ফুটবল বিশ্বের ব্যক্তিগত অর্জনে সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার “ব্যালন ডি’অর”। আর মাত্র একদিন পরই লন্ডনের বিখ্যাত প্যালাডিয়াম থিয়েটারে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে ফুটবলের এই অস্কার। তবে মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কারটি কার হাতে উঠবে—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা সমীকরণ, জল্পনা-কল্পনা আর নাটকীয়তা। শেষ মুহূর্তে এসে বাজির দরে বড় পরিবর্তন আসায় ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে এসেছে দারুণ এক রোমাঞ্চ।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানের আগে বিভিন্ন বুকমেকারদের বাজির দর ও সমীকরণ পাল্টে গেছে। বিশেষ করে স্প্যানিশ সেনসেশন লামিনে ইয়ামাল শুরুতে বেশ জোরালো আলোচনায় থাকলেও, শেষ মুহূর্তে এসে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছেন। বর্তমানে ব্যালন ডি’অর জয়ের মূল লড়াইটা মূলত তিন তারকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সব হিসাব-নিকাশ ও বাজির দর উল্টে দিয়ে এখন এই পুরস্কার জয়ের দৌড়ে সবার চেয়ে অনেকখানি এগিয়ে আছেন বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। ক্লাব ও জাতীয় দলের জার্সিতে অবিশ্বাস্য মৌসুমে কাটিয়েছেন তিনি।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৬৫টি ম্যাচ খেলে চোখধাঁধানো ৭৩টি গোল করেছেন তিনি। গত শনিবার বুকমেকারদের প্রকাশিত গড় হিসাবে কেইনের ব্যালন ডি’অর জয়ের পক্ষে বাজির দর নেমে আসে ১.৩৫-এ। অন্য সব প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় বেশ বড় ব্যবধানেই এগিয়ে থেকে ফেভারিট হিসেবে লন্ডনের মঞ্চে পা রাখছেন এই থ্রি লায়ন্স কাপ্তান।
যেভাবে নির্ধারিত হয় ব্যালন ডি’অর জয়ী
বিশ্ব ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কারের বিজয়ী নির্ধারণের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর নিয়ম। পুরুষ বিভাগে ব্যালন ডি’অর বিজয়ী নির্বাচনের জন্য ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ১০০টি দেশের এবং নারীদের ক্ষেত্রে শীর্ষ ৫০টি দেশের মনোনীত একজন করে অভিজ্ঞ ক্রীড়া সাংবাদিক ভোট দিয়ে থাকেন।
ভোটাররা ৩০ জনের প্রাথমিক সংক্ষিপ্ত তালিকা থেকে ক্রমানুসারে সেরা ১০ জন ফুটবলারকে বেছে নেন। পয়েন্ট বণ্টনের নিয়মানুযায়ী—তালিকার প্রথম স্থানধারী খেলোয়াড় পান ১৫ পয়েন্ট, দ্বিতীয় স্থানধারী পান ১২ পয়েন্ট এবং তৃতীয় স্থানাধিকারী পান ১০ পয়েন্ট। এভাবে শীর্ষ ১০ জনের জন্য পয়েন্ট দেওয়া হয়। সবশেষে ভোটের লড়াইয়ে সর্বোচ্চ পয়েন্ট অর্জনকারী ফুটবলারই জিতে নেন কাঙ্ক্ষিত সেই সোনালী ব্যালন ডি’অর ট্রফি।
