জ্বর, সর্দি, কাশি থেকে শুরু করে পেটের রোগ— সহজে না সারলেই শুরু করে দিতে হবে অ্যান্টিবায়োটিক! কিন্তু কখনও কি খেয়াল করে দেখেছেন, এই অ্যান্টিবায়োটিক বা কড়া ডোজ়ের ওষুধ খাওয়ার সময় ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। কারও কারও ক্ষেত্রে ত্বকে শুকনো চামড়া উঠেও আসে। যাঁদের তৈলাক্ত ত্বক তাঁদেরও এমন হতে পারে। কারণ, সব ক্ষেত্রে না হলেও কিছু অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের জল ও তেলের ভারসাম্যে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
কেন ত্বক শুষ্ক হয়?
১. আর্দ্রতায় প্রভাব পড়ে: কড়া ওষুধ ত্বকের সেবাম বা প্রাকৃতিক তেল উৎপাদন সাময়িকভাবে কমিয়ে দেয়, ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বাড়ে না।
২. মাইক্রোবায়োম ক্ষয়: অ্যান্টিবায়োটিক শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার পাশাপাশি ভালো ব্যাকটেরিয়াও ধ্বংস করে, যা ত্বকের নিজস্ব রক্ষাকবচ দুর্বল করে দেয়।
৩. ডিহাইড্রেশন: ওষুধের ফলে শরীর থেকে জল দ্রুত শোষিত হতে পারে, যা ত্বককে রুক্ষ ও খসখসে করে তোলে।
অ্যান্টিবায়োটিক খেলে যত্ন কীভাবে নেবেন?
১। দিনে অন্তত ২.৫ থেকে ৩ লিটার জল ও ডাবের জল বা তরল খাবার খান, যা শরীরকে ভেতর থেকে আর্দ্র রাখবে।
২। অ্যালকোহল ও পারফিউম-মুক্ত জেন্টল ক্লিনজার ব্যবহার করুন। স্ক্রাব বা এক্সফোলিয়েশন পুরোপুরি বন্ধ রাখুন।
৩। মুখ ও শরীরে হাই্যালুরোনিক অ্যাসিড বা সেরামাইড সমৃদ্ধ ময়েশ্চারাইজার দিনে অন্তত দু’বার ব্যবহার করুন।
৪। ডক্সিসাইক্লিন বা টেট্রাসাইক্লিনের মতো অ্যান্টিবায়োটিক ত্বককে সূর্যের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। তাই বাইরে বের হলে সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
৫। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে দই বা প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন, যা অন্ত্রের সাথে সাথে ত্বকের স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।
তবে একটি বিষয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারেন। অ্যান্টিবায়োটিক কোর্স শেষ হলে ত্বক আবার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। তবে ত্বকে অতিরিক্ত র্যাশ, চুলকানি বা লালচে ভাব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
