October 22, 2026, 10:16 pm
পিএইচপি কী, এটি ঘিরে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সংকট সৃষ্টি হয়েছে কেন
Reporter Name
- Update Time : Thursday, October 22, 2026
- 17 Time View
প্রযুক্তি ডেস্ক: বিশ্বের সিংহভাগ ওয়েবসাইটের মূল চালিকাশক্তি বা প্রোগ্রামিং ভাষা হলো পিএইচপি। ইন্টারনেট দুনিয়ার ব্যাকএন্ড বা নেপথ্য কার্যক্রমে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এই ভাষাটির ওপর ভিত্তি করেই উইকিপিডিয়া, বিভিন্ন ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এবং ওয়ার্ডপ্রেসের মতো জনপ্রিয় কন্টেন্ট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরিচালিত হয়ে আসছে। সার্ভারের তথ্য সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্রাউজারে তা প্রদর্শন করার কাজটি মূলত পিএইচপির মাধ্যমেই সম্পন্ন হয়। বর্তমান ডিজিটাল অবকাঠামোয় কোটি কোটি ওয়েবসাইট এই প্রযুক্তির ওপর সরাসরি নির্ভরশীল রয়েছে।
সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় পিএইচপির মূল কোডে এক দশক ধরে লুকিয়ে থাকা দুটি মারাত্মক নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত করেছেন গবেষকেরা। ক্লাউড নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ এবং ক্যালিফের গবেষকরা যৌথভাবে এই ত্রুটিগুলো খুঁজে বের করেন, যা গবেষক মহলে পিএইচপিটুশেল নামে পরিচিতি পেয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উন্নত অ্যালগরিদম ও মডেল ব্যবহার করে কোটি কোটি লাইনের জটিল কোড অত্যন্ত দ্রুত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়েছে। এর ফলেই মানুষের চোখের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে লুকিয়ে থাকা এই মারাত্মক দুর্বলতা প্রকাশ্যে চলে আসে।
শনাক্ত হওয়া এই ত্রুটির সুযোগ নিয়ে সাইবার অপরাধীরা কোনো ধরনের পাসওয়ার্ড বা ব্যবহারকারী যাচাইকরণ ছাড়াই সার্ভারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম। এর ফলে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ওয়েবসাইট বর্তমানে চরম সাইবার ঝূঁকির মুখে রয়েছে এবং নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এই ত্রুটির খবর প্রকাশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লাখ লাখ হ্যাকিংয়ের চেষ্টা শনাক্ত করার কথা জানিয়েছে ক্লাউডফ্লেয়ার। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এবং রাষ্ট্রপ্রধানরা ইতিমধ্যেই জরুরি সতর্কতা ও নির্দেশনা জারি করেছেন।
মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা অবিলম্বে পিএইচপির জরুরি আপডেট বা প্যাচ ইনস্টল করার নির্দেশ দিয়েছে এবং দ্রুত তা সম্ভব না হলে সরকারি ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বলেছে। জাপানের শীর্ষ নেতৃত্বও বাণিজ্যিক ও সরকারি ওয়েবসাইট পরীক্ষা করে প্রয়োজনবোধে তা বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন, ফিনল্যান্ড সরকার এবং যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন সংস্থাসহ বাংলাদেশ ব্যাংকও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে তাদের ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রেখেছে। এই সংকট এড়াতে ওয়েবসাইট মালিকদের সাধারণ আপডেট বা প্লাগইন পরিবর্তনের বদলে সরাসরি পিএইচপি সার্ভারে অফিসিয়াল ইমার্জেন্সি প্যাচ ইনস্টল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
More News Of This Category
© All rights reserved © dainikkhobor.com


