গাজীপুরে এক মাদরাসায় সাত বছরের শিশুকে চুম্বন দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক শিক্ষককে থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনায় এবার মুখ খুলেছেন ইসলামী বক্তা মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি।
তাহেরি বলেন, ‘এক হুজুর বাচ্চারে চুম্বন দিছে। এক ছেলে গেছে, কেন চুম্বন দিল, হুজুরকে দিছে থাপ্পড়। এক থাপ্পড়ে পুরো মৌলভীপাড়ায় আগুন লেগে গেছে।’
তাহেরি বলেন, ‘ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরা মাদরাসায় পড়বে, তুমি তারে চুম্বন দিবে কেন? কারণ, যেহেতু ইতিহাস আছে, অনেক মাদরাসার ভেতরে বলাৎকার হচ্ছে।
তোমার তো এখন চুম্বন দিতে গেলেও সাবধানে দিতেই হবে, যেহেতু ইতিহাস ভালো না।’
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে শাকপুরা ইউনিয়নের হাজী আজগর আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে গতকাল শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে এসব কথা বলেন তাহেরি।
মুফতি গিয়াস উদ্দিন তাহেরি বলেন, ‘এখন সব মৌলভীরা বলে, চুম্বন দিছে, বাচ্চা আদর করছে, সুন্নত। হুজুরকে মারছে, বিচার চাইতেছে।
দেশে আইন আছে, আইনের বিচার আছে। আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে মারল কিসের জন্য? যখন মাদরাসার ছোট ছোট বাচ্চাদেরকে বলাৎকার করে, তখন তোমাদের প্রতিবাদ কোথায় থাকে?’
মৌলভীদের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে তাহেরি বলেন, ‘এখন আগুন উঠে গেছে। দালাল মৌলভীগুলো—এগুলো দালাল। যেই দল ক্ষমতায় আসে, এটার সঙ্গে থাকে অর্ধেক। যেই দল ক্ষমতায় থাকে না, তাদের সঙ্গে থাকে বাকি অর্ধেকের অর্ধেক।
আর বাকিটা থাকে বিরোধী দলের সঙ্গে। আরেকটা থাকে তলে তলে বান্ডিল নেওয়ার জন্য।’
গত ২১ অক্টোবর গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়ায় অবস্থিত ক্বরিউল কোরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম আহম্মদের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে।
শিশুটির পরিবারের সদস্যরা মাদরাসায় গিয়ে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ওই সময় শিক্ষক অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে দাবি করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহজালাল রুমি তাকে চড় মারেন। পরে উপস্থিত জনতা ওই শিক্ষককে মারধর করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষককে উদ্ধার করে এবং গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙচুর ও টাকা লুটের অভিযোগে মাদরাসা কর্তৃপক্ষও পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেছে।