প্রকাশ: সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম
ধর্মীয় রীতিনীতি ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে হবিগঞ্জে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় হবিগঞ্জ শহরের রামকৃষ্ণ মিশনে এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের আয়োজনে দেবীরূপে পূজিত হয় ১০ বছর বয়সী কৃত্তিকা চক্রবর্তী। তার বাড়ি চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায়। সে রাজেশ চক্রবর্তীর মেয়ে।
পূজা শুরুর আগে কৃত্তিকাকে স্নান করিয়ে নতুন পোশাক পরানো হয়। তার হাতে দেওয়া হয় ফুল, কপালে সিঁদুরের তিলক এবং পায়ে পরানো হয় আলতা। পরে সাজানো আসনে বসিয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কুমারী মায়ের পূজা করা হয়। এ সময় শঙ্খধ্বনি, উলুধ্বনি ও দেবীর স্তোত্রপাঠে মুখর হয়ে ওঠে মিশন প্রাঙ্গণ।
সনাতন ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী, দুর্গাপূজার মহাষ্টমীতে সাধারণত পোচ থেকে ১২ বছর বয়সী কন্যাশিশুকে দেবীরূপে পূজা করা হয়। কুমারী পূজাকে কেন্দ্র করে রামকৃষ্ণ মিশন ও আশপাশের এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পূজা দেখতে হবিগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী সমবেত হন।
এদিকে, কুমারী পূজা উপলক্ষে জেলাজুড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। মণ্ডপ এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি এসআরবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। মণ্ডপের আশপাশে যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পাশাপাশি মণ্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং সাদা পোশাকে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়।
হবিগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী বেদময়ানন্দ জানান, গত ১০৫ বছর ধরে এ মিশনে দুর্গাপূজা ও কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। প্রতি বছর হবিগঞ্জ জেলা ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে বহু দর্শনার্থী এ পূজা দেখতে আসেন।
