Published on
:
2 min read
এ বছরই রাজ্যে ধুমধাম করে পালিত হয়েছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মদিন। রাজ্যে পালাবদলের পরে হুগলির বলাগড়ের জিরাটে ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামাপ্রসাদের ১২৫ ফুটের মূর্তি এবং তাঁর পৈতৃক বাড়িতে মিউজ়িয়াম তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান রাজ্য সরকার। আর এ বার, পুজোতেও শ্যামাপ্রসাদের স্মৃতি ফিরতে চলেছে। ৬৭তম বর্ষে হুগলির বলাগড়ের সোমড়া কলোনির পুজো কমিটির মণ্ডপে ফুটে উঠেছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক বাড়ি। ইতিমধ্যেই এই মণ্ডপে উপচে পড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়।
'বাংলার বাঘ' আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের দ্বিতীয় পুত্র ছিলেন শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়। হুগলির বলাগড়ের জিরাটে রয়েছে তাঁর পৈতৃক ভিটে। সেই বাড়ির আদলেই মণ্ডপ সাজিয়ে তুলেছেন সোমড়া কলোনি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির উদ্যোক্তারা। মণ্ডপসজ্জার মধ্য দিয়ে একদিকে যেমন তুলে ধরা হয়েছে ইতিহাসের স্মৃতি, অন্য দিকে নতুন প্রজন্মের সামনে মনীষীদের পরিচয় ও তাঁদের অবদান তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মনীষীদের স্মৃতিকে কেন্দ্র করে তৈরি এই মণ্ডপ ইতিমধ্যেই দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
মণ্ডপে প্রবেশের মুখেই দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের বিশাল মূর্তি। মণ্ডপের দেওয়ালে স্থান পেয়েছে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু, সুকান্ত ভট্টাচার্য-সহ বিভিন্ন মনীষীর ছবি। পুরোনো বাড়ির আদলে খোলা বারান্দা রয়েছে ভেতরে।দর্শনার্থীদের ছবি তোলার জন্য তৈরি করা হয়েছে বিশেষ সেলফি জ়োনও।
পুজো কমিটির সদস্য দিলীপকুমার দত্ত বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের পৈতৃক ভিটে আমাদের পাশের গ্রামেই রয়েছে। তাঁর সম্পর্কে নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা জানুক, তাঁকে চিনুক, এটাই আমাদের উদ্দেশ্য। দেশের জন্য তাঁর ভাবনা ও অবদান কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল, তা দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরতে চাইছি। আগামী প্রজন্ম তাঁর সম্পর্কে জানুক, শিখুক সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ।’
ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় এই পুজোর উদ্বোধন করেন হুগলির প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়। উপস্থিত ছিলেন বলাগড়ের বিধায়ক তথা রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার। প্রাক্তন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘এটাই পরিবর্তন। পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসকে আমরা কখনও ভুলতে দিইনি, ভবিষ্যতেও দেবো না। আগে যিনি মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, তিনি বিভিন্ন ভাবে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ইতিহাস ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। সেই ইতিহাস আবার নতুন করে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটা পশ্চিমবঙ্গের কাছে আশীর্বাদ। এ ভাবেই পশ্চিমবঙ্গ এগিয়ে চলুক।’
রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী সুমনা সরকার বলেন, ‘শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মাটি মানে পূর্ণ মাটি। সেই মাটিতে তাঁকে ঘিরে সবকিছু হবে, সেটাই তো স্বাভাবিক।’
