কালবেলা · সাধারণ
মাদ্রাসার সিঁড়িতে এক শিশুর নীরবতা: দায় কার?
২৫/১০/২০২৬

সিঁড়ি তো ওঠার জায়গা। অথচ টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার নিচতলার সেই সিঁড়িতে এক ছোট্ট শিশুর জীবনের একটি অধ্যায় যেন নিঃশব্দে নিচে নেমে গেল।
সোমবার, ১৯ অক্টোবর। প্রথম শ্রেণিতে পড়া একটি মেয়েশিশু, যার হাত এখনো বর্ণমালার অক্ষর চিনতে শিখছে, যার কাছে শিক্ষক মানে দ্বিতীয় অভিভাবক। পরিবারের অভিযোগ, সেদিন মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে সে যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। এরপর থেকে শিশুটি আর মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। মা-বাবা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে একটি কথাও বলেনি।
শিশুরা কষ্টের কথা এভাবেই বলে। ভাষা দিয়ে নয়, নীরবতা দিয়ে; কান্না দিয়ে নয়, না-যাওয়ার জেদ দিয়ে। পরে মা-বাবার ধৈর্যভরা জিজ্ঞাসায় সে মুখ খুলেছে। আমার কাছে এই ঘটনার সবচেয়ে বড় আলো সেখানেই। ভয় আর লজ্জার দেয়াল ভেঙে এইটুকু একটি শিশু যে কথা বলতে পেরেছে, তার পেছনে ছিল মা-বাবার কান পেতে শোনার সামর্থ্য। কত শিশুর মা-বাবা এই কান পাতেন না, কত শিশুর নীরবতা চিরকালের নীরবতা হয়ে থেকে যায়, তার হিসাব কে রাখে?
আইনি প্রক্রিয়া এগিয়েছে। শিশুটির বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। অভিযুক্ত শিক্ষক কারাগারে। আদালতে শিশুটির জবানবন্দি রেকর্ড হয়েছে। শনিবার মাদ্রাসা থেকে সিসিটিভি ফুটেজসহ আলামত সংগ্রহ করে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ প্রাথমিকভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে, যদিও তদন্ত এখনো চলছে। অভিযোগ প্রমাণের দায়িত্ব আদালতের; দোষী প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তিরও ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু একটি শিশুর বয়ানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে শোনার দায়িত্বও আমাদের।
বুধবার, ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা জবাব চাইতে মাদ্রাসায় যান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। শিক্ষককে মারধর করা হয়; পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সমাজ যেন দুই ভাগ হয়ে গেছে। কেউ বলছেন, এমন শিক্ষককে এভাবেই শিক্ষা দেওয়া উচিত। কেউ প্রশ্ন তুলছেন, কোমলমতি শিশুদের আদর না করলে পড়াবেন কীভাবে?
দুই পক্ষের যুক্তির পেছনেই আবেগ আছে, কিন্তু নীতি ও নৈতিকতা কোনোটিকেই সমর্থন করে না। একজন বাবার ক্ষোভ মানবিক, তবু রাস্তার বিচার বিচার নয়। মবের হাতে আইন তুলে দিলে আজ যে ক্ষমতাহীন, কাল সে-ই নির্দোষ হয়েও শিকার হতে পারে। আসকের ২০২৫ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মব সহিংসতার অধিকাংশই ঘটেছে রাজনৈতিক ভিন্নমত, ধর্মীয় উগ্রবাদ, গুজব ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে। অন্যদিকে, আদরের অজুহাতে শিশুর শরীরে অনধিকার হস্তক্ষেপ কোনো শিক্ষকতা নয়। শিক্ষকের স্নেহ ফুটে ওঠে ধৈর্যে, মিষ্টি কথায়, পাঠের আনন্দে; নির্জন সিঁড়িতে বা বন্ধ ঘরে শিশুকে একা পেয়ে নয়।
ঘটনার আরেকটি দিকও আছে, যা এড়িয়ে গেলে সত্য অসম্পূর্ণ থাকে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পাল্টা মামলা করে অভিযোগ করেছে, শিশুটির বাবার নেতৃত্বে একটি দল ঢুকে ভাঙচুর চালিয়েছে এবং ১৭ লাখ টাকা ও পাঁচটি মোবাইল ফোন লুট করেছে। বাবা এসব অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি বিচার চাইতে গিয়েছিলেন, মব করতে নয়। একই সঙ্গে তিনি নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিজের পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন। সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ওই মামলায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর। দুটি অভিযোগই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে। আমাদের প্রত্যাশা একটাই: কোনো দোষী যেন ছাড় না পায়, আবার নির্যাতিত শিশুর পরিবারকে যেন ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে না হয়।
