নরসিংদীর চৌয়ায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৪ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৫ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় বিএনপির কার্যালয় ভাঙচুর, গুলি ও প্রাণনাশের হুমকির ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভাঙচুরের সময় কার্যালয়ে থাকা মাছুম মিয়া নামে এক ব্যক্তি আহত হয়।
বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে এলাকার তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মারামারি হয়। পরে হঠাৎ দুর্বৃত্তরা এসে বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর করে।
আহত মাছুম মিয়া বলেন, ‘চৌয়া গ্রামের বিএনপির কার্যালয়টি দেখাশুনা করেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি ভেতরে শুয়ে ছিলেন। একদল লোক এসে কার্যালয়টি ভাঙচুর করে। এ সময় গুলিও করেছে তারা।’
আরও পড়ুন
দুর্বৃত্তরা অস্ত্র দিয়ে তাকে আঘাত করে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ বিষয়ে বিএনপি নেতাদের কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ‘মাধবদী থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’
ঘটনাস্থলে দুর্বৃত্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি, তবে এ ঘটনায় কারো পক্ষ থেকে থানায় মামলা হয়নি বলে জানান তিনি ।
শাওন খন্দকার শাহিন/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশ হেফাজত থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৮ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৯ এএম
রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীন। ছবি: সংগৃহীত
-->ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে পুলিশ হেফাজত থেকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিয়াজুল আলম ওরফে শাহীনকে (৩০) ছিনিয়ে নিয়েছে এলাকাবাসী।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের ডেকুয়ারচর গ্রামে ফুটবল খেলার মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বিকেল তিনটার দিকে সরিষা ডেকুয়ারচর দাখিল মাদরাসা মাঠে রঙতরঙ্গ সংগঠনের আয়োজনে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের ফুটবল খেলা শুরু হয়।
আরও পড়ুন
খেলাটির উদ্বোধন করেন সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এমদাদুল্লাহ খান জামান। খেলা দেখতে সেখানে উপস্থিত হন রিয়াজুল আলম। পরে তার অবস্থানের খবর পেয়ে আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, রিয়াজুলকে আটক করতে গেলে সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি বাধা দেন। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকে সিএনজিতে তোলা হয়। পরে তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ সময় ওই সিএনজি ভাঙচুর এবং হাত কড়াসহ তাকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে । তবে হাতকড়া পরানো হয়েছিল কি না, এ বিষয়ে পুলিশের বক্তব্যের সঙ্গে স্থানীয় সূত্রের তথ্যে ভিন্নতা রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রিয়াজুলের বিরুদ্ধে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় তিনটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে দুটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং একটি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।
এ ঘটনায় বিএনপি ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠলেও তারা তা অস্বীকার করেছেন। সরিষা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নূর আহাম্মদ ওরফে মিলন মিয়া বলেন, ‘তিনি ঘটনাস্থলে ছিলেন না। দূরের একটি চায়ের দোকানে ছিলেন। দূর থেকে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের ধস্তাধস্তি দেখেছেন।’
রিয়াজুল আওয়ামী লীগ করেন বলেই পুলিশ তাকে ধরেছিল বলে দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, রাজনৈতিক কারণে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এ ঘটনায় তার নাম জড়ানো হচ্ছে।
সরিষা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি হারুন অর রশিদ স্বপনও অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগত শত্রুতার কারণে এ ঘটনায় তার নাম জড়ানো হচ্ছে। তিনি পুলিশকে বারবার আটক ব্যক্তিকে নিয়ে যেতে বলেছেন।’
আঠারবাড়ী রায়েরবাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি একটি বিশেষ অভিযানে আছেন। বিষয়টি ওসিকে জানানো হয়েছে। পরে কথা বলবেন।’
ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ রোমন বলেন, ‘রিয়াজুল মাদকসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামি। তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন তাকে পালাতে সহযোগিতা করেন।’
তবে পুলিশের কাছ থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া বা গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাকে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন তিনি।
ওসি জানান, এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
ফয়সল আহমেদ/তামান্না রুপা/
আরও পড়ুন
