কালবেলা · সাধারণ
পূজার আগে দিন-রাত ব্যস্ত প্রতিমা শিল্পীরা
১৩/১০/২০২৬

শরতের নীল আকাশে কাশফুলের দোলা, বাতাসে আগমনির সুর। দরজায় কড়া নাড়ছে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা।
উৎসবের এই আবাহনে পাবনার পাড়া-মহল্লার মণ্ডপে মণ্ডপে চলছে প্রতিমা গড়ার শেষ প্রস্তুতি। কোথাও মাটি মাখা হচ্ছে, কোথাও খড়ের কাঠামোয় চলছে মাটির প্রলেপ, কোথাও রোদে শুকাচ্ছে সদ্য গড়া দেবীমূর্তি, আবার কোথাও শিল্পীর তুলিতে ফুটে উঠছে দেবীর আয়ত চোখ।
পাবনা জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ জানিয়েছে, এবার জেলার ৩৫৫টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। পঞ্জিকা অনুযায়ী আগামী ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে মণ্ডপে দেবীর অধিষ্ঠান হবে। পাঁচ দিনের উৎসবের পর ২০ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের আয়োজন।
এদিকে চাটমোহর উপজেলার নিমাইচড়া ইউনিয়নের বেলগাছি পালপাড়ায় সরেজমিনে দেখা যায়, কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থামছে না কারিগরদের হাত। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও সমান তালে কাজ করছেন। বংশপরম্পরায় মৃৎশিল্পের সঙ্গে জড়িত এই পাড়ার তৈরি প্রতিমা শুধু স্থানীয় মণ্ডপেই নয়, যায় দেশের নানা প্রান্তেও। ইতোমধ্যে বেশ কিছু প্রতিমা গন্তব্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মৃৎশিল্পী দুলাল পাল বলেন, ‘বেশিরভাগ প্রতিমার মাটির কাজ শেষ। এখন রোদে শুকানো হচ্ছে, কয়েকটিতে রঙের কাজও শুরু হয়েছে। নকশা ঠিক হলো কি না, বারবার মিলিয়ে দেখতে হয়। একটি প্রতিমায় রং করতেই অন্তত দুই দিন লাগে। হাতে সময় কম, তাই দিনরাত এক করে কাজ করতে হচ্ছে।’
৪০ বছর ধরে এই পেশায় আছেন ভাঙ্গুড়ার প্রকাশ চন্দ্র পাল। এবার তিনি ১০টি প্রতিমা গড়ছেন। তিনি বলেন, ‘আকারভেদে একটি প্রতিমা তৈরিতে এক সপ্তাহ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত লাগে, আর প্রতিটির জন্য প্রয়োজন হয় তিন থেকে পাঁচজন সহকারী শিল্পীর।’
কারিগর অপূর্ব পাল ও সনাতন পাল বলেন, ‘আকার ও নকশার ওপর নির্ভর করে প্রতিমার দাম। এবার ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত মূল্যের প্রতিমা তৈরি হচ্ছে।’
নারী কারিগর দীপা রানী পাল ও সুচিত্রা রানী পাল বলেন, ‘বছরের অন্য সময় কাজ কম থাকলেও পূজার এ সময়টায় চাপ বাড়ে। পরিবারের ছোট-বড় সবাই মিলে কাজ করায় আয়-রোজগারও কিছুটা বাড়ে।’
উৎসবের এই রঙিন আয়োজনের আড়ালে রয়েছে কারিগরদের না-বলা কষ্ট। ফটিক পাল ও রাম চন্দ্র পাল বলেন, ‘খড়, মাটি, কাঠ ও রঙের দাম আগের চেয়ে বেড়েছে, কিন্তু সেই অনুপাতে বাড়েনি মজুরি। এত পরিশ্রমের পরও একটি প্রতিমায় লাভ থাকে সামান্যই। অন্য কাজ জানা নেই বলে বাপ-দাদার শেখানো এই পেশাকেই আঁকড়ে ধরে টিকে আছি।’
নির্বিঘ্ন ও আনন্দমুখর পরিবেশে উৎসব উদযাপনে প্রস্তুত আছে প্রশাসন। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি প্রভাষ কুমার ভদ্র বলেন, ‘আসন্ন দুর্গাপূজার উৎসব নির্ভীঘ্ন ও আনন্দমুখর পরিবেশের সম্পূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে।’
জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পূজা শান্তিপূর্ণ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। এছাড়া প্রবেশপথ নির্মাণ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং প্রতিটি মণ্ডপে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সার্বক্ষণিক দায়িত্ব দেওয়া হবে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য বাহিনীর যৌথ নজরদারিও থাকবে।’
মূল প্রতিবেদনে যান ↗