প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে গত আট মাসে অতিরিক্ত ৪১২ কোটি ডলার ব্যয় করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতিতেও মাতারবাড়ী এলাকাকে জ্বালানি কেন্দ্র (হাব) হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ সোমবার তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তৈরি পোশাক কারখানায় পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত (ইএসজি) কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং এ ক্ষেত্রে সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে বিজিএমইএ।
সকালে ঢাকার উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে প্ল্যাটফর্মটির উদ্বোধন করা হয়। প্রাথমিকভাবে ৩২৬টি প্রতিষ্ঠান এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এম মাসরুর রিয়াজ, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের গবেষণা পরিচালক মুন্সী সোলায়মান ও বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, শুধু কম দামের পণ্য দিয়ে এখন আর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা যাবে না। আগামী প্রজন্মের জন্য পরিবেশগত মানদণ্ড মেনে চলা জরুরি।
বিনিয়োগ বাড়াতে নীতির ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করতে সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। করনীতিতে পাঁচ বছরের জন্য ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার উদ্যোগও এর অংশ।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, সংগঠনের সদস্য কারখানার জন্য ইএসজি অনুসরণ বাধ্যতামূলক করতে চান তাঁরা। এ বিষয়ে বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা করা হবে। স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের সময় পিছিয়ে দেওয়া হলে এই সময়ে এ ধরনের প্রস্তুতিমূলক কাজ করার সুযোগ পাওয়া যাবে।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, ইউরোপের ৭০ শতাংশ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৭৩ শতাংশ ক্রেতা পরিবেশবান্ধব ব্যবসা ও উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত হতে চান। তাঁরা পণ্যের উৎপাদনের প্রক্রিয়ায় কতটা কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে, সেটিও জানতে চান। ফলে ইএসজি অনুসরণ এখন বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতার অংশ হয়ে উঠেছে। ভিয়েতনাম ও ভারতে এ ধরনের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ উৎপাদন খাতে প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াবে।
