লালমনিরহাট প্রতিনিধি:
লালমনিরহাট সদরে যৌতুকের ২ লাখ টাকা না পেয়ে রনি আক্তার (২৭) নামে ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা মো. আনোয়ার হোসেন (৪৯) বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় ৫ জনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে সদর উপজেলার রাজপুর (বালাপাড়া) এলাকার মো. আনোয়ার হোসেনের মেয়ে রনি আক্তারের সাথে হারাটি ইউনিয়নের হিরামানিক গ্রামের মো. হারুন অর রশিদের ছেলে মো. আনারুল ইসলামের (৩২) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বর্তমানে তাদের আলিফ নামে ৮ বছরের একটি সন্তান রয়েছে এবং রনি আক্তার ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই স্বামী আনারুল ইসলাম যৌতুকের জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং বাবার বাড়ি থেকে ২ লাখ টাকা এনে দেওয়ার জন্য রনি আক্তারের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে শালিস-বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
সর্বশেষ গত ১০ অক্টোবর বিকেল আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটে শ্বশুরবাড়ির অন্য স্বজনদের উসকানিতে স্বামী আনারুল ইসলাম যৌতুকের টাকার জন্য চাপ দেন। টাকা এনে দিতে অস্বীকার করলে গৃহবধূকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়, যার ফলে তার শরীরে ফোলা ও কালশিটে জখম হয়। পরে প্রতিবেশীদের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে লালমনিরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন— স্বামী মো. আনারুল ইসলাম (৩২), শাশুড়ি মোছা. আনো বেগম (৫০), শ্বশুর মো. হারুন অর রশিদ (৫৫), ননদ মোছা. শারমিন আক্তার (২৫) এবং স্থানীয় মো. স্বপন (৩০)।
ভুক্তভোগী গৃহবধূর পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। লালমনিরহাট সদর থানা পুলিশ জানায়, অভিযোগ পেয়েছেন এবং তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
