প্রকাশ: ২১:২২, শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ |
MR Rahel অনলাইন ভার্সন
মৌলভীবাজার২৪ ডেস্ক : নানা অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে বিতর্কের মুখে থাকা হবিগঞ্জ জেলা কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাস গুপ্তকে মৌলভীবাজারে বদলি করায় স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে প্রশ্ন ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাঁকে মৌলভীবাজারে পদায়ন না করে অন্য কোনো স্থানে বদলি করার দাবি জানিয়েছেন সাংস্কৃতিককর্মীরা।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ অক্টোবর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক প্রজ্ঞাপনে অসিত বরণ দাস গুপ্তকে তাৎক্ষণিকভাবে মৌলভীবাজারে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি হবিগঞ্জে একটি হামদ-নাত প্রতিযোগিতায় বিচারক নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ সেপ্টেম্বর ‘হবিগঞ্জের সচেতন নাগরিক ও সাংস্কৃতিককর্মী সমাজ’-এর ব্যানারে প্রায় ১৫০ জনের স্বাক্ষরসংবলিত একটি আবেদন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বরাবর জমা দেওয়া হয়। এতে কালচারাল অফিসার অসিত বরণ দাস গুপ্ত ও তাঁর সহকারী বিকাশ পালের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয় বলে জানা গেছে।
এ ছাড়া সরকারি অনুদান বিতরণে স্বজনপ্রীতি, একাডেমি প্রাঙ্গণে দোকান বসিয়ে ভাড়া আদায়, নজরুল বর্ষ উদযাপনের ব্যয়ে অনিয়ম, একাডেমির আলো ও সাউন্ড সরঞ্জাম হারিয়ে যাওয়া এবং একাডেমি পদক প্রদানে অস্বচ্ছতার মতো একাধিক অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এমন পরিস্থিতিতে মৌলভীবাজারে তাঁকে পদায়নের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিককর্মীদের একটি অংশ। তাঁদের দাবি, যাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও বিতর্ক রয়েছে, তাঁকে মৌলভীবাজারে পদায়ন না করে অন্যত্র বদলি করা হোক।
সাংস্কৃতিককর্মীদের দাবি, মৌলভীবাজারের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের স্বাভাবিক পরিবেশ, স্বচ্ছতা ও পারস্পরিক আস্থা বজায় রাখতে এ বিষয়ে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির কর্তৃপক্ষের পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সাংস্কৃতিককর্মীদের প্রত্যাশা, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি মৌলভীবাজারে তাঁর পদায়নের বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।
