স্বাস্থ্যসেবাকে ভোগান্তিমুক্ত করতে ও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকার চলতি বছরের মার্চ থেকে চালু করেছে ই-অ্যাপয়েনমেন্ট সেবা। এটুআই (অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট) আয়োজিত হেলথ চ্যালেঞ্জ ফান্ড ২০২০-এর অর্থায়নে ‘মেডিক্যাল আউটডোর পেশেন্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম ইউজিং ইমার্জিং টেকনোলজি’ শীর্ষক উদ্ভাবনী উদ্যোগের যাত্রা শুরু হয়।
এই অনলাইন আউটডোর অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে মানুষ ঘরে বসেই আউটডোরের টিকিট বুকিং ও পেমেন্ট করতে পারছে। এ ছাড়া, অনলাইনে হাসপাতাল, বিভাগ, তারিখ ও সময়ের স্লট নির্বাচন করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ারও সুবিধা রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সহজ ও সময় উপযোগী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতেই এ উদ্যোগ। অধিদপ্তর সূত্র বলছে, এ সেবা নেওয়ার জন্য এখন পর্যন্ত নিবন্ধন করেছেন ৭৪ হাজার ৭১১ জন। মোট ৬৪টি জেলার স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া যাচ্ছে এখান থেকে। সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা যেকোনো সময় অনলাইনে বুকিংয়ের সুবিধা থাকছে। এ ছাড়া, রোগীর নিবন্ধিত হেলথ আইডিতে চিকিৎসার ইতিহাস সংরক্ষিত থাকবে। সার্চ ইঞ্জিনে ‘ই-অ্যাপয়নমেন্ট’ সার্চ করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে বাংলাদেশের যেকোনো নাগরিক এখানে নিবন্ধন করতে পারবে। নিবন্ধন করতে লাগবে জাতীয় পরিচয়পত্র, সচল মোবাইল নাম্বার, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা। ১৮ বছরের কম হলে জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে নিবন্ধন করা যাবে।
রাজধানীর কিছু প্রধান হাসপাতালে এই সেবা চালু করা হয়েছে। ঢাকার যেসব হাসপাতালে
ই-অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেবা রয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে— কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, ন্যাশনাল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট অ্যান্ড হাসপাতাল, জাতীয় ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিআরএইচ), জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইসিভিডি), জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইডিসিএইচ), জাতীয় নাক-কান-গলা ইনস্টিটিউট (ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ইএনটি), জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (এনআইকেডিইউ), জাতীয় ল্যাবরেটরি মেডিসিন ও রেফারেল সেন্টার, জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল, জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল (এনআইও), জাতীয় ট্রমাটোলজি ও অর্থোপেডিক পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) এবং স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতাল।
ঢাকার বাইরে ই-অ্যাপয়েন্টমেন্ট সেবা থাকা হাসপাতালগুলোর মধ্যে রয়েছে— বাগেরহাট জেলা হাসপাতাল, ঝালকাঠি জেলা হাসপাতাল, কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, কুষ্টিয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, নরসিংদী ১০০ শয্যা জেলা হাসপাতাল, নরসিংদী জেলা হাসপাতাল, নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতাল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএস শাখার উপ-পরিচালক ডা. কুলসুম আরা আমাদের সময়কে বলেন, ই-অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেমটি সব হাসপাতালে চালু নেই। প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলে এবং তাদের কতগুলো ডিপার্টমেন্ট বা কতজন রোগীকে তারা ম্যানেজ করতে পারবে— তার ওপর ভিত্তি করে চালু করা হয়। অচিরেই আরও ১৮টি হাসপাতালে এই সেবা চালু হবে। কার্যক্রম বাড়লে মানুষকে জানানোর জন্য প্রচারণা বাড়ানো হবে।