এই একটি শিশু সংখ্যার খাতায় একটি ঘরমাত্র; খাতাটি কিন্তু ভয়ংকরভাবে ভারী হয়ে উঠছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই, এই সাত মাসে ৩০৬ জন মেয়েশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে; আগের বছরের একই সময়ে সংখ্যাটি ছিল ১৭৫। বৃদ্ধির হার প্রায় ৭৫ শতাংশ। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজেএফ) ‘বাংলাদেশ শিশু পরিস্থিতি ২০২৫’ প্রতিবেদনে শিশুসংক্রান্ত ১ হাজার ৮৬৭টি নেতিবাচক সংবাদের ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশই ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা। ২০২৫ সালে আসক শিশুদের প্রতি সহিংসতার মোট ১ হাজার ২৪টি ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই নথিভুক্ত হয়েছে ৭১টি ঘটনা, যার মধ্যে ৩৮ জন মেয়েশিশু ও দুজন ছেলেশিশু ধর্ষণের শিকার। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের তথ্য বলছে, জানুয়ারি থেকে এপ্রিল, এই চার মাসে মেয়েশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ৪৭৯টি ঘটনা ঘটেছে।
এ হিসাব শুধু সেটুকুর, যা গণমাধ্যমে এসেছে বা কেউ সাহস করে বলেছে। এমজেএফের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেছেন, ভয় ও নীরবতার কারণে মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা সচরাচর প্রকাশ পায় না; গুরুতর শারীরিক ক্ষতি বা মৃত্যুর মতো ঘটনা না ঘটলে অধিকাংশ বিষয় সামনেই আসে না। সংস্থাটির মতে, অপরাধীর প্রভাবশালী অবস্থানও অনেক সময় ঘটনা গোপন রাখার কারণ। নেত্রকোনার মদনে ১১ বছরের এক শিক্ষার্থীর মামলার এজাহারে অভিযোগ ছিল, অক্টোবর থেকে একাধিকবার তার ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। ঘটনা প্রকাশ পায় ১৮ এপ্রিল, চিকিৎসা পরীক্ষার পর। অর্থাৎ, প্রায় ছয় মাস একটি শিশু একা বয়ে বেড়িয়েছে সেই বোঝা।
এই প্রশ্নটিই আমাদের আলোচনায় সবচেয়ে কম উচ্চারিত। অধিকাংশ নিবন্ধিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি বা পর্ষদ থাকে; সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ নানা পদ-পদবিও থাকে। ভবন, আয়-ব্যয়, নিয়োগ-বদলির আলোচনা যত ঘন হয়, শিশুর নিরাপত্তার আলোচনা কি ততটা হয়? কোনো শিশুর অভিযোগ কি সেই সভার টেবিল পর্যন্ত কখনো পৌঁছায়?
২০০৯ সালের ঐতিহাসিক রায়ের পথ ধরে ২০২৩ সালে হাইকোর্ট সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এমজেএফ বলছে, মাদ্রাসাগুলো সেই নির্দেশনার কার্যকর বাস্তবায়নের বাইরেই থেকে গেছে। শাহীন আনামের ভাষ্য, মাদ্রাসাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, তাই হাইকোর্টের রায়ের বাইরে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
সম্প্রতি কওমি মাদ্রাসার শীর্ষ সমন্বয়ক সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া ছয়টি বোর্ড ও অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে: শাস্তির জন্য প্রহার নিষিদ্ধ, প্রতিটি মাদ্রাসায় ছাত্রছাত্রী-সুরক্ষা কমিটি, হটলাইন, অভিযোগ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে তদন্ত এবং কমিটি না থাকলে বা অভিযোগ উপেক্ষা করলে অধিভুক্তি স্থগিত বা বাতিলের হুঁশিয়ারি। সংস্থাটি এ কথাও বলেছে, প্রকৃত অপরাধীকে কোনো প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তাদের এই বক্তব্যও ফেলনা নয় যে, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার দায় পুরো মাদ্রাসাশিক্ষা এবং লাখো শিক্ষার্থী-শিক্ষকের ওপর চাপানো সংগত নয়। ছয় বোর্ডের অধীনে ৫০ হাজারেরও বেশি কওমি মাদ্রাসা নিবন্ধিত, তাই এই নির্দেশনা স্বাগত জানানোর মতো পদক্ষেপ। তবে বোর্ডের এক সদস্য জানিয়েছেন, সুরক্ষার বিষয়টি আগে থেকেই বিভিন্ন কমিটির মাধ্যমে ছিল, কেবল ‘সুরক্ষা কমিটি’ নামটি নতুন করে ব্যবহার করা হয়েছে। তাহলে প্রশ্ন থেকে যায়, ব্যবস্থা যদি আগেই থাকত, তবে একের পর এক ঘটনা কেন সামনে আসছে? নাম বদলালে শিশু নিরাপদ হয় না; নিরাপদ হয় তখন, যখন কমিটির প্রতিটি সদস্য জানেন, ব্যর্থ হলে তাদেরও জবাব দিতে হবে।
