Authored By:
Published on
:
2 min read
কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়
এক উৎসব শেষ হতেই অন্য এক উৎসবের প্রস্তুতি শুরু মিউনিখে। সদ্য শেষ হয়েছে জার্মানির অন্যতম জনপ্রিয় উৎসব ‘অক্টোবর ফেস্ট’। ১৬ দিনের ওই উৎসবে মিউনিখের রাস্তায়-প্রান্তরে ভিড় জমিয়েছিলেন প্রায় ৭৪ লক্ষ মানুষ। ঢাক-ঢোল, গান-বাজনা, আনন্দ-উচ্ছ্বাসের সেই মহাপর্বের রেশ কাটতে না কাটতেই এ বার মিউনিখের বুকে শোনা যাচ্ছে অন্য সুর — ‘বাজল তোমার আলোর বেণু...’। প্রবাসী বাঙালিদের হাত ধরে শহর প্রস্তুত দুর্গাপুজোর জন্য। ১১ বছরের মার্কাস ঋষির মতো অনেক খুদেই এখন অত্যন্ত ব্যস্ত মণ্ডপসজ্জার ডিজ়াইন তৈরি করতে।
মিউনিখে এ বার অষ্টম বছরে পা দিচ্ছে ‘শারদ সম্প্রীতি’। ষষ্ঠী থেকে দশমী — টানা পাঁচ দিন সাবেকিয়ানার আবহে চলবে মায়ের আরাধনা। উদ্যোক্তাদের এ বারের মন্ত্র, ‘আড়ম্বর নয়, আন্তরিকতার পুজো’। তাই আলোর ঝলকানি কিংবা বাহুল্যের বদলে সকলকে সঙ্গে নিয়েই উৎসবের আয়োজন। ষষ্ঠীর সন্ধ্যায় স্থানীয় ভারতীয় দূতাবাসের কর্তাদের উপস্থিতিতে হবে পুজোর আনুষ্ঠানিক সূচনা। থাকবে ডান্ডিয়া, প্রকাশিত হবে বার্ষিক পত্রিকাও। পুজোর আচার-অনুষ্ঠান পরিচালনায় থাকছেন বার্লিন-প্রবাসী এক বঙ্গসন্তান এবং কমিটির এক সদস্য। আয়োজনের অন্যতম চালিকাশক্তি মহিলা সদস্যরাও।
এ বার মণ্ডপের অন্দরসজ্জা থেকে প্রতিমা স্থাপন — সবেতেই থাকছে নতুনত্ব। আর বাঙালির পুজো মানেই যে পেটপুজো, তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। মেনুতে থাকছে কাতলা কালিয়া, নবমীর পাঠা, দেশি চাট। তার সঙ্গে চমক অ্যাভোকাডো স্যালাডের ফিউশন। মেনুর গুরুদায়িত্বে হাওড়ার ছেলে সঞ্জীব। জন্মসূত্রে পাঞ্জাবি হলেও বাঙালিয়ানায় মজে থাকা সঞ্জীব মিউনিখে দশটির বেশি রেস্তোরাঁ সামলান। তবু পুজোর পাঁচ দিন দু’বেলাই থাকবেন ‘শারদ সম্প্রীতি’র প্রাঙ্গণে।
তবে এ বার পুজোর প্রস্তুতি মোটেই সহজ ছিল না। দায়িত্বে রয়েছেন শিলিগুড়ির জয়দীপ চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘এ বারটা বেশ চাপ ছিল। মায়ের আরাধনা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছিল। মাত্র দু’মাসের মধ্যে গোটা আয়োজন দাঁড় করাতে হয়েছে। কিন্তু আমরা কেউ পিছিয়ে যাইনি।’ দিল্লির চিত্তরঞ্জন পার্কের পুজো আয়োজনের পুরোনো অভিজ্ঞতাই অনেককে সাহস জুগিয়েছে। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। দিনরাত চলছে কাজ। সঙ্গে রয়েছেন জার্মান সদস্যরাও।
ষষ্ঠীতে ডান্ডিয়া, সপ্তমীতে আনন্দমেলা, অষ্টমীতে সদস্যদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। আর নবমীর রাতে সবচেয়ে বড় চমক — মঞ্চে কলকাতার জনপ্রিয় বাংলা ব্যান্ড ‘লক্ষ্মীছাড়া’। দেবাদিত্য, গৌরব, সঙ্কেত, রাজীব, বোধিসত্ত্বদের গানে মিউনিখের বুকেই ফিরে আসবে কলকাতার কলেজজীবন। কারও মনে হয়তো বেজে উঠবে পুরোনো গানের সুর, কারও চোখের সামনে ভেসে উঠবে শহরের পুজোর দিনগুলি। পুজোর আরও এক উদ্যোক্তা অমিত সাহা বলেন, ‘কলকাতায় গিয়ে উৎসবের আমেজ উপভোগ করতে পারি না। তাই উৎসবের মেজাজটা আমরা এখানেই তৈরি করে নিই।’
অক্টোবর ফেস্টের ৭৪ লক্ষের উচ্ছ্বাস পেরিয়ে তাই মিউনিখ এখন অপেক্ষায় আর এক উৎসবের। সেখানে বিদেশের মাটিতেও বাঙালির ঠিকানা হয়ে উঠবে ঢাক, ধুনুচি, আড্ডা আর নস্টালজিয়া। দশমীর সিঁদুরখেলার পরে অবশ্য আবার সেই অপেক্ষা —‘আসছে বছর আবার হবে।’