জীবনের প্রথম সবকিছুই যেন স্পেশ্যাল। ২০২৬-এর দুর্গাপুজোর আগে আরও বেশি করে এটাই মনে হচ্ছে অভিনেতা সৌরভ চক্রবর্তী। হবু স্ত্রী শুভস্মিতা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এটাই তাঁর প্রথম পুজো। নিশ্চয়ই অনেক ধরনের পরিকল্পনা করেছেন সৌরভ? শুভস্মিতাকেই বা কী কী কিনে দিলেন?
যদিও অভিনেতা কোনও বছরই পুজোর সময়ে কলকাতায় থাকেন না। পুজোর আমেজ নিয়ে শহর ছাড়েন। এই বছর কি হবু স্ত্রীর পাল্লায় পড়ে কিছু বদল এল সিদ্ধান্তে? মৃদু হেসে অভিনেতার উত্তর, “না না, দেখলাম শুভস্মিতাও খানিকটা আমারই মতো। তাই এই বছরেও শহরে থাকা হচ্ছে না যুগলের। বরং সমুদ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করে ফেলেছেন।”
সৌরভেরা ঘনিষ্ঠেরা অবশ্য জানেন তিনি পাহাড়প্রেমী। তা হলে পুজোয় পাহাড় ছেড়ে কেন সমুদ্র? অভিনেতা বলেন, “শুভস্মিতা মালদ্বীপ যাবে বলে বায়না করল। আমার দিদিও ওকে বলেছিল আগে ভীষণ সুন্দর জায়গা নাকি ওটা। ওর দিকে ভোট বেশি। তাই অগত্যা মালদ্বীপে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পঞ্চমীর দিনেই আমরা বেরিয়ে পড়ছি।”
পরিবারের সঙ্গে কাটাতে পারবেন না বলে সে ভাবে কোনও মনখারাপ নেই। আসলে সৌরভ যে প্রতি বছর শহরের বাইরে কাটান এই সময়টা। তাই তাঁর মা-দিদিরাও অভ্যস্ত। অভিনেতা যোগ করেন, “মায়েরা খুশি। আমরা ঘুরতে যাচ্ছি, ওরাও উত্তেজিত। আমাদের ধারাবাহিকও কয়েক দিন আগেই শেষ হয়েছে। এমন সুযোগ আর কবে পাবো। চিন্তাহীন, চাপমুক্ত হয়ে তো বেরোনোর খুব একটা সুযোগ হয় না। তাই এই সময়টাকে কাজে লাগাতে চাই।”
মাঝের কিছু বছর একা ঘুরতে যেতেই পছন্দ করতেন সৌরভ। কারণ, ভ্রমণসঙ্গী কেমন হবে, তা নিয়ে নানা ধরনের চিন্তা তাঁকে গ্রাস করত। তবে শুভস্মিতার সঙ্গে দেখা হওয়ার পরে সেই চিন্তাও অনেকটা কেটেছে তাঁর। দু’জনেই নাকি একই ধরনের। অভিনেতার মতে, ঘুরতে গিয়ে সারা ক্ষণ এঁটে থাকা একেবারেই পছন্দ নয় তাঁর। নায়িকার ক্ষেত্রেও বিষয়টা খানিকটা তাই-ই। ফলে খুব একটা অসুবিধা হয় না তাঁদের।
তা হলে নতুন জুটির এই বছরের একসঙ্গে অষ্টমীর অঞ্জলীটা মিস্। কিছুটা আক্ষেপের সুরে সৌরভের উত্তর, “এই বছর মণ্ডপে একসঙ্গে অষ্টমীর অঞ্জলী দেওয়া হবে না। কিন্তু বাঙালি তো, পুজোর সেই সুর কোথাও ঠিক কোথাও না কোথাও খুঁজে নেব।”
এই প্রতিবেদনটি 'আনন্দ উৎসব' ফিচারের একটি অংশ।