সাতকানিয়ায় বাস-সিএনজি সংঘর্ষে বাবা মেয়ের মৃত্যু
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫৯ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে বাবা ও তার দুই বছর বয়সি শিশু নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে নিহত ব্যক্তির স্ত্রী ও ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের কালিয়াইশ ইউনিয়নের নয়াখালের উত্তর পাশে ইকবাল কনভেনশন হল সংলগ্ন ডিবিএম ইটভাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। এ সময় ঘটনাস্থলে যাওয়া পুলিশের গাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এমনকি আগুন নেভাতে যাওয়া ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদেরও বাধা দেওয়া হয়। এতে প্রায় ২ ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট সৃষ্টি হয় এবং ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
আরও পড়ুন
নিহত ব্যক্তির নাম দেলোয়ার হোসেন (৩২) এবং তার দুই বছর বয়সি মেয়ে ওয়াসিফা। দেলোয়ার কালিয়াইশ ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের মলিয়াবাদ গ্রামের সায়রার বর বাড়ি এলাকার আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে চট্টগ্রামগামী একটি মিনিবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে কেরানীহাটগামী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশায় থাকা দেলোয়ার হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
আহত ব্যক্তিদের স্থানীয় লোকজন উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পথে দেলোয়ার হোসেনের মেয়ের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত লোকজন মিনিবাসটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে দোহাজারী হাইওয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যাওয়ার চেষ্টা করলে অবরোধকারীদের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করা হয়। পরে সাতকানিয়া থানার একটি টিম পুলিশদের উদ্ধারের উদ্দেশ্যে গেলে তাদের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
এ ছাড়াও রাত ৮টার দিকে বাসের আগুন নেভাতে সাতকানিয়া ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরও বাধা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তারা পিছু হটতে বাধ্য হন। অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে প্রায় ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট তৈরি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
পরে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় পুলিশ অবরোধকারীদের ধাওয়া দিলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
এদিকে, শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মাসুদ আলম বিপিএম। তিনি দুর্ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। এ সময় দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা, পুলিশের ওপর হামলা এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছ থেকে বিস্তারিত তথ্য নেন।
দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুল আবছার বলেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের টিম ঘটনাস্থলে গেলে উত্তেজিত জনতা ধাওয়া করেন। এমনকি তারা থানা পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করেছে। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও অটোরিকশাটি এখন আমাদের হেফাজত রয়েছে। এ ছাড়াও বাবা-মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলীম বলেন, ‘দুষ্কৃতিকারীরা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করে অস্ত্র লুটের চেষ্টা করা হয়েছিল। পরে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি।’
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ‘দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের টহল টিম ঘটনাস্থলে গেলে দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। এমনকি আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে তাদের এবং হাইওয়ে পুলিশকে ধাওয়া করা হয়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে অবরোধকারীদের ধাওয়া করলে তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এরপর মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আরিফুল ইসলাম/অলি/
আরও পড়ুন
শ্রীনগরে বাস খাদে পড়ে নিহত ৩, আহত ১৬
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ এএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ এএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে তিনজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১৬ জন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাত ৩টার দিকে এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের হাঁসাড়া এলাকায় সড়ক বিভাজনের রেলিং ভেঙে সার্ভিসলেন পেরিয়ে পাশের খাদে পড়ে এ দূর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি দর্শনা পরিবহনের। এটি চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকায় যাচ্ছিল।
