ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে জমে উঠেছে নদীপাড়ের অস্থায়ী হাট। গতকাল মাদারীপুরের বন্দরখোলা ইউনিয়নের পদ্মা নদীর পাড়ের চরাঞ্চলে। ছবি: খবরের কাগজ
ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞার ১২ দিন পেরিয়ে গেলেও মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মাপাড়ে বন্ধ হয়নি ইলিশ বিক্রি। নদী থেকে ধরে আনা মাছ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন অস্থায়ী হাটে। পদ্মার তাজা ইলিশ মাছ কিনতে আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা থেকে ভিড় করছেন ক্রেতারা। এদিকে জনবলসংকটে পুরো এলাকায় শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিবচর উপজেলার বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা বাজারসংলগ্ন পদ্মার পাড়, মাদবরেরচর ইউনিয়নের পুরানকান্দি এবং চরজানাজাত ইউনিয়নের হীরাখাঁর বাজারসংলগ্ন নদীর পাড় ইলিশ বিক্রির অন্যতম স্থান। প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে এসব এলাকায় বসে অস্থায়ী হাট। এর মধ্যে বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজিরসূরা বাজারে সড়কপথে সহজেই যাতায়াত করা যায়।
বিভিন্ন যানবাহনে করে সেখানে যান ক্রেতারা। অন্যদিকে চরজানাজাত ইউনিয়নের হীরাখাঁর বাজার পদ্মার উত্তর পাড়ে হওয়ায় সেখানে যেতে হয় নদী পেরিয়ে। দুর্গম চরাঞ্চল হওয়ায় এসব এলাকায় প্রশাসনের অভিযান তুলনামূলক কম দৃশ্যমান বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার মাদবরেরচর ইউনিয়নের পুরানকান্দিতেও সড়কপথে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ নেই। সেখানে যেতে হয় হেঁটে ও ছোট নৌকায় নদী পেরিয়ে। এসব এলাকায় পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি কম থাকায় প্রকাশ্যেই মাছ বিক্রি হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন
গতকাল সোমবার বন্দরখোলা ইউনিয়নের কাজীরসূরা বাজারসংলগ্ন পদ্মার পাড়ের চরাঞ্চলে গিয়ে দেখা যায়, নদী থেকে ট্রলারে জেলেরা মাছ নিয়ে তীরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই মাছ কিনতে ট্রলারের দিকে ছুটছেন অপেক্ষমাণ ক্রেতারা। সেখানে হালি বা ঢালা ধরেও মাছের দাম হাঁকছেন বিক্রেতারা। ক্রেতারাও নিজেদের মতো দরদাম করে মাছ কিনছেন। সেখানে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের মাছের পাশাপাশি দুই কেজি ওজনের ইলিশও পাওয়া যাচ্ছে।
স্থানীয় যুবক শিপন শিকদার বলেন, ‘পুলিশ একবার টহল দিলে সারা দিন আর তাদের দেখা যায় না। পরে আবার মাছ ধরা ও বিক্রি করে। এখানে নানা বয়সী মানুষ মাছ ধরেন। প্রশাসন নদীপথে টহল আরও জোরদার করলে হয়তো কেউ নদীতে মাছ ধরতে পারত না।’ ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে মাছ কিনতে এসেছেন আরিফ মোল্লা। তিনি বলেন, ‘লোকমুখে শুনে মাছ কিনতে এসেছি। এসে দেখি, মাছের চেয়ে ক্রেতার সংখ্যা বেশি। দামও দ্বিগুণ। দেখছি, পোষালে কিনব, না হলে চলে যাব।’
ইলিশ বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শুধু শিবচর নয়, মুন্সীগঞ্জ ও শরীয়তপুরের জেলেরাও পদ্মার বিভিন্ন স্থানে মাছ ধরেন। তাদের কেউ কেউ বলছেন, মাছ ধরা বন্ধ রাখলে জীবিকা নির্বাহ করবেন কীভাবে? এই যুক্তিতে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কেউ কেউ মাছ ধরা ও বিক্রি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
কাজীরসূরা এলাকায় মাছ ধরে বিক্রি করেন মো. তালেব মোল্লা। তিনি বলেন, ‘আমরা অসহায়, তাই মাছ ধরি। জানি, এখন মাছ ধরা নিষিদ্ধ। তবু পেটের দায়ে মাছ ধরি। আমাদের সংসারে প্রতিদিন ৫-৬ কেজি চাল লাগে। সরকার এই কয়দিনের জন্য ২৫ কেজি চাল দিয়েছে। এতে আমাগো কী অয়? এ কারণেই মাছ ধরে বিক্রি করে চাল-ডাল কিনে বাড়ি যাই।’
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সত্যজিৎ মজুমদার বলেন, ‘জনবলসংকটের কারণে পুরো এলাকায় শতভাগ নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘পদ্মার পাড়ের যতগুলো মাছ বিক্রির স্পট আছে, সেগুলো ভেঙে দেওয়া হবে। কাজিরসূরা বাজারের হাট গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে ক্রেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া আমাদের নিয়মিত অভিযান চলবে।’
