ছবি: সংগৃহীত
-->লক্ষ্য ফাইনালে খেলা। লক্ষ্য পূরণ করতে হলে চাই লিগ পর্বে ভালো করা। বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ নেশনস ট্রফিতে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। জয় দিয়ে আসর শুরু করতে পারলে লক্ষ্য পূরণের মনোবল অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু প্রতিপক্ষ নেপাল হওয়াতে সেখানে কিছুটা শঙ্কা ছিল। সেই লঙ্কা ছিল নেপালের সঙ্গে আগের দুইবারের সাক্ষাতে হেরে যাওয়া।
অবশ্য সেই শঙ্কা কাটিয়ে জয়ের বাসনাই ছিল আলপনা আক্তারদের। তাদের সেই বাসনায় আবার তালিম দিয়েছেন স্প্যানিশ কোচ আনা আলোনসো ফ্রাগুয়ার। প্রস্তুতিও ছিল বেশ লম্বা। সময়ের হিসেবে প্রায় তিন মাস। সব কিছুর সফল বাস্তবায়ন হয়েছে জয় দিয়ে। শুধু জয় নয়। নেপালকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়েছে। জয়ী হয়েছে ৩৩-২০ গোলের বড় ব্যবধানে। প্রথমার্ধে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা এগিয়ে ছিল ১৩-৯ গোলে। এই জয়ে বাংলাদেশ ফাইনালে খেলার পথ মসৃণ করে রাখল।
পল্টনে ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে চার জাতির এই আসরে প্রথমার্ধে নেপাল বেশ ভালোই লড়াই করে। যে কারণে গোলের ব্যবধানও ছিল কম ১৩-৯। এর কারণও ছিল। ম্যাচের শুরুতেই সাকিবা জান্নাত সরাসরি লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে বাংলাদেশকে একজন কম নিয়েই খেলতে হয়েছিল। ধীরে ধীরা সে ঘাটতি পুষিয়ে উঠেন। ফলে দ্বিতীয়ার্ধে গিয়ে বাংলাদেশের মেয়েদের তেজোদ্দীপ্ত লড়াইয়ে ব্যবধান শুধু বেড়েছে।
আরও পড়ুন
বাংলাদেশের এ রকম বড় জয়ে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল আল্পনা আক্তারের। তিনি একাই করেন ৭ গোল। পরে হন ম্যাচসেরা। অবদান কম ছিল না মিষ্টি খাতুন ও শ্যামলি মিংয়ের। দুজনেই করেন ৬টি করে গোল। অধিনায়ক ইসমেতারা নিশি করেন ৫ গোল। ৪ গোল করেন সায়মা জান্নাত সীমা। এ ছাড়া মাসুদা আক্তার ২টি এবং পূর্ণিমা রানি, অনুরাধা পাহান ও তাসনিয়া রহমান আরশা করেন ১টি করে গোল।
ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা আল্পনা আক্তার ২০১৯ সালে নেপালের কাছে সর্বশেষ হারা ম্যাচেও খেলেছিলেন। সেই ক্ষত তিনি ভুলতে পারেননি। যা ফুটে উঠেছে তার কথায়। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতার পর সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘উনিশে আমরা একবার নেপালের কাছে হেরেছিলাম, ওই ক্ষোভটা আমার মনের মধ্যে ছিল। মনে মনে ভেবেছিলাম, আজকে আমরা জিতব, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহর রহমতে তাই হয়েছে। আমরা জিততে পেরেছি।’
আরও পড়ুন
রবিবার (১৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় ম্যাচ। ভারত তাদের প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে এককথায় উড়িয়ে দিয়েছে। জয় পেয়েছে ৪০-৮ গোলের বিশাল ব্যবধানে।
প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক। তিনি বলেন, ‘এমন আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসরের আয়োজক হওয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের এবং এর মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর পারস্পরিক আঞ্চলিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন নতুন মাত্রায় পৌঁছে যাবে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তরুণ সমাজকে গতিশীল করার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে সার্বক্ষণিক নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের নারী ক্রীড়াবিদদের অধ্যবসায় ও নৈপুণ্য ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করবে।’
পলাশ/এএফ
