

নেত্রকোনায় ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক প্রেস কনফারেন্সে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দেশব্যাপী তথ্য সংগ্রহ ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের অবহিতকরণ বিষয়ক প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রেস কনফারেন্স বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সদর সার্কেল সজল কুমার সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুল হক, জেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ম কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম মনিরুজ্জামান দুদু প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম—স্বাবলম্বী পরিবার গড়ার প্রতিশ্রুতি।
চট্টগ্রামে ৩০০ বছরের পুরোনো পূজামণ্ডপে প্রথমবার একসঙ্গে ডিসি-এসপি
চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় প্রায় ৩০০ বছরের পুরোনো পদুয়া গুপ্তবাড়ি সর্বজনীন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা ও পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম। আয়োজকদের ভাষ্য, ঐতিহ্যবাহী এই মণ্ডপে জেলার প্রশাসন ও পুলিশের শীর্ষ দুই কর্মকর্তার একসঙ্গে পরিদর্শন এবারই প্রথম। তাঁদের উপস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতারা। সোমবার (১২ অক্টোবর) আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা দেখতে মণ্ডপটিতে যান জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার। এ সময় তাঁরা আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও বিভিন্ন সমস্যার খোঁজখবর নেন। লোহাগাড়ার পদুয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত মণ্ডপটি পদুয়া বাজার থেকে প্রায় ৪০০ মিটার পূর্বে। স্থানীয় আয়োজকদের দাবি, প্রায় তিন শতাব্দী ধরে এখানে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা মণ্ডপ পরিদর্শন করলেও জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের একসঙ্গে আসার ঘটনা তাঁদের জানা নেই। পদুয়া গুপ্তবাড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি অতনু গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত জানান, জেলার শীর্ষ দুই কর্মকর্তার একসঙ্গে মণ্ডপ পরিদর্শনে তাঁরা আনন্দিত ও আশ্বস্ত। এতে প্রশাসনের প্রতি তাঁদের আস্থা আরও বেড়েছে। পূজা ঘিরে তাঁরা কোনো নিরাপত্তাশঙ্কাও অনুভব করছেন না। আয়োজকদের একজন বলেন, ‘তাঁদের মতো ব্যক্তিরা আমাদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করতে এসেছেন, এটা অবশ্যই ভালো লাগার বিষয়। নিশ্চিন্ত থাকার মতো একটা বিষয়।’ সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে: ডিসি জাহিদ এর আগে লোহাগাড়া উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মতবিনিময় সভায় জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী উৎসব। এই উৎসবকে ঘিরে গড়ে ওঠা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক বন্ধনের পেছনে রয়েছে বহু প্রজন্মের ত্যাগ। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি আমাদের শক্তি, আমাদের অহংকার। আমরা নিশ্চয়ই চাই না, বিশ্বের কাছে আমাদের এই গৌরবময় ঐতিহ্য কোনোভাবে খাটো হয়ে যাক।’ উৎসবের আনন্দ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। জেলা প্রশাসক বলেন, এ বছর পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে। দর্শনার্থীর উপস্থিতিও বাড়তে পারে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সরকার মণ্ডপগুলোর জন্য সহায়তা বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের দায়িত্বও বেড়েছে। প্রতিমা মণ্ডপে আনা থেকে বিজয়া দশমীর বিসর্জন পর্যন্ত সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবকদের পালাক্রমে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেন তিনি। কোনো সময় যেন মণ্ডপ নজরদারির বাইরে না থাকে, সে বিষয়েও সতর্ক করেন। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, উৎসবের আনন্দ যাতে কোনোভাবেই বিষাদে পরিণত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। ৭০ পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা, গুজব ঠেকাতে সাইবার নজরদারি চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, লোহাগাড়ায় ৭০টি সর্বজনীন পূজামণ্ডপ রয়েছে। এসব মণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশের প্রস্তুতি প্রায় শেষ। