অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও লেখক রেজাউল করিম রনির নামে একটি নেইমপ্লেটের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল। কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ওই নেইমপ্লেট বাংলাদেশ টেলিভিশনের একটি কক্ষের; যেখানে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অ্যাক্টিভিস্ট রেজাউল করিম রনি বসেন।
এ বিষয়ে ডিজিটাল ইনভেস্টিগেটিভ মিডিয়া আউটলেট ‘দ্য ডিসেন্ট’ - এর ফেসবুকে একটি পোস্ট করা হয়। তারা নিশ্চিত হয়েছে ভাইরাল হওয়া ছবিটি বিটিভি ভবনে তোলা এবং সেখানে রেজাউল করিম রনি বসেন।
তবে রনি দাবি করেছেন, ছবিটি তার অফিসের এবং একই সাথে বলেছেন, বিটিভিতে তার কোনো অফিস নেই। তবে ছবিটি তার কোন অফিসে তোলা সেটা স্পষ্ট করে বলেননি তিনি।
বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন বলেছেন, ‘বিটিভির কোনো প্রোগ্রামের জন্য প্রয়োজন হলে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্নজনকে দিয়ে সব সময়েই কাজ করানো হয়ে থাকে। আমাদের একটা প্রোগ্রামের রিসার্চের জন্য তাকে (রেজাউল করিম রনি) রাখা হয়েছে ফ্রিল্যান্সার হিসেবে। সে এখানে আসে, একটা রুমে পাঁচজন বসে, সেই রুমে সেও (রেজাউল করিম রনি) বসে। এটা কোনো চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও না।’
এর বাইরেও বিটিভির অন্তত দুটি সূত্র নিশ্চিত করেছে, রেজাউল করিম রনির নেইমপ্লেটযুক্ত ছবিটি বিটিভি ভবনের।
একটি সূত্র জানায়, রেজাউল করিম রনি বসেন বিটিভির হেড অফিসে। ১২ তলা ভবনটির ৫ম তলায়। একই ফ্লোরেই ডিজি কাজী জেসিনের রুম। এক মাসের মতো হলো বসছেন রনি। বাংলাদেশ টেলিভিশনের বিভিন্ন কক্ষে যারা বসেন তাদের নাম এবং পদবি থাকে। এমনকী কে কোন গ্রেডের কর্মকর্তা সেটিও লেখা থাকে। কিন্তু রনির রুমের সামনের নেইমপ্লেটে সেটি নেই। শুধু নাম আছে,পদরি নেই।
তবে বিটিভিতে নিজের নামে কক্ষ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন রনি। তিনি বলেন, ‘কেন? বিটিভিতে হবে কেন? আমার নেমপ্লেট, আমার রুমের ছবি। বিটিভির হবে কেন?’
প্রশ্ন করা হয়, তার নেইমপ্লেটযুক্ত রুমটি কোথায় অবস্থিত? ‘জবান’ নামক যেই পত্রিকাটি তিনি সম্পাদনা করেন সেটির অফিসে কিনা?
তিনি উত্তরে শুধু বলেছেন, ‘আমার অফিসে’।
আবার প্রশ্ন করা হয়, ‘তাহলে আপনি কি বিটিভিতে কোনো অফিস করেন না?’
উত্তরে বলেন, ‘বিটিভিতে আমি তো জয়েন করি নাই। বিটিভিতে তো আমি চাকরি করি না, আমার রুম থাকবে কেন? আরে ভাই এটা কমনসেন্সের ব্যাপার না? যেখানে আমি জয়েন করি নাই, ইয়ে করি নাই, সেখানে আমার নামের রুম থাকবে কেন? আমি বিটিভিতে যাই, বসি, কাজ করি। আমি তো বিটিভিতে প্রোগ্রাম করি রেগুলার, হ্যাঁ বিটিভিতে আমি রেগুলার যাই। প্রত্যেক সপ্তাহে দুইবার, তিনবার যাই।’
আবার প্রশ্ন করা হয়, তার মানে বিটিভিতে আপনার নামে কোনো কক্ষ নেই এবং আপনি সেখানে বসেনও না?
উত্তরে শুধু বলেন, “হুম।”
সূত্র : দ্য ডিসেন্ট
