অর্থ চাওয়ার অভিযোগে ট্রাম্পের অসন্তোষ, চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে মার্কিন রাষ্ট্রদূত
চ্যানেল আই অনলাইনপ্রকাশ:
ট্রাম্পের এক রাজনৈতিক অনুদানকারীর কাছে অর্থ চাওয়ার অভিযোগে গ্রিসে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত কিম্বার্লি গিলফয়েলের ওপর অসন্তুষ্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাকে বরখাস্ত করার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তিনি। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে গিলফয়েলের পাঠানো কিছু বার্তার কথা প্রকাশের পর এ বিতর্ক সামনে এসেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তার আইনজীবীরা বলেছেন, এটি ছিল পাওনা পারিশ্রমিক চাওয়ার বিষয়।
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে ও তথ্য জানা গেছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি এবং আমরা অসন্তুষ্ট।’
দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের রাজনৈতিক অনুদানকারী এরিক ডিটার্সের কাছে নিজের বড় অঙ্কের ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের জন্য অর্থ চেয়েছিলেন গিলফয়েল। এর বিনিময়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ করে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
প্রতিবেদনে গিলফয়েল ও ডিটার্সের মধ্যে আদান-প্রদান করা কিছু বার্তার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। সিগন্যাল অ্যাপে পাঠানো একটি বার্তায় গিলফয়েল লিখেছিলেন, আমেরিকান এক্সপ্রেসে অর্থ পাঠালে কোথাও তার রেকর্ড থাকবে না। গত বছরের জুলাইয়ে মার্কিন সিনেটে তার নিয়োগ অনুমোদনের শুনানির কয়েক দিন আগেও অর্থ চেয়ে বার্তা পাঠানো হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে ডিটার্স শেষ পর্যন্ত তাকে কোনো অর্থ দেননি।
গিলফয়েলের আইনজীবীরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাদের দাবি, ডিটার্সের কাছে গিলফয়েলের প্রায় দেড় লাখ ডলার পাওনা রয়েছে। রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে ডিটার্সের জন্য ভাষণ তৈরি ও পরামর্শ দেওয়ার কাজ করেছিলেন তিনি। ওই কাজের পারিশ্রমিক হিসেবেই অর্থ চাওয়া হয়েছিল। আইনজীবীদের মতে, পাওনা অর্থ চাওয়ার মধ্যে দুর্নীতির কোনো বিষয় নেই। প্রকাশিত বার্তাগুলোর সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
গিলফয়েলের বিরুদ্ধে আরও কিছু অভিযোগের কথা জানিয়েছে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েকটি অডিও রেকর্ডিংয়ে তাকে গ্রিসের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ নিয়ে কথা বলতে শোনা গেছে। ওই ব্যবসায়ীদের কেউ কেউ তার বিলাসবহুল ভ্রমণ ও ব্যক্তিগত বিমানে যাতায়াতের খরচ বহন করতেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া গ্রিসের এক কর্মকর্তার কাছে যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করতে পারে বলে মন্তব্য করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের তদন্ত দাবি করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের উভয় কক্ষের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও গিলফয়েলের আচরণে অসন্তুষ্ট।
৫৭ বছর বয়সী গিলফয়েল একসময় ফক্স নিউজের উপস্থাপক ছিলেন। এর আগে তিনি সান ফ্রান্সিসকো ও লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রসিকিউটর হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে ফক্স নিউজ ছাড়ার পর ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারে যোগ দেন তিনি। একই বছর ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুরু হয় এবং পরে তাদের বাগদান হয়। ২০২৪ সালে তাদের সম্পর্কের অবসান ঘটে।
ওই বছরই ট্রাম্প তাকে গ্রিসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত করেন। নিয়োগের সময় আইন, গণমাধ্যম ও রাজনীতিতে তার অভিজ্ঞতার প্রশংসা করেছিলেন ট্রাম্প।
তবে সাম্প্রতিক অভিযোগের পর রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তাকে বরখাস্ত করার বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…