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে স্থায়ী পুলিশি দায়িত্বের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থাকবে বলে জানান তিনি। পুলিশ সুপার বলেন, দুর্গাপূজাকে ঘিরে অন্যতম উদ্বেগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার। এসব প্রতিরোধে জেলা পুলিশের সাইবার ইউনিটের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সাইবার ইউনিটও কাজ করবে। জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং পূজা উদ্যাপন পরিষদের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত সঠিক তথ্য প্রচারের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। পূজা চলাকালে মাদকসংশ্লিষ্ট অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা ঠেকাতেও বাড়তি নজরদারি থাকবে। লোহাগাড়ার পাহাড়ি এলাকায় সক্রিয় অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে শিগগিরই বড় অভিযান চালানোর কথাও জানান পুলিশ সুপার। মণ্ডপে মণ্ডপে গিয়ে প্রস্তুতি দেখছেন ডিসি জাহিদ পদুয়া গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, দুর্গাপূজার প্রস্তুতি সরেজমিনে দেখতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ ও আনসার বাহিনীর কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন মণ্ডপ পরিদর্শন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা মণ্ডপে মণ্ডপে যাচ্ছি। তাদের সার্বিক প্রস্তুতি কেমন, কোনো সমস্যা আছে কি না, তাদের পরিকল্পনা কী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোতায়েন কেমন হবে—এসব বিষয় পর্যবেক্ষণ করছি।’ গুপ্তবাড়ি পূজামণ্ডপের প্রস্তুতির প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, মণ্ডপের কাজ প্রায় শেষ। আয়োজকদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ দেখে তাঁর ভালো লাগছে। জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, তাঁদের এই সার্বিক আয়োজন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে এবং আমাদের যে ঐতিহ্য, আমাদের যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রয়েছে, সেটি অটুট থাকবে।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি। মতবিনিময় সভা ও অন্যান্য মণ্ডপ পরিদর্শন লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল সৈকত, জেলা আনসার ও ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন এবং লোহাগাড়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেন। এ ছাড়া বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, পূজা উদ্যাপন পরিষদের নেতা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে জেলা প্রশাসক উপজেলার দুটি এতিমখানার শিশুদের মধ্যে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করেন। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার পদুয়া গুপ্তবাড়ি ছাড়াও পদুয়া হিন্দু বড়পাড়া বাসুদেববাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তাঁরা আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন। গুপ্তবাড়ি সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির সভাপতি অতনু গুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ গুপ্ত আশা প্রকাশ করেন, প্রশাসনের তৎপরতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এবং স্থানীয় মানুষের সহযোগিতায় এবারের দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে।

কিশোরী তাজমিন হ'ত্যা নিয়ে এখনও যেসব প্রশ্নের উত্তর মেলেনি
কুমিল্লায় ১৫ বছর বয়সী জান্নাতুল তাজমীন হত্যাকাণ্ডে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমন মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত কিশোরীর ব্যবহৃত আইফোনও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে চালক গ্রেপ্তার ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের পরও হত্যাকাণ্ডের আগে তাজমীনের চলাফেরা, দীর্ঘ পথ ঘুরিয়ে নেওয়ার সময় তার পরিস্থিতি এবং অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা নিয়ে বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরের গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে তাজমীনকে অটোরিকশায় তোলেন সুমন। কিন্তু সরাসরি বাড়ির পথে না গিয়ে তাকে অন্তত ৩০ কিলোমিটার ঘুরিয়ে লালমাই উপজেলার একটি নির্জন ধানক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিশোরীকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধে হত্যার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে ধর্ষণের অভিযোগ এবং হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত ঘটনা ফরেনসিক প্রতিবেদনসহ অন্যান্য তথ্যের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার সুমনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত ছিলেন কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আট কিলোমিটারের পথ, ঘুরেছেন ৩০ কিলোমিটার পুলিশের তদন্ত অনুযায়ী, গত