কানাডায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসার মাধ্যমে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাসান মুরাদ (৩৭) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সিআইডি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার হাসান মুরাদের বাড়ি চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার ছিটুয়াপাড়া এলাকায়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী পেশায় একজন গাড়িচালক। বিদেশে গিয়ে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় তিনি কানাডায় যাওয়া ও সেখানে চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পান। এ জন্য ভিসা ও আনুষঙ্গিক খরচ বাবদ ১৮ লাখ টাকা দাবি করেন প্রতারক চক্রের সদস্য দিদার শেখ। কানাডায় যাওয়ার আশায় বিভিন্ন সময়ে তাঁকে ওই টাকা দেন ভুক্তভোগী।
পরে ভুক্তভোগীকে কানাডার স্টিকার ভিসা সংযুক্ত একটি পাসপোর্ট ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের বিমানের টিকিট দেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহির্গমন ইমিগ্রেশন কাউন্টারে গেলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাসপোর্টে থাকা কানাডার ভিসাটি পরীক্ষা করে জাল বলে শনাক্ত করেন।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বিমানবন্দর থানায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলা করেন। ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর দায়ের করা ওই মামলায় দণ্ডবিধির ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭ ও ৪৬৮ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
মামলার তদন্তে ২০২৫ সালের ২ নভেম্বর দিদার শেখকে গ্রেফতার করে সিআইডি। তাঁর দেওয়া তথ্য ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি চক্রের আরেক সদস্য সোহেল রানাকেও গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার দুজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিচয়, অবস্থান ও সম্ভাব্য ভূমিকা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডি। পরে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর রূপনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাসান মুরাদকে গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হাসান মুরাদ প্রতারণার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। মামলায় তাঁর ভূমিকা, অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ, জাল ভিসা সংগ্রহ ও সরবরাহের প্রক্রিয়া এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
গ্রেফতার হাসান মুরাদকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। এ ঘটনায় জড়িত অন্য ব্যক্তি, পলাতক অভিযুক্ত এবং চক্রটির দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করার পাশাপাশি সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।
বিদেশে কর্মসংস্থান, অভিবাসন বা ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। সংস্থাটি সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে। ভিসার নামে অস্বাভাবিক অঙ্কের অর্থ দাবি, পাসপোর্ট আটকে রাখা কিংবা ভিসা জালিয়াতি ও মানব পাচারের সন্দেহ হলে নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অথবা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।
