কালবেলা · জীবনধারা
চোখে কিছু পড়ে অস্বস্তি! না কচলে ময়লা দূর করার উপায়
১৫/১০/২০২৬

শুষ্ক মৌসুম সমাগত। ধূলি-ধূসরিত শহরের বাতাসে সাধারণ চলাফেরাও এখন কষ্টকর। রাস্তায় হাঁটতে গেলে অনেক সময় চোখে ধুলাবালি, পোকা, প্রসাধনসামগ্রী বা কোনো ক্ষুদ্র কণা পড়ে যেতেই পারে। এতে তৈরি হয় তীব্র অস্বস্তি ও যন্ত্রণা। এমন পরিস্থিতিতে স্বভাব বশেই আমরা চোখের পাতা ডলে ডলে রক্তনালি লাল করে ফেলি। অথচ চোখের পাতা চুলকালে বা ধুলাবালি গেলে তাড়াহুড়ো করে চোখ কচলাতে গিয়ে অনেকেই বড় বিপদ ডেকে আনেন। এতে চোখের কর্নিয়ায় মারাত্মক আঘাত, খাঁজ, ঘা (আলসার) বা স্থায়ী ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। এমনকি সামান্য অসচেতনতা কেড়ে নিতে পারে চোখের দৃষ্টি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখে কোনো কিছু আটকে গেলে সচেতনভাবে ঘরোয়া উপায়ে তা সাবধানে দূর করতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক চোখ সুরক্ষিত রেখে অস্বস্তি দূর করার কার্যকরী উপায়গুলো।
চোখে কী কী পড়তে পারে এবং এর লক্ষণ
চোখে বহিরাগত বস্তু ঢোকা খুবই সাধারণ ঘটনা। সাধারণত যেসব জিনিস চোখে পড়ে:
• ধুলোবালি ও পোকা: বাতাসে দৈনন্দিন চলাফেরায় ধুলোবালি কিংবা পোকা ভেতরে ঢুকে যাওয়া অত্যন্ত সাধারণ।
• কসমেটিকস ও আঠা: কৃত্রিম চোখের পাতা লাগানোর আঠা, আইলাইনার বা মাসকারার শুকনো গুঁড়ো।
• শিল্পকারখানার কণা: ফাইবারগ্লাস, ধাতু বা কাঠ কাটার ক্ষুদ্র টুকরো (বিশেষ করে যারা নির্মাণ বা শিল্পকাজে যুক্ত)।
• কন্টাক্ট লেন্স: লেন্স অনেক সময় চোখের ভেতরে ভাঁজ হয়ে লুকিয়ে থাকতে পারে, কিংবা পুরোনো লেন্সের ওপর ভুলবশত নতুন লেন্স পরে ফেললে অস্বস্তি হয়।
লক্ষণ: চোখ জ্বালাপোড়া করা, খসখসে অনুভূতি হওয়া, চোখে ঝাপসা দেখা, চোখ লাল হওয়া এবং অতিরিক্ত আলোতে অস্বস্তি লাগা।
চোখ থেকে ময়লা বা বস্তু দূর করার সঠিক নিয়ম
ছোটখাটো বস্তু যেমন—চোখের পাতা, বালু বা মাসকারার গুঁড়া পড়লে ঘন ঘন পলক ফেলা এবং চোখের স্বাভাবিক জলের প্রবাহই তা বের করে দিতে যথেষ্ট। তবে তাতে কাজ না হলে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
১. হাত ভালো করে ধুয়ে নিন: চোখে হাত দেওয়ার আগে অবশ্যই সাবান দিয়ে হাত পরিষ্কার করে ধুয়ে নিন।
২. পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করুন: পর্যাপ্ত আলো আছে এমন জায়গায় দাঁড়িয়ে বা আয়নার সামনে কাজ করুন।
৩. চোখ পরীক্ষা করুন: পরিষ্কার আঙুল দিয়ে নিচের পাতা সাবধানে নামিয়ে কিংবা কটন বাড দিয়ে ওপরের পাতা আলতো করে তুলে ভেতরের অংশ পরীক্ষা করুন।
৪. জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন: বস্তুটি যদি ছোট হয় এবং ভেতরে গেঁথে না থাকে, তবে পরিষ্কার পানির ঝাপপা দিন বা কৃত্রিম চোখের পানি ব্যবহার করে ধুয়ে ফেলুন।
মনে রাখবেন: কৃত্রিম ড্রপ বা পানি দিয়ে ময়লা না বের হলে নিজে থেকে আর চাপ না দিয়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
চোখে রাসায়নিক বা কোনো তরল পদার্থ গেলে করণীয়
ডিটারজেন্ট, ব্লিচ, অ্যামোনিয়া বা কোনো শক্তিশালী জীবাণুনাশক তরল চোখে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে ব্যবস্থা নিতে হবে:
• দ্রুত ট্যাপের পানিতে ধুয়ে ফেলুন: ব্লিচের মতো উচ্চ পিএইচযুক্ত তরল চোখের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে। তাই এক মুহূর্ত দেরি না করে দ্রুত কলের ট্যাপ ছেড়ে চোখ ধুতে হবে। এমনকি ইমার্জেন্সি রুমে যাওয়ার জন্যও অপেক্ষা করা যাবে না, সঙ্গে সঙ্গেই জল দিতে হবে।
• অবশ্যই হাসপাতালে যান: পানি দিয়ে ভালো করে ধোয়ার পরও ভেতরের টিস্যুর ক্ষতি হতে পারে। তাই প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে চলে যেতে হবে।
যেসব ভুল ভুলেও করবেন না
• চোখ কচলাবেন না: এটি সবচেয়ে বড় ভুল। চোখ কচলালে বস্তুটির ধারালো অংশ কর্নিয়ার গভীরে ঢুকে ক্ষতি করতে পারে। এ ছাড়া হাতে থাকা জীবাণু চোখে প্রবেশ করে ইনফেকশন বাড়ায়।
• টুইজার বা সূচ ব্যবহার করবেন না: চিমটি, টুথপিক, সূচ বা মেটালের কোনো বস্তু দিয়ে চোখ থেকে ময়লা তোলার চেষ্টা করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ।
• কন্টাক্ট লেন্স পরা থেকে বিরত থাকুন: চোখে অস্বস্তি বা ব্যথা থাকলে কন্টাক্ট লেন্স পরবেন না। চোখ সম্পূর্ণ সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত চশমা ব্যবহার করুন।
• গেঁথে থাকা বস্তু নিজে বের করবেন না: চোখে যদি কোনো ধাতব বা ধারালো কিছু গেঁথে থাকে বা পাতা উল্টে জোর করে বের করতে হয়, তবে তা নিজে না করে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।
চিকিৎসকের পরামর্শ
চোখে কোনো সমস্যা হওয়ার পর যদি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অবস্থার উন্নতি না হয়—যেমন চোখের ফোলাভাব না কমা, অতিরিক্ত লাল হওয়া, ক্রমাগত জল পড়া কিংবা দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে আসা—তবে আর দেরি না করে অবিলম্বে চক্ষু চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সামান্য অসচেতনতা কেড়ে নিতে পারে চোখের দৃষ্টি। তাই সচেতন থাকুন, সঠিক উপায়ে চোখের যত্ন নিন এবং নিজের অমূল্য চোখকে সুরক্ষিত রাখুন!
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মূল প্রতিবেদনে যান ↗