শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে শুক্রবার ১৬ অক্টোবর ষষ্ঠীর মধ্যদিয়ে। বৃহস্পতিবার ১৫ অক্টোবর দেবীর বোধন। আর এই শারদীয় দুর্গোৎসরের জন্য কক্সবাজার জেলার ৩২৪টি মণ্ডপ প্রস্তুতি শেষ। আর ২১ অক্টোবর কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের দেশের সর্ববৃহৎ প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তা। যার জন্য সকল প্রস্তুতি শেষ করেছে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা কমিটি।
প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর জানিয়ে, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে শেষ করতে চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে, এবার কক্সবাজার জেলায় ৩২৪টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫৪টি প্রতিমাপূজার মণ্ডপ এবং ১৭০টি ঘটপূজা। গত বছরের তুলনায় এবার পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ৬ টি। এর মধ্যে জেলায় এবার সবচেয়ে বেশি পূজামণ্ডপ চকরিয়া উপজেলায়। সেখানে ৭১টি মণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় ৪৪টি, রামুতে ৩৭টি, কক্সবাজার সদর উপজেলায় ৩১টি, ঈদগাঁওয়ে ২৯টি, মহেশখালী উপজেলায় ২৮টি, কক্সবাজার পৌরসভায় ২৬টি, চকরিয়া পৌরসভায় ২৫টি, পেকুয়া ও উখিয়ায় ৯ টি করে, মহেশখালী পৌরসভায় ৬ টি এবং টেকনাফে ৬ টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব আয়োজনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
উৎসব নির্বিঘ্ন করতে স্ব স্ব মণ্ডপ কমিটি প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি উদয় শংকর পাল মিঠু।
তিনি জানান, ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান যথাযথভাবে পালনের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের যাতায়াত, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।১৬অক্টোবর (শুক্রবার) মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হবে পাঁচ দিনব্যাপী দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে সনাতনীদের প্রাণের এ উৎসব। অতীতের মতো এবারেও কক্সবাজার সৈকতের লাবণী পয়েন্টে বিসর্জন উপলক্ষ্যে সম্প্রীতির মিলনমেলা হবে। যেখানে পুজারী সহ অন্তত ৪-৫ লাখ মানুষের সমাগাম হবে।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কক্সবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক স্বপন দাশ জানান, পূজা উপলক্ষে রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তাদের পক্ষে নিরাপত্তার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হবে এটাই আশা।
কক্সবাজার জেলা পুলিশের ফোকাল পয়েন্ট অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. অহিদুর রহমান বলেন, সনাতনীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে শৃংখলাবাহিনীর নানা শাখার সদস্যরা, ট্রাফিক ও ট্যুরিস্ট পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তার পাশাপাশি কক্সবাজারে আগত পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া রয়েছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১ টায় পূর্জার সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন এবং পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে আলোচনা করেছেন এসআরবি-১৫ ব্যটালিয়ন।
ওই সময় অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার মাহমুদুর রহমান জানান, পূজায় সার্বিক নিরাপত্তায় প্রতিটি মণ্ডপ কেন্দ্রিক এসআরবির টহল থাকবে। নিয়মিত নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রেখে নিরাপত্তার জন্য সার্বিক প্রস্তুতি রয়েছে।