বুধবার দিবাগত রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লায় ফেরে তাজমীন। রাত পৌনে ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকার নূরজাহান হোটেলের সামনে বাস থেকে নামে সে। পরে একটি দোকানে মোবাইল ফোন চার্জ দেয়। রাত সোয়া ১২টার দিকে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বাড়ি ফেরার জন্য অটোরিকশা খুঁজছিল তাজমীন। রাত সাড়ে ১২টার দিকে সুমনের অটোরিকশায় ওঠে সে। দর-কষাকষির পর ৩০০ টাকায় বাড়ি পৌঁছে দিতে রাজি হন চালক। কিন্তু গন্তব্যের দিকে না গিয়ে তিনি অন্য সড়ক ধরে নির্জন এলাকার দিকে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। পদুয়ার বাজার থেকে কুমিল্লা নগরের রেসকোর্স এলাকার দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুমন প্রথমে কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক ধরে বিজরা বাজারের দিকে যান। পরে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক হয়ে লালমাইয়ের ভোরাজগৎপুরের একটি ফসলের মাঠের কাছে পৌঁছান। এ পথে মোট দূরত্ব অন্তত ৩০ কিলোমিটার। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, পদুয়ার বাজার থেকে তাজমীনের বাসায় যেতে সর্বোচ্চ আধা ঘণ্টা লাগার কথা। অথচ তাঁকে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা ঘুরিয়ে ঘটনাস্থলে নেওয়া হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন দাবি করেছেন, অটোরিকশা চলার সময় তাজমীন কোনো প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে দীর্ঘ পথ ঘুরিয়ে নেওয়ার সময় কী ঘটেছিল, কিশোরী কোনো পর্যায়ে বিপদ বুঝতে পেরেছিল কি না কিংবা সাহায্য চাওয়ার সুযোগ হয়েছিল কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়। রাত ২টা ৫৮ মিনিটে বাবাকে লাইভ লোকেশন তদন্তে উঠে এসেছে, রাত ২টা ৫৮ মিনিটে তাজমীন তার বাবাকে একটি লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল। তবে ঘুমিয়ে থাকায় তখন সেটি দেখতে পাননি তার বাবা। ভোরের দিকে লোকেশনটি দেখে মেয়েকে খুঁজতে বের হন তিনি। এর মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করছিল। পরে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন বাবা। তাজমীন ঠিক কী পরিস্থিতিতে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল, সে সময় সে বিপদের আশঙ্কা করছিল কি না কিংবা লোকেশন পাঠানোর পর কী ঘটেছিল-সংবাদ সম্মেলনে এসব বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। তবে ওই সময় পর্যন্ত তার কাছে মোবাইল ফোনটি ছিল বলে পুলিশের দেওয়া সময়রেখা থেকে ধারণা পাওয়া যায়। এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, তাজমীন যদি ঘটনাস্থলে বা এর আগে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করত, তাহলে হয়তো এমন মৃত্যু দেখতে হতো না। যেভাবে ঘটেছে বলে দাবি পুলিশের পুলিশের দাবি, নির্জন জায়গায় পৌঁছানোর পর তাজমীন পালানোর চেষ্টা করলে সুমন তাকে আটকাতে ধস্তাধস্তি করেন। পরে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি। এরপর ধানখেতে নিয়ে কিশোরীকে উপুড় করে মাথায় পা দিয়ে চেপে ধরে শ্বাসরোধে হত্যা করেন বলে পুলিশের ভাষ্য। গত বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার ভোরাজগৎপুর উত্তরপাড়ার একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমীনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার গলায় গামছা ছিল। কাছাকাছি একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, গাড়ির ভেতরে কাপড়চোপড় এবং পাশে একটি হাতব্যাগ পাওয়া যায়। ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তা স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে ফরেনসিক প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি আরও নিশ্চিত হওয়া যাবে। ধর্ষণ হত্যার আগে, নাকি পরে ঘটেছে, সে বিষয়েও পুলিশ এখনো নিশ্চিত করে কিছু জানায়নি। সিসিটিভি ফুটেজে অটোরিকশায় তাজমীন ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজে তাজমীনকে অটোরিকশায় বসে থাকতে দেখা গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ফুটেজে তাকে পেছনের বাঁ পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। অটোরিকশায় অন্য কেউ ছিলেন কি না, তা নিয়ে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তুললে পুলিশ জানায়, এখন পর্যন্ত সুমন ছাড়া অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। তবে দীর্ঘ পথ ঘুরিয়ে নেওয়ার সময় অটোরিকশায় অন্য কেউ উঠেছিলেন কি না, কোনো পর্যায়ে চালককে কেউ সহায়তা করেছিলেন কি না এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।

এক বছর ধরে ‘সন্তানের’ মতো গাঁজা গাছ লালন, অতঃপর...
