চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে ৩৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর ক্যাম্পাস থেকে বের করে এনেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপার (এসপি)।
মঙ্গলবার বিকেলে ক্যাম্পাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁকে বের করে আনেন তাঁরা।
- Advertisement -
এ সময় শিক্ষার্থীরা ডিসি-এসপির কাছে নিশ্চয়তা চান, উপাচার্যের চুয়েট থেকে এ যাত্রাই যেন শেষ যাত্রা হয়। একপর্যায়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে উপাচার্যকে বের করে নিয়ে যান তাঁরা। অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাও চান ডিসি-এসপি।
জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, উপাচার্য বুকে ব্যথা ও শারীরিক অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর উচ্চ রক্তচাপের বিষয়টি জানিয়েছেন। এ অবস্থায় তাঁর সুচিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁরা ক্যাম্পাসে এসেছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সরকারের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের এক প্রতিনিধি বলেন, তাঁদের আন্দোলনের মূল দাবি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহাল করা। বর্তমান উপাচার্যের প্রতি ব্যক্তিগত বিরোধ থেকে তাঁরা আন্দোলন করছেন না। তবে বর্তমান উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিও এখন সামনে এসেছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাঁদের বাসে হামলা, শিক্ষার্থীদের মারধর এবং চালককে আঘাত করার ঘটনায় তাঁরা প্রশাসনের কাছ থেকে কার্যকর সহায়তা পাননি। এসব ঘটনার বিচারও দাবি করেন তাঁরা।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, সোমবার উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর তাঁকে কার্যালয় ছাড়ার জন্য সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তিনি তা না করায় তাঁকে অবরুদ্ধ করা হয়। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও পানি, খাবার ও ওষুধের প্রয়োজন হলে তা সরবরাহ করা হয়েছে বলে দাবি করেন শিক্ষার্থীদের ওই প্রতিনিধি।
এর আগে সোমবার দুপুর ১২টার পর থেকে উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ ছিলেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে ভবনের ফটকে তালা দেওয়ার পাশাপাশি পানি ও বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। এতে উপাচার্যসহ অন্তত ১১ জন ভবনের ভেতরে আটকা পড়েন।
মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় উপাচার্য বুকে ব্যথা অনুভব করার কথা জানান। তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নিতে চান বলেও জানান।
‘আমার বুকের লেফট সাইডে ব্যথা করছে। আমি ডাক্তার দেখাতে চাই, হসপিটালাইজড হতে চাই,’ বলেন উপাচার্য।
এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিন তাঁকে পরীক্ষা করে রক্তচাপ ও পালস স্বাভাবিক থাকার কথা জানান। পরে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা টিপুল কান্তি দে উপাচার্যের রক্তচাপ ১৫০/১০০ পান। বুকে ব্যথার কথা শুনে তাঁকে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে অপসারণ করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর থেকে সাবেক উপাচার্যকে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি পালন করছেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।
গতকাল সোমবার সকালে উপাচার্য ভবনে প্রবেশের পর শিক্ষার্থীরা তাঁকে কার্যালয় ছাড়ার সময় বেঁধে দেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে দুপুরে ভবনের ফটকে আবারও তালা দেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের দাবি ছিল, উপাচার্য পদত্যাগ করলেই তাঁরা তালা খুলে দেবেন।
