বয়স ৭৫ পেরোলেও অ্যাকশনধর্মী চরিত্রে চুটিয়ে অভিনয় করে চলেছেন সুপারস্টার রজনীকান্ত (Rajinikanth)। তিনি যে একই বয়সের অন্য অনেকের থেকে বেশি ফিট, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর তাই তাঁর খাদ্যাভ্যাসও বারেবারে উঠে আসে আলোচনায়। চলতি মাসেই মুক্তি পেয়েছে তাঁর ছবি ‘জেলার ২’। সেই সঙ্গে আবারও চর্চায় উঠে এসেছে প্রায় দু’দশক আগে ডায়েট প্রসঙ্গে বলা তাঁর একটি মন্তব্য।
৪০ পেরোলেই পাত থেকে বাদ দিতে হবে যে কোনও সাদা খাবার, দক্ষিণী সুপারস্টার এমনটাই মনে করেন। সাদা খাবার অর্থাৎ ভাত, দুধ, দই, চিনি ইত্যাদি। ২০০৮ সালে ‘কুসেলন’ ছবির অডিয়ো লঞ্চে নিজের ফিট থাকার রহস্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ৪০ বছর বয়স পর্যন্ত মানুষ যা খুশি খেতে পারেন, কিন্তু তার পরে এই খাবারগুলি এড়িয়ে চলা উচিত।
কিন্তু সত্যিই কি ‘হোয়াইট ফুড’ ছেড়ে দেওয়া উচিত?
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস নিয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র নির্দেশিকায় সুষম খাবার, পরিমিতি এবং খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্যের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত চিনি ও নুন খাওয়ার পরিমাণ কমানোর পরামর্শও দেওয়া হয়। বলা হয়েছে, গোটা শস্য, শাকসবজি, ফল, ডাল এবং অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার খাদ্যতালিকায় রাখার কথা।
সাদা ভাতও সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। কতটা ভাত খাচ্ছেন, তার সঙ্গে কী খাচ্ছেন এবং সার্বিক খাদ্যাভ্যাস কেমন—সেইসব খেয়াল রাখতে হবে। সাদা চালের বদলে মাঝেমধ্যে গোটা শস্য বা বেশি ফাইবারযুক্ত খাবার বেছে নেওয়া যায়। তবে তার অর্থ এই নয় যে, সকলকেই ভাত খাওয়া বন্ধ করে দিতে হবে।
দুধ ও দই থেকে প্রোটিন ও ক্যালশিয়াম পাওয়া যায়। যাঁদের দুগ্ধজাত খাবার হজম করতে সমস্যা হয় অথবা কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁরা অন্য উৎস থেকেও প্রয়োজনীয় পুষ্টি পেতে পারেন। তবে শুধু দুধ ও দই বাদ দিলেই যে স্বাস্থ্যের উন্নতি হবে, এমন নয়।
নুনও শরীরের জন্য প্রয়োজনীয়। যদিও অতিরিক্ত নুন খেলে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। WHO-র পরামর্শ অনুযায়ী, প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৫ গ্রামের কম নুন খাওয়া উচিত।

চিনির ক্ষেত্রে অবশ্য বাড়তি সতর্কতা জরুরি। বিশেষত খাবার বা পানীয়তে মেশানো চিনি এবং মধু, সিরাপ ও ফলের রসে থাকা ফ্রি সুগারের পরিমাণ কমানো প্রয়োজন। WHO-র নির্দেশিকা অনুযায়ী, দৈনিক মোট ক্যালরির ১০ শতাংশের কম ফ্রি সুগার থেকে আসা উচিত। এর পরিমাণ আরও কমাতে পারলে অতিরিক্ত স্বাস্থ্যগত সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরের পুষ্টির চাহিদা, শারীরিক সক্রিয়তা এবং স্বাস্থ্যের অবস্থার পরিবর্তন হতে পারে। তবে চিকিৎসকের বিশেষ পরামর্শ না থাকলে, স্বাভাবিক খাদ্যতালিকা থেকে কোনও খাবারই পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
