ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুই মালয়েশিয়াপ্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। সোমবার ভোরে কায়েমপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে প্রবাসী রমজান মিয়া ও ওসমান মিয়ার বাড়িতে পৃথকভাবে ডাকাতি হয়। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ১০ থেকে ১৫ জনের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল পুলিশ পরিচয়ে প্রথমে রমজান মিয়ার বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে শিশুসহ পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে ডাকাতি চালায়। এ সময় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতেরা।
এরপর ডাকাত দলটি পাশের বাড়িতে থাকা আরেক মালয়েশিয়াপ্রবাসী ওসমান মিয়ার বাড়ির দরজায় আঘাত করতে থাকে। এ সময় ওসমান মিয়ার স্ত্রী রিনা বেগম চিৎকার শুরু করলে ডাকাতেরা বাইরে থেকে চেঁচামেচি করলে ঘরে ঢুকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। পরে শাবল দিয়ে দরজা ভেঙে কয়েকজন ডাকাত ঘরে প্রবেশ করে। বাকিরা বাইরে অবস্থান করছিল বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
ওই বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার, দামি মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করা হয়। ভুক্তভোগীদের দাবি, এ বাড়ি থেকে প্রায় চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায় ডাকাত দলটি। দুই বাড়ি থেকে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল লুট হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, ডাকাতির ঘটনাগুলোর রহস্য উদ্ঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। সকালে ঘটনাস্থলে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একটি দল যায়। ডিবি ও কসবা থানা পুলিশ যৌথভাবে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে। দ্রুত অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম বলেন, ডাকাতির বিষয়টি জানার পর থানার ওসিকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি যেসব এলাকায় রাতে ডাকাতির প্রবণতা বেশি, সেসব স্থানে টহল বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বাহিনীকেও বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এমএস/
