Published on
:
2 min read
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের বাইশ গজে তিনি এখন টিম ইন্ডিয়ার নির্ভরযোগ্য কান্ডারি। টেস্ট ও একদিনের ক্রিকেটে দলের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেওয়ার পর থেকেই তিনি ছন্দে রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত অধিনায়কত্বের চাপ পড়তে দেননি তাঁর ব্যাটিংয়ে। সদ্য সমাপ্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজ়ের বিরুদ্ধে ODI সিরিজ়ে রান তাড়া করতে নেমে দ্বিশতরান হাঁকিয়ে ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় নাম লিখিয়েছেন শুবমান গিল। তবে মাঠের দুর্দান্ত রেকর্ডের পাশাপাশি মাঠের বাইরে আলোচনায় তাঁর লাইফস্টাইল ও ফ্যাশন সেন্স। সেখানেই চর্চায় তাঁর বাড়ি।
পাঞ্জাবের ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত লাগোয়া এক প্রত্যন্ত এলাকা ফজিলকার জাইমালওয়ালা গ্রামে জন্ম শুবমানের। বাবা লখবিন্দর সিংয়ের হাত ধরে গ্রামের ধুলোমাখা খামারবাড়ি থেকে শুরু হয়েছিল যে ক্রিকেটের পথচলা, তা আজ তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে সাফল্যের শিখরে। বর্তমানে তিনি পরিবার নিয়ে থাকেন চণ্ডীগড়ের এক অভিজাত এলাকায়। সেখানে তৈরি করেছেন চোখধাঁধানো এক রাজপ্রাসাদ, যার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩.২ কোটি টাকা।
শুবমান গিলের বাড়ির বাইরের ছবিEi Samay
রাজকীয় থিমে তৈরি শুবমানের বাড়ি
শুবমানের এই চণ্ডীগড়ের ভিলাটির স্থাপত্যশৈলী অত্যন্ত নজরকাড়া। বাইরে থেকে বাড়িটির মূল কাঠামো সাদা রঙের এবং ছাদের অংশে ব্যবহার করা হয়েছে নেভি ব্লু শেড। ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় রাজকীয় আভিজাত্য এবং আধুনিক মিনিমালিস্ট আর্কিটেকচারের এক নিখুঁত মেলবন্ধন দেখা যায় এখানে। প্রধান ফটকে রয়েছে সূক্ষ্ম নকশা। মূল দরজার ভেতরে পা রাখলেই চোখে পড়ে কাঠের মেঝে, ক্রিম রঙের দেওয়াল এবং মানানসই আলো।
বাংলোর শোওয়ার ঘরটি যেনওকোনো রাজার ঘরের চেয়ে কম নয়। মাঝখানে রয়েছে প্রকাণ্ড কিং-সাইজ় বেড এবং দেওয়ালে সোনালী ফ্রেমের বিশালাকার ভ্যানিটি মিরর। বাড়ির বাইরের অংশে গড়ে তোলা হয়েছে সবুজ বাগান বা লন এরিয়া। সেখানে দেশি-বিদেশি বহু গাছপালা ও ফুল রয়েছে, যেখানে অবসর সময়ে পরিবারের সঙ্গে রোদ পোহাতে ভালোবাসেন গিল।
শুবমান গিলের বাড়ির ভিতরের ছবিEi Samay
বাড়িতে তৈরি করেছেন অত্যাধুনিক জিম
নিজেকে ফিট রাখার কাজে কোনও খামতি রাখেননি গিল। বাড়ির ভিতরেই তৈরি করেছেন বিশ্বমানের জিম। বাড়িতে থাকলে যাতে ফিটনেসে কোনও প্রভাব না পড়ে সেইজন্যই তিনি এই জিম তৈরি করেছেন।
বর্তমানে শুবমান গিলের আর্থিক সাম্রাজ্যও ঈর্ষণীয়। একাধিক মিডিয়া রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। BCCI-এর সর্বোচ্চ গ্রেডের জাতীয় চুক্তি, IPL-এ গুজরাট টাইটান্সের অধিনায়ক হিসেবে মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্র্যান্ডগুলির বিজ্ঞাপনী প্রচার থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা আয় করেন তিনি।
আপনি কি জানেন?
শুবমান গিলের বাবা লখবিন্দর সিং নিজের গ্রামের জমিতেই আস্ত একটি ক্রিকেট পিচ বানিয়েছিলেন এবং শুবমানকে আউট করতে পারলে স্থানীয় বোলারদের ১০০ টাকা পুরস্কার দেওয়ার চ্যালেঞ্জ দিতেন।
একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতিহাসে শুবমান গিল হলেন সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটার, যিনি দ্বিশতরান করার কীর্তি গড়েছেন।
চণ্ডীগড়ের মোহালি স্টেডিয়ামেই শুবমানের পেশাদার ক্রিকেটের বয়সভিত্তিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছিল, যার সূত্র ধরেই তিনি পরবর্তীতে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ও জাতীয় দলে জায়গা পান।
FAQ
শুবমান গিলের জন্মস্থান কোথায়?
শুবমান গিলের জন্ম পাঞ্জাবের ফজিলকা জেলার জাইমালওয়ালা গ্রামে, যা ভারত-পাকিস্তান সীমান্তের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত।
শুবমান গিলের চণ্ডীগড়ের বাড়ির আনুমানিক দাম কত?
চণ্ডীগড়ের অভিজাত এলাকায় অবস্থিত শুনমানের বিলাসবহুল বাংলোটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৩.২ কোটি টাকা।
শুবমান গিলের মোট সম্পত্তির পরিমাণ কত?
বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্ট ও আর্থিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শুবমান গিলের মোট সম্পত্তি ৫০ কোটি টাকারও বেশি।
