রাসায়নিক সারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও পরিবেশবান্ধব কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বাণিজ্যিকভাবে জৈব সার উৎপাদন করছে ‘মেসার্স চায়না এগ্রো ফার্ম’। ট্রাইকো-কম্পোস্ট, ভার্মি-কম্পোস্ট (কেঁচো সার) ও ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার উৎপাদন ও বাজারজাতের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সার সরবরাহ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
উপজেলার ১৩ নম্বর লক্ষিন্দর ইউনিয়নের উত্তর লক্ষিন্দর গ্রামের সিকদারবাড়ি এলাকায় উদ্যোক্তা সেলিম মিয়া ও তাঁর স্ত্রী মোছা. চায়না যৌথভাবে এ উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন। তাঁরা ওই গ্রামের হযরত আলী ও মাজেদা আক্তারের ছেলে সেলিম মিয়ার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছেন। যথাযথ প্রশাসনিক নিয়মে ট্রেড লাইসেন্স বুক নম্বর ০১ ও লাইসেন্স নম্বর ২৮-এর অধীনে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় কৃষকদের কাছে পরিচিতি পেয়েছে।
ফার্মটিতে উন্নত প্রক্রিয়ায় ট্রাইকো-কম্পোস্ট, ভার্মি-কম্পোস্ট এবং ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসযুক্ত ক্যালসিয়াম কার্বোনেট পাউডার প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, এসব জৈব সার কৃষিজমিতে ব্যবহারের ফলে মাটির আর্দ্রতা ধরে রাখা ও দীর্ঘমেয়াদে উর্বরতা বজায় রাখতে সহায়তা পাওয়া যায়। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এসব পণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমকে আরও আধুনিক ও সম্প্রসারিত করতে সহযোগিতা দিচ্ছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সোসাইটি ফর সোশ্যাল সার্ভিস (এসএসএস)। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) অর্থায়নে পরিচালিত ‘সাসটেইনেবল মাইক্রোএন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্ট ট্রান্সফরমেশন (স্মার্ট)’ প্রকল্পের আওতায় এটি একটি বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে।
তবে উৎপাদন বাড়ানো এবং উপজেলার প্রান্তিক কৃষকদের কাছে এসব সার পৌঁছে দিতে উপজেলা কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন উদ্যোক্তারা। তাঁদের মতে, কৃষি বিভাগের কারিগরি পরামর্শ এবং প্রদর্শনী ক্ষেতের মাধ্যমে জৈব সারের ব্যবহার ছড়িয়ে দেওয়া গেলে স্থানীয় কৃষকেরা উপকৃত হবেন।
ফার্মের স্বত্বাধিকারী সেলিম মিয়া ও মোছা. চায়না বলেন, “মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা এবং কৃষকদের হাতে মানসম্মত, পরীক্ষিত জৈব সার পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য। উপজেলা কৃষি অফিসের কারিগরি দিকনির্দেশনা এবং উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রদর্শনী ক্ষেতে এসব সারের ব্যবহার সম্পর্কে কৃষকদের উৎসাহিত করা হলে তাঁরা আরও উপকৃত হবেন।”
তাঁরা আরও বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা পেলে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি কার্যক্রম আরও বড় পরিসরে সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগও সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয় কৃষকদের কয়েকজনের দাবি, চায়না এগ্রো ফার্মের উৎপাদিত জৈব সার ও ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ব্যবহারে ফসলের রোগবালাই কমাতে এবং উৎপাদন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যাচ্ছে। তবে এসব উপকরণের কার্যকারিতা ও ফলন বৃদ্ধির মাত্রা ফসল, মাটি এবং ব্যবহারের পদ্ধতির ওপর নির্ভরশীল।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি বিভাগ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ ধরনের উদ্যোগের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা গেলে ঘাটাইলে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।
যোগাযোগ: মেসার্স চায়না এগ্রো ফার্ম, গ্রাম: সিকদারবাড়ি-উত্তর লক্ষিন্দর, ডাকঘর: লক্ষিন্দর-১৯৮৪, উপজেলা: ঘাটাইল, জেলা: টাঙ্গাইল। মোবাইল: ০১৭৩৩৭৫৯০৭১।
The post ঘাটাইলে জৈব সার উৎপাদনে সম্ভাবনা দেখাচ্ছে ‘চায়না এগ্রো ফার্ম’ appeared first on ভোরের চেতনা.
