নাজিয়া হক অর্ষা বলেন, ‘আমি সাধারণত ফটোশুট করি না। তবে থিমটা শুনে ভীষণ ভালো লেগেছে।৷ পাহাড়ে নারীরাই তো মূলত সবকিছু সামলায়। তাদের সঙ্গে দুর্গার শক্তির ধারণাটা যেভাবে ব্লেন্ড করা হয়েছে, সেটা অন্য রকম ছিল; সেজন্যই শুটটা করেছি।
প্রকৃতির দুর্গমতা আর পাহাড়ের অনন্য সৌন্দর্যের পটভূমিতে দেবী দুর্গার দশভূজা রূপে এবার ধরা দিয়েছেন নাজিয়া হক অর্ষা। তবে এ আয়োজনের কেন্দ্রে কেবল দেবীর প্রতিমূর্তি নয়, রয়েছেন পাহাড়ি জনপদের সে নারীরাও, যাদের জীবনসংগ্রাম, দায়িত্বশীলতা ও অদম্য সহনশীলতার মধ্যে প্রতিফলিত হয় শক্তির এক জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। এ ভাবনা থেকেই নির্মিত হয়েছে বিশেষ কনসেপ্ট ফটো সিরিজ ‘পাহাড়ের নারী শক্তি ও দুর্গা’।
বান্দরবান জেলার রুমা উপজেলা, রূপসী সাংগু নদী, মুনলাই পাড়াসহ বিভিন্ন পাহাড়ি জনপদে ধারণ করা হয়েছে সিরিজটির দৃশ্য। প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করে টিকে থাকা পাহাড়ি নারীদের জীবনযাপন, দায়িত্ববোধ ও ঐতিহ্যবাহী জীবনধারাকে দেবী দুর্গার শক্তির প্রতীকের সঙ্গে মিলিয়ে উপস্থাপন করাই এ আলোকচিত্র প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য। এখানে দুর্গার রূপ যেন কেবল পৌরাণিক কোনো প্রতীক নয়, বরং প্রতিদিনের সংগ্রামে দৃঢ় থাকা নারীদের সাহস, সহনশীলতা ও মাতৃত্বের এক শিল্পিত রূপায়ণ।
পাহাড়ের দুর্গম এলাকায় গিয়ে এমন একটি চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলা অন্যরকম অভিজ্ঞতা ছিল, তবে চ্যালেঞ্জিং ছিল বলে জানান অভিনেত্রী নাজিয়া হক অর্ষা। পুরো সিরিজে কখনো মায়ের মতোই মায়াময়ী, কখনো প্রলয়ঙ্কারী রূপে দেখা গিয়েছে তাকে।
নাজিয়া হক অর্ষা বলেন, ‘আমি সাধারণত ফটোশুট করি না। তবে থিমটা শুনে ভীষণ ভালো লেগেছে।৷ পাহাড়ে নারীরাই তো মূলত সবকিছু সামলায়। তাদের সঙ্গে দুর্গার শক্তির ধারণাটা যেভাবে ব্লেন্ড করা হয়েছে, সেটা অন্য রকম ছিল; সেজন্যই শুটটা করেছি। তবে পাহাড়ে শুট করতে খুব কষ্ট হয়েছে। আবহাওয়া খুবই প্রতিকূল। তাছাড়া তাদের জীবনযাপনও অন্য রকম। তারা খুব তাড়াতাড়ি ওঠে, আবার খুব তাড়াতাড়ি ঘুমায়। সেসবের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়াটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে দর্শকের কাছ থেকে খুবই ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি, এটাই ভালো লাগার জায়গা।’
শিশুদের নিয়ে ফটো স্টোরি ‘আমাদের দুর্গারা চঞ্চল ও নিরাপদ থাকুক’
আলোকচিত্রী মো. নাজমুল হোসাইন জানান, ‘সাত বছর ধরে আমি দুর্গা চরিত্র নিয়ে কাজ করছি। এ পর্যন্ত নির্মাণ করেছি ১০টি দুর্গা সিরিজ। প্রতিটি আয়োজনেই দুর্গার পরিচিত রূপকে নতুন কোনো ভাবনা ও প্রেক্ষাপটে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছি। ২০২৪ সালে আমার নির্মিত “সমুদ্রের দুর্গা’’ সিরিজে দুর্গার চরিত্রে ছিলেন নওশাবা আহমেদ। সমুদ্রে প্লাস্টিক ফেলা নিষিদ্ধ করা এবং সমুদ্র পরিষ্কার রাখার সচেতনতা তৈরিই ছিল সে কাজের অন্যতম ভাবনা।’
সে ধারাবাহিকতার সর্বশেষ সংযোজন ‘পাহাড়ের নারী শক্তি ও দুর্গা’। এবার সমুদ্রের বদলে পাহাড়, আর পরিবেশ সচেতনতার বদলে শিল্পের কেন্দ্রে উঠে এসেছে পাহাড়ি নারীদের জীবনসংগ্রাম ও মাতৃরূপ। প্রকৃতির দুর্গমতা ও সৌন্দর্যের মধ্যে পাহাড়ি নারীদের অদম্য সংগ্রামকে তুলে ধরার এ অভিজ্ঞতা আলোকচিত্রীর ফটোগ্রাফি জীবনের অন্যতম সেরা প্রাপ্তি হয়ে থাকবে বলে তিনি জানান।
দুর্গাকে ঘিরে নাজমুলের এবারের কাজ শুধু পাহাড়েই সীমাবদ্ধ নয়। শিশুদের নিয়ে এ বছর তিনি নির্মাণ করেছেন ‘আমাদের দুর্গারা চঞ্চল ও নিরাপদ থাকুক’ শিরোনামের আরেকটি ফটো স্টোরি। সেখানেও উঠে এসেছে কুমারটুলির জীবনের নানা সংগ্রামের চিত্র। দুই আয়োজনের বিষয় আলাদা হলেও উভয়ের মধ্যেই রয়েছে দুর্গাকে সমকালীন জীবনের অভিজ্ঞতা, সংগ্রাম ও বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করে দেখার প্রয়াস।
