বিএনপির কর্মী মকবুল হত্যা মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য ও ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ এবং সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহর ছেলে সেরনিয়াবাত মঈনউদ্দিন আহাম্মেদ আব্দুল্লাহর গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ রোববার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম শুনানি শেষে এই আদেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই মো. তোফাজ্জল হোসেন তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন।
এদিন শুনানিকালে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে অতিরিক্ত প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, ছাত্রলীগরাই হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট করেছে। গত ১৭ বছর সুলতান মনসুর ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিরুদ্ধে কোনো কথা বলেননি। আওয়ামী লীগ কখনো আওয়ামী লীগকে ছেড়ে যায় না। দল থেকে সরে যায় না। আসামিরা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর প্রার্থনা করছি।
অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মোরশেদ হোসেন শাহীনসহ কয়েকজন আইনজীবী তাদের গ্রেপ্তার না দেখানোর পক্ষে শুনানি করেন।
আইনজীবীদের শুনানির পর আদালতে অনুমতি নিয়ে সুলতান মনসুর আহমেদ বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় আমি স্বপরিবারে দেশের বাইরে ছিলাম। কোনো অপরাধ করলে আমি দেশে ফিরে আসতাম না। আর এ মামলার ঘটনা ২০২২ সালের। আমি তো তখন গণফোরামের সঙ্গে ছিলাম, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ছিলাম না। তাই আমি আপনার (বিচারক) কাছে আইনগত সহায়তা কামনা করছি।’
এরপর আদালত তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেয়। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবির হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালান। ভাঙচুর চালানো হয় বিএনপি কার্যালয়ে। কার্যালয়ের পাশে নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর এই ঘটনায় জনৈক মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে পল্টন মডেল থানায় এই মামলা করেন।
২০২৪ সালের ১ অক্টোবর ভোরে কানাডা থেকে দেশে ফেরার পর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে মনসুর আহমেদ গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিনই যুবদল নেতা শামীম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে রিমান্ডে নেওয়া হয়। এরপর থেকে কারাগারে রয়েছেন।
অন্যদিকে ২০২৪ সালের ২৬ অক্টোবর গুলশান-২ এলাকা থেকে মঈনউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বিএনপিকর্মী মুশফিকুর রহমান আবির হত্যাচেষ্টার অভিযোগে পল্টন মডেল থানার মামলায় গত ১৪ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
