অগভীর জলে চলাচলে সক্ষম ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী তৃতীয় জলযান পেল ভারতীয় নৌসেনা। কেরলমের ‘কোচি শিপইয়ার্ড লিমিটেড’-এর তৈরি আইএনএস মঙ্গরোল আনুষ্ঠানিক ভাবে শামিল হল বাহিনীতে।
সামরিক পরিভাষায় এমন জলযানের নাম ‘অ্যান্টি-সাবমেরিন ওয়ারফেয়ার শ্যালো ওয়াটার ক্রাফট’। সাধারণত বড় ফ্রিগেট বা যুদ্ধজাহাজগুলি উপকূলের কাছাকাছি অগভীর জলে সহজে চলাচল করতে পারে না। এই জলযানগুলির ড্রাফট (জলে ডুবে থাকা অংশ) মাত্র ২.৭ মিটার হওয়ায় এগুলি সমুদ্রের উপকূলবর্তী ও অগভীর এলাকায় অত্যন্ত দ্রুত ও নিখুঁত ভাবে অপারেশন চালাতে সক্ষম। সেই সঙ্গে শত্রুপক্ষের বিমান এবং হেলিকপ্টারের উপরেও হামলা চালাতেও সক্ষম এই শ্রেণির জলযান। মঙ্গরোলের অস্ত্র এবং নজরদারি সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে ‘অভয়’ হাল-মাউন্টেড সোনার, লাইটওয়েট টর্পেডো, দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যান্টি-সাবমেরিন রকেট লঞ্চার এবং মারিচ অ্যাডভান্সড টর্পেডো ডিকয় সিস্টেম।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রক সূত্রের খবর, একই সঙ্গে চিন এবং পাকিস্তানের হামলা মোকাবিলার লক্ষ্যে ২০৩৫ সালের মধ্যে ভারতীয় নৌসেনার হাতে যাতে ২০০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন (ডুবোজাহাজ) থাকে, সে বিষয়ে সক্রিয়তা শুরু হয়েছে। আর এ ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে রাডার নজরদারি প্রতিরোধী ‘স্টেলথ টেকনোলজি’-যুক্ত ফ্রিগেট ও ডেস্ট্রয়ার, কর্ভেট গোত্রের রণতরী, ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী জলযান, ‘মাইন কাউন্টার মেজার ভেসেল’-এর মতো ছোট জলযান এবং ডুবোজাহাজ নির্মাণের উপর। সেই পরিকল্পনারই অন্যতম অঙ্গ হল অগভীর জলে চলাচলে সক্ষম ডুবোজাহাজ বিধ্বংসী জলযান নির্মাণ। বর্তমানে ভারতীয় নৌসেনায় প্রায় ১৪০টি জলযান রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি ডিজ়েল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন। যার ১১টি বেশ পুরনো। এ ছাড়া রয়েছে, দু’টি এসএসবিএন (পরমাণু শক্তিচালিত এবং পরমাণু অস্ত্রবাহী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রযুক্ত) ডুবোজাহাজ। রয়েছে দু’টি বিমানবাহী রণতরীও। এ ছাড়া, ভারতীয় নৌসেনায় ২৫০টিরও বেশি বিমান এবং হেলিকপ্টারও রয়েছে। আগামী এক দশকে জল ও আকাশযান প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।
