Published on
:
2 min read
নবমীর রাতে বাড়ি থেকে উদ্ধার মা ও নাবালক ছেলের ঝুলন্ত দেহ। হুগলির পাণ্ডুয়ার ঘটনা। মৃতদের নাম ডলি মুর্মু (৩১) ও রনিত মুর্মু (১২)। মঙ্গলবার রাতে বাবার কাছে রুটি, ঘুগনি খেতে চেয়েছিল রনিত। বাবা তা এনেও দেন। মা, ছেলে একসঙ্গে রুটি, ঘুগনি খান। এর পরে রনিতের বাবা সোম্বা মুর্মু বাড়ি থেকে বেরিয়ে পাড়ার ক্লাবে যান। ফিরে এসে দেখেন এই ঘটনা! দশমীর সকালে হুগলির পাণ্ডুয়া থানার বৈঁচিগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, রনিত অনেক দিন ধরেই অসুস্থ। শারীরিক সমস্যার পাশাপাশি মানসিক ভাবেও তার কিছু সমস্যা ছিল। রনিতের বাবা সোম্বা দিনমজুরের কাজ করেন। মঙ্গলবার রাতে ছেলে ঘুগনি, রুটি খেতে চেয়েছিল। বাবা তা কিনে এনে দেন। এর পরে বাড়ির কাছেই একটি ক্লাবে আড্ডা দিতে চলে যান। মা ও ছেলে একসঙ্গে রাতে খাবার খান।
এক নজরে
হুগলির পাণ্ডুয়ায় ডলি মুর্মু (৩১) ও তাঁর ছেলে রনিত মুর্মুর (১২) দেহ উদ্ধার হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে মা ও ছেলে একসঙ্গে রুটি ও ঘুগনি খেয়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন।
রাত প্রায় ১১টা নাগাদ বাড়ি ফিরে কোনও সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের অন্য সদস্যদের ডাকেন ডলির স্বামী সোম্বা মুর্মু।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও অশান্তির কথা তাঁদের জানা নেই। রনিত দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল।
দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর কারণ এখনও নিশ্চিত নয়।
রাত প্রায় ১১টা নাগাদ বাড়ি ফিরে সোম্বা স্ত্রীকে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে তাঁর দাদা ও বৌদিকে ডাকেন। খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। এর পরেই ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায় মাকে। পাশে বিছানায় পড়েছিল ছেলের দেহ।
সোম্বার দাদা মঙ্গল মুর্মু জানান, বাড়িতে কোনও অশান্তি হয়নি। তিনি বাইরে ছিলেন। পরে তাঁকে ডেকে এই ঘটনার কথা জানানো হয়। পরিবারের সদস্য শ্যামলী মুর্মু জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোনও ঝামেলা ছিল না। ছেলেটির শারীরিক সমস্যা ছিল। তবে সে আঁচ সংসারে পড়েনি কখনও। ফলে কেন এই ঘটনা ঘটল তাঁরা তা বুঝতে পারছেন না।
দেহ উদ্ধার করে পুলিশ বুধবার ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। মা ও ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী, তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরেই স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে শিশুটির দেহে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ।
FAQs
১. পাণ্ডুয়ায় মৃত মা ও ছেলের নাম কী?
মৃত মহিলার নাম ডলি মুর্মু (৩১) এবং তাঁর ছেলের নাম রনিত মুর্মু (১২)।
২. ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে?
হুগলি জেলার পাণ্ডুয়া থানার অন্তর্গত বৈঁচিগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।
৩. শেষবার মা ও ছেলেকে কখন একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল?
পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে তাঁরা একসঙ্গে রুটি ও ঘুগনি খেয়েছিলেন।
৪. মৃত্যুর কারণ কী?
মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
৫. ঘটনার তদন্ত কে করছে?
পাণ্ডুয়া থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। দেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইমামবাড়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।