পুজোর শুরু থেকেই ভাইরাল চোরবাগান। মণ্ডপ জুড়ে আলো আঁধারির খেলা দেখে কেউ কেউ বলছিলেন শিল্পী যেন এক স্বপ্নের মত পরিবেশ তৈরি করেছেন। সেখানে যে এমন একটা মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে তা আশঙ্কা করেননি কেউই। তবে চোরবাগান সর্বজনীনের পুজো মণ্ডপ ও প্রতিমা শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল বলছেন, মণ্ডপে প্রচুর ভিড়ের চাপ ছিল। রিল তৈরি করছিলেন দর্শনার্থীরা। আশঙ্কা ছিলই। অপ্রীতিকর ঘটনা রুখতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মণ্ডপের অন্ধকার স্থানে অতিরিক্ত আলোর ব্য়বস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু দুর্ঘটনা ঠেকানো গেল না। এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন তিনি।
এবছর উদ্বোধনের পর থেকেই চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব নিয়ে শুরু হয় আলোচনা। মণ্ডপের একাধিক রিল ভাইরাল হয়। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় জমান মণ্ডপে। শুধু রাজ্য নয়, ভিন রাজ্য থেকেও আসেন দর্শনার্থীরা। এর মধ্যেই মহাসপ্তমীর রাতে মণ্ডপে ঘটে গেল এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। শনিবার সন্ধ্যায় মণ্ডপের একাংশ ভেঙে, পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৯ জনের। এই ঘটনার জন্য অনেকে মণ্ডপের আলো-আঁধারি পরিস্থিতিকে দায়ী করছেন। যদিও শিল্পীর দাবি, আগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। মণ্ডপের অন্ধকার স্থানে অতিরিক্ত আলোর ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও কীভাবে ঘটল এই ঘটনা? কী বলছেন শিল্পী?
চোরবাগানের ভিড় দেখে আগেই ক্লাব কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছিলেন শিল্পী সুশান্ত শিবানী পাল। দুর্ঘটনার জন্য অতিরিক্ত ভিড়কে দায়ী করেন তিনি। কয়েকজনের সচেতনতার অভাবকেও দায়ী করেছেন শিল্পী। ভিড়ের মধ্যে রিল তৈরি নেশাও ঠেলাঠেলির অন্যতম কারণ হতে পারে বলে মনে করছেন তিনি। শিল্পী জানান, এরকম ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করেছিলেন তাঁরা। ভাইরাল হওয়ার পর মণ্ডপে প্রচুর ভিড় বেড়ে যায়। মানুষ এসে রিল তৈরির চেষ্টা করছিলেন। একাধিকবার ঘোষণা করা সত্ত্বেও মণ্ডপের ভিতরে বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়েছিলেন দর্শনার্থীরা। এই পরিস্থিতিতে বাইরে অপেক্ষারত দর্শনার্থীরা অধৈর্য্য হয়ে যান। ঠেলাঠেলি হচ্ছিল। অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আভাস পেয়ে আগেই বাড়ানো হয়েছিল মণ্ডপের আলো। কিন্তু তা সত্ত্বেও আটকানো গেল না মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন শিল্পী।
