভার জন্য এটিই শেষ নির্বাচনী লড়াই। আগামী সপ্তাহে তিনি ৮১ বছরে পা দেবেন। প্রথম দফার ভোটে পিছিয়ে থাকার পর তার নেতৃত্বাধীন বামপন্থিরা ব্যাপক সমাবেশের মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এসব সমাবেশে করোনাকালে জাইর বলসোনারোর বিশৃঙ্খল ভূমিকা, আমাজন বনাঞ্চলের ক্ষতিসহ সরকারি কর্মসূচিতে কাটছাঁটের সমালোচনা হয়।
জাইর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। তার ছেলে সরকার গঠন করলে দক্ষিণ আমেরিকায় আরেকটি ডানপন্থি দেশে পরিণত হবে ব্রাজিল। তবে ট্রাম্প এখনো ফ্লাবিওকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানাননি।
অপরদিকে দ্বিতীয় দফা ভোটের আগে নিজেকে মার্কিন হস্তক্ষেপের ঢাল হিসেবে তুলে ধরেন লুলা। চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় গেলে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও অপরাধ দমন ও সরকারি ব্যয় কমানোর অঙ্গীকার করেছেন। একই সঙ্গে ব্রাজিলকে ‘যিশুখ্রিষ্টের হাতে’ তুলে দেওয়ার কথা বলেছেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্রের শাসন ও মূল্যবোধকে তিনি খ্রিস্টধর্মভিত্তিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
পরিবর্তনের এই বার্তা অনেক ব্রাজিলীয়দের আকৃষ্ট করেছে। ৬৭ বছর বয়সী ভোটার ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এদুয়ার্দো ভিয়ানা এএফপিকে বলেন, ‘এটি পরিবর্তনের প্রশ্ন। সেই পুরোনো বিষয় আর কত?’ লুলার সমালোচনা করে ভিয়ানা বলেন, ‘লুলার দাবি তিনি গরিবদের জন্য দেশ চালান। অথচ, মানুষ সুপারমার্কেটেও যেতে পারছে না।’
ব্রাজিলে এর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হয় ২০২২ সালে। এতে জাইর বলসোনারো হেরে যান। পরে তার বিরুদ্ধে অভ্যুত্থান চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। এ মামলায় তিনি ২৭ বছরের কারাদণ্ড (গৃহবন্দি অবস্থায়) ভোগ করছেন।
