আইপিএলে চার মৌসুম ধরে শিরোপার খরা। ডাগআউটে বদল এসেছে বারবার, তাও দেখা মিলেনি ট্রফির। সেই অচলাবস্থা কাটানোর বার্তা নিয়ে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের ড্রেসিংরুমে নতুন অধ্যায় শুরু করছেন কাইরন পোলার্ড। সাবেক শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তি মাহেলা জয়াবর্ধনে বিদায় নেওয়ার পর মুম্বাইয়ের প্রধান কোচের মসনদে বসেছেন তিনি। দায়িত্ব নিয়েই দলের সাবেক এই অলরাউন্ডার সাফ জানিয়ে দিলেন—হতাশার বৃত্ত ভেঙে মাঠে নামতে হবে ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে।
খেলোয়াড় হিসেবে ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে মুম্বাইকে পাঁচটি ট্রফি জেতানোর অন্যতম কারিগর ছিলেন পোলার্ড। ২০২২ সালে খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করে এতদিন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব সামলেছেন। এবারই প্রথম কোনো আইপিএল দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পেলেন তিনি।
তারকাখচিত মুম্বাই স্কোয়াডে আছেন অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও সেরা পেসার জাসপ্রিত বুমরা। কিন্তু নামের ভার অনুযায়ী মাঠের পারফর্ম্যান্সে শেষ কয়েক মৌসুমে ধারাবাহিকতা ছিল না। পোলার্ডের মতে, মাঠের ট্যাকটিক্সের চেয়েও ক্রিকেটারদের মানসিক চাঙ্গা রাখা এবং 'ম্যান ম্যানেজমেন্ট'-ই এখন আসল কাজ।
নতুন ভূমিকা নিয়ে পোলার্ড বলেন, ‘সবচেয়ে রোমাঞ্চকর বিষয় হলো দলের ভেতরের পরিবেশ কেমন হবে, তার সুর আপনি নিজে বেঁধে দিতে পারছেন। ক্যারিবিয়ান মানুষ হওয়ায় আনন্দ ও খোলামেলা আবহ তৈরি করা আমার কাছে ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চাপ মুক্ত থাকলে ক্রিকেটাররা স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের সেরাটা দিতে পারে। অবশ্যই কঠিন সময় আসবে যখন ফল পক্ষে থাকবে না, তবে কোনো কিছুই আমাকে বিচলিত করতে পারবে না।’
আইপিএলে ২০০ বা ২২৫-এর বেশি রান তাড়া করাটা এখন ডালভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের গতি ও মানসিকতায় আসা এই রূপান্তর নিয়ে পোলার্ডের বক্তব্য, ‘খেলাটা এখন ১৪০-১৬০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে পাওয়ারপ্লেতেই ১২০ রান না দেওয়ার লড়াইয়ে দাঁড়িয়েছে। টি-টোয়েন্টি যেভাবে এগোচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বোলার ও ব্যাটারদের প্রস্তুত করাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।’
আধুনিক ক্রিকেটে ল্যাপটপ আর ডাটা অ্যানালিস্টদের দাপট বাড়লেও পোলার্ডের পূর্ণ আস্থা ক্রিকেটারদের প্রাকৃতিক প্রতিভার ওপর। ডাটা ও মানবীয় উপস্থিত বুদ্ধির সঠিক ভারসাম্য বজায় রেখে দলকে এগিয়ে নিতে চান তিনি।
২০২০ সালের পর আর আইপিএল ট্রফির মুখ না দেখা মুম্বাই সমর্থকদের উদ্দেশ্যে পোলার্ডের স্পষ্ট বার্তা, ‘আমাদের ভেতরে জেতার ক্ষুধা আর আগুনটা ঠিক কতটা তীব্র, এবার তা মাঠে নামেই প্রমাণের পালা।’
