আমেরিকার নিউ ইয়র্কের জন এফ কেনেডি বিমানবন্দরে বিক্ষোভের মুখে বাংলাদেশের সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার নোবেলজয়ী এই অর্থনীতিবিদ নিউ ইয়র্কের জেএফকে বিমানবন্দরে নামেন। বিমানবন্দরে তাঁকে দেখেই বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন কয়েক জন।
সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, বিমানবন্দরে হুইলচেয়ারে চেপে যাচ্ছেন ইউনূস। পিছন দিক থেকে কয়েকজন ‘গো ব্যাক’ স্লোগান দিতে দিতে এগিয়ে আসছেন। একজনকে বলতে শোনা যাচ্ছে, “আপনি একজন সন্ত্রাসবাদী। আপনি বাংলাদেশের মানুষদের খুন করেছেন। কেন এখানে এসেছেন? বলুন, কেন এখানে এসেছেন?” (যদিও এই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম)
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুসারে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। কোনও কোনও সংবাদমাধ্যমের দাবি, বিক্ষোভকারীরা শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের সমর্থক। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য এবং যোগাযোগ বিষয়ক উপদেষ্টা জ়াহেদ উর রহমান বলেন, “ইউনূসের সামনে বিক্ষোভ দেখানো ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবে সরকার।”
২০২৪ সালের অগস্টে হাসিনা সরকারের পতনের পর ইউনূসের নেতৃত্বেই বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকার তৈরি হয়েছিল। তিনি হয়েছিলেন সেই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। সেই পদ ছাড়ার পর এই প্রথমন বিদেশ সফরে গেলেন তিনি। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুসারে, সোমবার দোহা থেকে কাতার এয়ারওয়েজ়ের বিমানে নিউ ইয়র্কে যান ইউনূস। বিমানবন্দরের ৮ নম্বর টার্মিনাল ধরে যাওয়ার সময় বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি।
ঢাকার ‘ডেইলি সান’ সংবাদপত্রের প্রতিবেদন অনুসারে, বিক্ষোভের মুখে হইলচেয়ারে থাকা ইউনূসকে দ্রুত সরিয়ে নিয়ে যান তাঁর সঙ্গী লামিয়া মোরশেদ। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ইউনূসের আমলে কয়েক হাজার পুলিশকর্মীর মৃত্যু হয়েছে। দু’লক্ষ মানুষকে গ্রেফতার করেছিল ইউনূস প্রশাসন। বিক্ষোভকারীদের নাম-পরিচয় অবশ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। এই বিষয়ে ইউনূসের কোনও বক্তব্য এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি।
