সংবাদ · সাধারণ
ঘুসের মামলায় খালাস পেলেন নীল বরণ
১২/১০/২০২৬

ঘুস গ্রহণের অভিযোগে তিন বছরের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক রেকর্ড কিপার নীল বরণ ত্রিপুরাকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। মামলার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে রাষ্ট্রপক্ষ যথেষ্ট ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় তার বিরুদ্ধে দেওয়া বিচারিক আদালতের দণ্ডাদেশ সম্পূর্ণ বাতিল করেছেন উচ্চ আদালত।একই সঙ্গে তার জামিননামা অবমুক্ত করার স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মো. বশির উল্লাহর নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বিভাগের একক বেঞ্চ নীল বরণ ত্রিপুরার করা ফৌজদারি আপিল মঞ্জুর করে এই ঐতিহাসিক রায় দেন, যা সোমবার (১২ অক্টোবর) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়।রায়ে হাইকোর্ট গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলেন, "ফৌজদারি মামলায় কোনো ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করতে হলে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হয়। কেবল সন্দেহ, দাপ্তরিক অনিয়ম কিংবা অভিযুক্তের পলাতক থাকার বিষয়টি দণ্ডাদেশ দেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।"মামলার নথি পর্যালোচনা করে বিচারক দেখতে পান, অভিযোগের সমর্থনে সাক্ষীরা ঘুস হিসেবে অর্থ গ্রহণের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ, তারিখ, সময় ও স্থান আদালতের সামনে উপস্থাপন করতে পারেননি। এমনকি নথিতে অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও ঘুস নেওয়ার বিষয়টি আইনিভাবে প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে।মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছাতক সেটেলমেন্ট অফিসের সাবেক রেকর্ড কিপার নীল বরণ ত্রিপুরার বিরুদ্ধে জমির রেকর্ড সংশোধন ও ভুয়া কাগজপত্র তৈরির অভিযোগে ২০১০ সালে ছাতক থানায় মামলা হয়। ২০১২ সালে সিলেটের বিশেষ জজ আদালতে তার অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম শুরু হয় এবং ২০২২ সালের ৩০ মার্চ দুটি ধারায় তাকে তিন বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড ও ৬৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন।আসামিপক্ষের আইনজীবীরা শুনানিতে যুক্তি দেন, কোনো সাক্ষীই সুনির্দিষ্টভাবে ঘুস নেওয়ার ঘটনা প্রমাণ করতে পারেননি এবং সাক্ষীদের বক্তব্যে অসংগতি রয়েছে।আদালত আসামিপক্ষের যুক্তিতে সম্মত হয়ে জানান, বিচার চলাকালে অনুপস্থিত থাকাই অপরাধের প্রমাণ হতে পারে না। রাষ্ট্রপক্ষ গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে না পারায় সিলেটের বিশেষ জজ আদালতের সাজা বাতিল করে নীল বরণ ত্রিপুরাকে সব অভিযোগ থেকে পূর্ণ খালাস দেন আদালত।
মূল প্রতিবেদনে যান ↗