আরও পড়ুন
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় বেপরোয়া গতির কারণে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারায়। এতে বাসটি সড়কের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের ডোবায় পড়ে যায়। খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
ঘটনাস্থল থেকে এ সময় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেন তারা। এছাড়া ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। অপর আহত পাঁচজনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এদিকে, দুর্ঘটনায় নিহত তিন জনের মধ্যে একজনের মরদেহ উদ্ধার করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গায়। নিহত অপর দুজনের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
মইনুদ্দীন আহমেদ/অলি/
আরও পড়ুন
নড়াইলে অবৈধ ঘের খননে বিপাকে কৃষক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ এএম
অনুমোদনহীন ঘের খননের কারণে কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি নড়াইলের ইছামতি বিলে। ছবি: খবরের কাগজ
-->নড়াইলের বিভিন্ন বিল ও নিম্নাঞ্চলে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের খননের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি বিধিবিধান উপেক্ষা করে এসব ঘের খননের ফলে জলাভূমির স্বাভাবিক পরিবেশ ও পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে একদিকে কমছে কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা, অন্যদিকে বাড়ছে জলাবদ্ধতা। বিস্তীর্ণ এলাকার তিন ফসলি জমি পরিণত হচ্ছে এক বা দুই ফসলি জমিতে। হাজার হাজার একর জমি বছরের বেশির ভাগ সময় জলাবদ্ধ থাকায় অনাবাদি পড়ে থাকছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কৃষকরা, ব্যাহত হচ্ছে কৃষি উৎপাদন। পাশাপাশি জলাভূমির স্বাভাবিক বাস্তুতন্ত্র ব্যাহত হওয়ায় হুমকির মুখে পড়ছে স্থানীয় জীববৈচিত্র্য।
কৃষক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিলের ভেতরের উন্মুক্ত স্থানে মাটি কেটে উঁচু বাঁধ নির্মাণ ও গভীর ঘের তৈরি করা হচ্ছে। এতে বর্ষাকালে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে কুমড়ির বিল, চাচড়ীর বিল, পাটেরশরী বিল, আমাদার বিল, ঘাঘার বিল ও ইছামতীর বিলসহ অন্তত ২০টি বিলের হাজার হাজার একর জমিতে পাঁচ থেকে ছয় মাস পর্যন্ত পানি জমে থাকছে। দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধ থাকায় এসব জমিতে সময়মতো চাষাবাদ করা যাচ্ছে না।
লোহাগড়া উপজেলার দিনোনাথপাড়া গ্রামের কৃষক মশিয়ার রহমান বলেন, ‘একসময় ইছামতি বিলে আমরা বছরে একাধিকবার ফসল করতাম। তবে বিগত কয়েক বছর পানি আটকে থাকে। তাই একটির বেশি ফসল চাষ করা যাচ্ছে না।’
আরও পড়ুন
আমাদা বিলের কৃষক রইচ উদ্দীন টিপু বলেন, ‘বিলে এত পরিমাণ মাছের ঘের কাটার কারণে মধুমতি নদী থেকে কোনো প্রকার পানি বিলে আর আসে না। এ কারণে অনেক জমি বছরের পর বছর পুরোপুরি অনাবাদি থাকছে। এখন আর তিন ফসল হয় না।’ একই ধরনের কথা বলেন ঘাঘার বিলের কৃষক মাসুদ পারভেজ।
লোহাগড়া সরকারি কলেজের কৃষি বিভাগের সাবেক প্রধান কৃষিবিদ ওবায়দুর রহমান সেন্ট বলেন, ‘উন্মুক্ত বিল পরিযায়ী ও দেশীয় পাখির অন্যতম আশ্রয়স্থল। বিলগুলোতে একাধিক ঘের খননের ফলে পাখির নিরাপদ খাদ্য ও আশ্রয়ের সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে পাখির আগমন কমছে, পাশাপাশি হ্রাস পাচ্ছে জলজ প্রাণীর সংখ্যাও।’
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) নড়াইলের সভাপতি শাহ আলম বলেন, ‘উন্মুক্ত জলাশয় কেবল মাছ চাষের জায়গা নয়। ঘের খননের কারণে জমিগুলো ব্যক্তির দখলে চলে যাচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর তাদের অধিকার হারাচ্ছেন।’
নড়াইল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, তিন ফসলি জমিতে ঘের না করার জন্য চাষিদের নিয়মিত নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। তবে জেলার তিনটি উপজেলার ৫৭টি বিলে মোট ৫ হাজার ৩৯১টি মৎস্য ঘের রয়েছে। তিনি আরও জানান, অন্তত ২০টি বিলে অপরিকল্পিতভাবে ঘের খননের কারণে প্রায় ১০ থেকে ১২ হাজার হেক্টর তিন ফসলি জমি দুই ফসলি জমিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া দুই হাজার হেক্টর জমি স্থায়ী জলাবদ্ধতার শিকার হয়েছে।
নড়াইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ আরিফুল রহমান বলেন, ‘কৃষিজমিতে ঘের করতে হলে জমির শ্রেণি পরিবর্তন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে এক শ্রেণির মানুষ আইন অমান্য করে ঘের খনন করে যাচ্ছেন।’
পরিবেশ অধিদপ্তর, নড়াইলের সহকারী পরিচালক আব্দুল মালেক বলেন, ‘আইন অনুযায়ী পাঁচ একরের নিচে ঘের খননের ক্ষেত্রে পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পাঁচ একরের বেশি আয়তনের ঘেরের ক্ষেত্রে অবস্থানগত ছাড়পত্র নেওয়া বাধ্যতামূলক। তবে কেউ এ আইন মানছেন না।’ তিনি আরও বলেন, ‘জলাভূমি সংকুচিত হয়ে আসায় দেশীয় মাছ, শামুক, ঝিনুক, ব্যাঙসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর বিচরণ আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।’