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পুলিশের বিশেষ অভিযানে একটি বসতবাড়ির রান্নাঘরের পেছন থেকে ১৪ ফুট লম্বা জীবন্ত একটি গাঁজার গাছ উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আসমান (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত রাত আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে উপজেলার সদর ইউনিয়নের মেকুরটারী গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মেকুরটারী গ্রামে আসমানের বসতবাড়িতে বেআইনিভাবে গাঁজার গাছ চাষ করা হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানে নামে রাজারহাট থানা পুলিশ। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল আসমানের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় রান্নাঘরের পেছন থেকে প্রায় ১৪ ফুট লম্বা তাজা গাঁজার গাছটি উদ্ধারসহ আসমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার আসমান স্বীকার করেছেন, তিনি প্রায় এক বছর ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে গোপনে গাছটি লালন-পালন করে আসছিলেন। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মামুনুর রশীদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ১৪ ফুট লম্বা একটি জীবন্ত গাঁজার গাছ উদ্ধারসহ এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশি এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জোরপূর্বক বৃদ্ধের অ'শ্লীল ভিডিও ধারণ করে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি
নওগাঁর মান্দায় ছেলের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে এক বৃদ্ধকে বাড়িতে ডেকে নেয়ার পর অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশের ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলার প্রধান আসামি মো. জাকারিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১১ অক্টোবর) ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মান্দা থানায় মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর ছেলের জন্য পাত্রী দেখার কথা বলে পূর্বপরিচিত এক নারীর মাধ্যমে নওগাঁর মান্দা উপজেলার তেঁতুলিয়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের একটি বাড়িতে নেওয়া হয় রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানার বালিয়াপুকুর এলাকার বাসিন্দা মীর আনোয়ার হোসেনকে (৬২)। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ওই বাড়িতে যাওয়ার পর জাকারিয়ার পরিকল্পনায় অন্য আসামিরা আনোয়ার হোসেনকে মারধর করেন। এক পর্যায়ে এক নারী আসামির সাথে তাকে জোরপূর্বক অশ্লীল ও নগ্ন ছবি-ভিডিও ধারণ করতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ধারণ করা ছবি ও ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যদের সাথেও মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হয় বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। এজাহারের তথ্যমতে, ভুক্তভোগীর স্বজনেরা একইদিন দুপুরে তাকে উদ্ধার করে মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এ ঘটনায় আজ ১১ অক্টোবর মান্দা থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২-এর ৮(১) ও ৮(২) ধারা এবং দণ্ডবিধির ৩৪২, ৩২৩, ৩৮৫, ৫০৬ ও ৩৪ ধারায় মামলা করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, মামলার প্রধান আসামি জাকারিয়ার বিরুদ্ধে এর আগে মোহনপুর ও মান্দা থানায় আরো তিনটি মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আড়াইহাজারে ট্রাক-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ট্রাক ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে সুজন (৩৮) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এবং আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল সাতটার দিকে উপজেলার পাল্লা এলাকায় রয়েল ফ্যাক্টরির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজন ও আহত ব্যক্তিরা সবাই উপজেলার বান্টি এলাকার মালুপাড়া এলাকার বাসিন্দা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তাঁরা আধুরিয়া থেকে মাছ ধরে অটোরিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে পাল্লা এলাকায় রয়েল ফ্যাক্টরির সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশার যাত্রী সুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আহত হন আরও ছয়জন। স্থানীয় লোকজন আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে ঢাকার লালমাটিয়ায় বাংলাদেশ ক্রিটিক্যাল কেয়ার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল এবং গাউছিয়ার একটি হাসপাতালে নিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর ট্রাকটি ঘটনাস্থলে রেখে চালক ও তাঁর সহকারী পালিয়ে যান। আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সবজেল হোসেন বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