কেউ কেউ প্রশ্ন তোলেন, ২০২৪ সাল থেকে চলা রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে কোনো মহল কি মাদ্রাসাশিক্ষাকে লক্ষ্য করে সংকট তৈরি করছে? প্রমাণ ছাড়া এমন সন্দেহ কারও ঘাড়ে চাপানো যায় না, আর তদন্ত ছাড়া তা নিশ্চিত করাও সম্ভব নয়। এটুকু অবশ্য বলা যায়, অস্থির সময়ে নজরদারি শিথিল হয়, গুজব ডালপালা মেলে, আর ষড়যন্ত্রতত্ত্ব অনেক সময় আসল ব্যর্থতাকে আড়াল করে। ২০১৯ সালেই এএফপির এক প্রতিবেদনে মানবাধিকারকর্মীরা বলেছিলেন, মাদ্রাসায় নির্যাতনের প্রকাশিত ঘটনা হিমশৈলের চূড়ামাত্র। অর্থাৎ, সমস্যার শিকড় আরও গভীরে: শিক্ষক নিয়োগে চরিত্র যাচাইয়ের ঘাটতি, প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব, তদারকির দুর্বলতা এবং অভিভাবকদের অনেকের উদাসীনতা।
এখানে একটি নৈতিক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। রাষ্ট্র কি তার শিক্ষাব্যবস্থায় শিশুকে যৌন নিপীড়ন ও শারীরিক নির্যাতন থেকে রক্ষা করতে পেরেছে? পেরেছে কি দায়িত্ববোধসম্পন্ন, প্রশিক্ষিত শিক্ষক তৈরি করতে? ২০১১ সালে সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শারীরিক ও মানসিক শাস্তি নিষিদ্ধ করলেও মাদ্রাসার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে গণমাধ্যমে বহুবার প্রশ্ন উঠেছে। হাইকোর্টের নির্দেশনা মাদ্রাসায় বাস্তবায়িত হয়নি বলে এমজেএফ বলছে, আর যৌন হয়রানি প্রতিরোধের আইনটিও এখনো সংসদে প্রক্রিয়াধীন। সাম্প্রতিক সুরক্ষা-নির্দেশনা এসেছে কওমি বোর্ডের পক্ষ থেকে; সেটিও ঘটনার পরে, রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে নয়।
উল্টো প্রশ্নটিও সমান জরুরি: একজন ক্ষুব্ধ অভিভাবক যাতে শিক্ষকের গায়ে হাত না তোলেন, আইন নিজের হাতে তুলে না নেন, রাষ্ট্র কি সেই আস্থা তৈরি করতে পেরেছে? যে বাবা মনে করেন, থানা-আদালত তার মেয়ের ঘটনাকে গুরুত্ব দেবে না কিংবা প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে অভিযোগ চাপা পড়ে যাবে, তিনি দ্রুত ও দৃশ্যমান বিচারের আশায় নিজেই সিদ্ধান্ত নিতে চান। ফলে অভিভাবকের এই আচরণ কখনোই সমর্থনযোগ্য নয়, কিন্তু এটি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থারও লক্ষণ। বিচারব্যবস্থা যত দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য হবে, রাস্তার বিচারের জায়গা তত সংকুচিত হবে। আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা অনেক সময় আইনের ওপর ভরসা হারানোরই ফল। এই সত্যটি রাষ্ট্রকে স্বীকার করতে হবে।
প্রথমত, শিশুটির বিচার হতে হবে দ্রুত ও শিশুবান্ধব পরিবেশে; তার পরিচয়ের গোপনীয়তা এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, কওমি-আলিয়া, সরকারি-বেসরকারি নির্বিশেষে সব মাদ্রাসায় হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে হবে এবং তাতে অভিভাবক ও নারী প্রতিনিধি রাখতে হবে। তৃতীয়ত, শিক্ষক নিয়োগের আগে চরিত্র ও অতীত যাচাই বাধ্যতামূলক করতে হবে; শিশুকে একা নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া এড়ানোর কঠোর নীতি থাকতে হবে। চতুর্থত, শিশুদের শেখাতে হবে, তাদের শরীর তাদের নিজের; কোনো স্পর্শ অস্বস্তিকর লাগলে ‘না’ বলা এবং বিশ্বস্ত কাউকে জানানো মোটেই দোষের নয়। শিশুসহায়তা হেল্পলাইন ১০৯৮ সম্পর্কে সচেতনতাও বাড়াতে হবে। পঞ্চমত, অভিযোগ পেয়েও যারা চুপ থাকবেন, তিনি কমিটির সভাপতি হোন বা সম্পাদক, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
আমরা যারা বড়, তাদের জন্য সেই সিঁড়ি একটি আয়না। সেখানে আমাদের অসাবধানতা, উদাসীনতা, ভয়ে চুপ থাকা আর ক্ষোভে আইন হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতা, সবই ধরা পড়ে। মাদ্রাসা হোক বা স্কুল, শিশুর কাছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হওয়া উচিত নিরাপদ আশ্রয়, যেখানে সে অক্ষরের সঙ্গে শেখে বিশ্বাসও। যে শিশুটি সেদিন সিঁড়িতে নীরব হয়ে গিয়েছিল, আমরা কি তাকে আবার নির্ভয়ে কথা বলার, হাসার, শ্রেণিকক্ষে ফেরার সাহস ফিরিয়ে দিতে পারব? নাকি আরেকটি শিশুর নীরবতা ভাঙার অপেক্ষায় কেবল সংখ্যা গুনে যাব?
লেখক- মানবাধিকারকর্মী, গবেষক ও পর্যবেক্ষক
মূল প্রতিবেদনে যান ↗